• শিরোনাম

    মহেশখালীতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ গাইড বই

    বার্তা পরিবেশক | ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১:০২ অপরাহ্ণ

    মহেশখালীতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ গাইড বই

    কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ গাইড বই। এ ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই বলে জানান স্থানীয় সুশীল সমাজ। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লাইব্ররী গুলো নিষিদ্ধ বই বিক্রি করে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে অবৈধ গাইড বই বিক্রি বন্ধ করা না হলে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ চরম ভাবে বাঁধার মুখে পড়বে।

    শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটাতে ২০১০ সালে সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি চালু করা হয়। সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে এনসিটিবি’র অনুমোদন ব্যতিত যে কোন ধরণের নোট, গাইড, সহায়ক গ্রামারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ মহেশখালী উপজেলার লাইব্রেরী গুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব নিষিদ্ধ গাইড বই।

    জানা যায়, মহেশখালী উপজেলায় ছোট বড় প্রায় ৩০টির মত লাইব্রেরী রয়েছে। মহেশখালী পৌরসভার আসিফ লাইব্রেরী, একাত্তর লাইব্রেরী, হাশেম লাইব্রেরী, বুক হ্যাভেন লাইব্রেরী, নতুনবাজারের ন্যাশনাল লাইব্রেরী, পানিরছড়ার আদিবা লাইব্রেরী সহ মহেশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ২৫/৩০টি লাইব্রেরীতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন কোম্পানী কর্তৃক প্রকাশিত ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত নিষিদ্ধ গাইড বই। এসময় উক্ত লাইব্রেরী গুলো থেকে শিক্ষার্থীদের গাইড বই ক্রয় করতে দেখা যায়। গাইড বই কিনতে আসা একাধিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের স্কুলের শ্রেণী শিক্ষক তাদের লেকচার গাইড ক্রয়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছে। তাই তারা বই কিনতে আসছে। গাইড বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীরা অবাক হয়ে যান। তাদের স্কুলে গাইড বই নিষিদ্ধের বিষয়ে কখনো তাদের অবগত করা হয়নি। বরং গাইড বই কিনতে উৎসাহিত করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রাইমারী ও মাধ্যমিক স্কুলের কিছু শিক্ষকদের সাথে লাইব্রেরী মালিকদের কমিশন ভিত্তিক চুক্তি থাকে। তাই তারা স্কুলে শিক্ষার্থীদের গাইড বই ক্রয়ের জন্য চাপ দিয়ে পছন্দনীয় দোকানে পাঠায়। এছাড়াও বেশির ভাগ লাইব্রেরীর মালিক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বলে জানা যায়।

    এদিকে খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, একটি সমিতির মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে এসব অবৈধ গাইড বই একদামে বিক্রি করা হচ্ছে। কোন লাইব্রেরী নির্দ্দিষ্ট মূল্য থেকে কমদামে বিক্রি করলে তাকে সমিতি কর্তৃক জরিমানা করা হয়। যার কারণে সমিতির চাপের মুখে অনেক লাইব্রেরী মালিকরা চড়াদামে নিষিদ্ধ বই বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছে। কমিশন দিয়ে বই বিক্রি করায় সমিতি কর্তৃক ইতিপূর্বে হাশেম লাইব্রেরী ও বর্ণমালা লাইব্রেরীকে জরিমানা করা হয়েছে বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়।

    নিষিদ্ধ বই সমিতির মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে কেন বিক্রি করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আদিবা লাইব্রেরীর মালিক মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, সমিতির কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবগত নন। লাইব্রেরী থেকে নেয়া জরিমানার টাকা কে নেন সেই বিষয়ে তিনি জানেননা। তবে নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রি অপরাধ কিনা সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ফোন কেটে দেন।

    এই ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু নোমান মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত গাইড বইয়ের ব্যবহার নিষিদ্ধ? এই ব্যাপারে শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া আছে। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাইড বই ব্যবহার করছে এমন তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জামিরুল ইসলাম বলেন, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ গাইড বই বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং উপজেলায় দ্রুত এসব গাইড বই বিক্রি বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পথ সুগম করা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ