• শিরোনাম

    মহেশখালীতে এবার সকালে দলে নাম লিখিয়ে বিকালে সভাপতি নির্বাচিত

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

    মহেশখালীতে এবার সকালে দলে নাম লিখিয়ে বিকালে সভাপতি নির্বাচিত

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চলমান তৃণমূল সম্মেলনে এবার সকালে দলের নাম লিখিয়ে বিকালেই সভাপতির পদ দখল করেছেন এক জামায়াত-শিবির পরিবারের সন্তান। নির্বাচিত সভাপতি হচ্ছেন দন্ডিত যুদ্ধাপরাধী প্রয়াত জামায়াত আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের দেহরক্ষী কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের হোয়ানক ইউনিয়নের বাসিন্দা দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার আকতার হামিদের চাচাত ভাই। শিবির ক্যাডার আকতার হামিদ ৩০ বছরের দন্ড প্রাপ্ত এবং ৩৫ টি মামলার পলাতক আসামী।

    ভোট কেন্দ্র ঘিরে জামায়াত-শিবির পরিবারটির সদস্যরা প্রচন্ড প্রভাব খাটিয়ে ‘কৌশলী’ নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতির পদটি দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন ঘটনাটিও ঘটেছে কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের হোয়ানক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কমিটি গঠনের নির্বাচনে। রবিবার এ কমিটি গঠিত হয়। এর আগে ৩০ অক্টোবর একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ‘কৌশলী’ নির্বাচনে এক রাজাকার পুত্র ওয়ার্ড সভাপতি এবং বিএনপি পরিবারের অপর এক সন্তান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

    এসব বিষয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেছেন, দলে কৌশলী নির্বাচনের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারি জামায়াত-শিবির, বিএনপি ও ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে যেসব ইয়াবা কারবারি, জামায়াত-শিবির ও বিএনপি’র লোকজন কৌশলে দলে ঢুকে পড়েছে তাদের কমিটিও বাতিল করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
    দ্বীপের হোয়ানক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জাফর আলম জফুর এ প্রসঙ্গে বলেন-‘ আমার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডটি জামায়াত-শিবির পরিবারটির প্রভাবাধীন এলাকা হওয়ায় এ রকম ঘটনাটি ঘটেছে। যিনি সভাপতি হয়েছেন তাকে দলে নতুন তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি নির্বাচন না করারই কথা কিন্তু আকস্মিকভাবে প্রার্থী হওয়ায় আর করার কিছুই ছিলনা।’

    মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর জানিয়েছেন-‘ হোয়ানক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সভাপতি জামায়াত পরিবারের সন্তান ফেরদৌস ওয়াহিদ শামীমের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। তদুপরি তার পিতা মোহাম্মদ ফেরদৌসের নামেও হত্যা, অপহরণ, মারামারি সহ অর্ধ ডজন মামলা রয়েছে।’

    ওসি আরো জানান, ৩০ বছরের দন্ডিত পলাতক আসামী এবং জামায়াত নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের দেহরক্ষী হিসাবে পরিচিত শিবির ক্যাডার আকতার হামিদ এ পরিবারেরই সন্তান। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচিত সভাপতি শামীম সহ পরিবারের সদস্য ও আত্বীয়য়-স্বজন মিলে একদিনেই ৬৪ জন দলের কাউন্সিলার হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়ে ভোটে অংশ নেন। এসব কাউন্সিলারদের বেশীর ভাগই আগে দলের সাথে কোন সম্পর্ক ছিলনা।

    ওয়ার্ডের প্রথম কাউন্সিলারের সংখ্যা ১৫১ জন হলেও পরে ৬৪ জন বাড়িয়ে ২১৫ জন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত-শিবির পরিবারের চাপপ্রয়োগের মাধ্যমেই নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছে। এদিকে নির্বাচিত সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ শামীম তিনি এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ