• শিরোনাম

    ‘এ সময় এক ফোটা পানি চেয়েছিলাম আমি ঃ পানির বদলে আমাকে অকথ্য নির্যাতন করে পশুর দল’

    মহেশখালীর তরুণী গনধর্ষণের ঘটনায় ২ ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৪ জুলাই ২০১৯ | ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

    মহেশখালীর তরুণী গনধর্ষণের ঘটনায় ২ ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

    কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপে ১৪ বখাটের হাতে তরুণী ধর্ষণের জঘন্য ঘটনায় স্থানীয় ২ ইউপি মেম্বারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে জড়িত ১৪ ধর্ষককে রক্ষার জন্য গ্রেফতার হওয়া মেম্বারদ্বয় চেষ্টা করছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া মেম্বারদ্বয় হচ্ছেন যথাক্রমে লিয়াকত আলী ও অপরজন খতিজা বেগম। লিয়াকত মেম্বার স্থানীয় তৃণমূল বিএনপির একজন নেতা এবং খতিজা মেম্বারও বিএনপি সমর্থিত।
    শুক্রবার রাতে এ ঘটনার মামলা দায়েরের পর পরই ইউপি মেম্বারদ্বয় কে গ্রেফতার করা হয়।দুই ইউপি মেম্বার সহ গ্রেফতার হওয়া ৩ জনকে গতকাল শনিবার আদালতে চালান দিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিম্যান্ড চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সাপ্তাহিক ছুটির কারনে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আসামীদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
    চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি নিয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন-‘অপরাধ জনক এতবড় একটি ঘটনা বেমালুম চাপা দিতে চেষ্টা করেছেন দুই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তাই তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’ পুলিশ সুপার বলেন, বিভিন্ন থানায় ইয়াবা কারবার সহ ভয়াল অপরাধের ঘটনায়ও এক শ্রেণীর জনপ্রতিনিধি নামধারি সহ কতিপয় রাজনীতিক লেবাসধারীরা আপষ মীমাংসার নামে আইনের চলমান স্বাভাবিক গতিধারাকে ব্যাহত করার অভিযোগ রয়েছে। মহেশখালীর দুই জনপ্রতিনিধিকে মামলায় আসামী করে গ্রেফতারের ঘটনার মাধ্যমে তিনি আশাবাদী এবার কিছুটা হলেও এরকম অস্বাভাবিক তদবিরের ঘটনা হ্রাস পাবে।
    অপরদিকে গনধর্ষণের ঘটনাটি ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলের পূর্ণিমা রাণীর ঘটনাকেও হার মানিয়েছে। একই রাতে একে একে ১৪ জন স্থানীয় বখাটে এই তরুণীর উপর চালিয়েছে নির্মম পৈশাচিকতা। তার কিঞ্চিৎ বিবরণ দিয়ে হতভাগি তরুণীর পালক মা মাতারবাড়ি ইউনিয়নের নারী মেম্বার শামীমা বেগম জানিয়েছেন-‘মেয়েটি প্রথমে আমাকে ঘটনার কিছুই জানায়নি। একদিন পর সে বাথরুমে গিয়েই মরণ চীৎকার দেয়। আমি দৌঁড়ে এগিয়ে যাই। জানতে চাইতেই সে বলে, আমি ব্যথার কারনে বসতে পারছি না। তখনই ঘটনার কথা জানতে পারি।’
    পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী কালারমারছড়ার নারী মেম্বার খতিজা বেগম আপষ মীমাংসার কথা বলে শামীমার ঘরে গেলে ঘটনাটি খোলাসা হয়ে পড়ে। খতিজা মেম্বার এসময় ধর্ষিতা তরুণীকে ঘটনাটি মিমাংসার প্রস্তাব দিলে তরুনী রাজি হচ্ছিল না। এসময় তরুণীকে ধমকিয়ে খতিজা বলেন, ‘তুমি (তরুণী) এমনিতেই খারাপ মেয়ে। তুমি কেন এতগুলো ছেলেকে নিয়ে পাহাড়ে গেছ ?’ খতিজা তরুণীকে নিয়ে কিছুতেই থানায় না যাবার জন্য ধমকি দিযে আসেন শামীমাকে।
    এদিকে ঘটনার পর ৫ দিন ধরে শামীমার ঘরে এক প্রকার অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ধর্ষিতা তরুণীর মুখে ভয়াল বিবরণ শুনে পুলিশ এবং হাসপাতালে চিকিৎসকদের চোখেও পানি ঝরেছে। তরুণী বলছিলেন-‘আমাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হচ্ছিল। বেঁধে ফেলা হয়েছিল আমার হাত দু’টি। হায়েনাদের অত্যাচারের চোটে আমার গলার পানি বার বার শুকিয়ে যায়। এ সময় এক ফোটা পানি চেয়েছিলাম আমি। পানির বদলে আমাকে অকথ্য নির্যাতন করে পশুর দল। এমনকি পানি না দিয়ে বরং প্র¯্রাব খাইয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়েছিল বদমাইশরা।’
    শুক্রবার রাতে মহেশখালী থানায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর গনধর্ষণের ঘটনাটির ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, গনধর্ষণের ঘটনাটি নিয়ে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ধর্ষিতা তরুণী বাদী হয়েছেন মামলাটিতে। মামলায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য আলামত নষ্ট করার অপচেষ্টা সহ অন্যান্য অভিযোগে ইউপি মেম্বারদ্বয় সহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অন্যান্যদের অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। মামলার পরই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় জড়িত ইউপি মেম্বার লিয়াকত আলী ও খতিজা বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সাথে মনু মিয়া নামের একজন ধর্ষককেও গ্রেফতার করা হয়। মনু মিয়া পুলিশের কাছে ঘটনার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন।
    স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর টানা ৫ দিন ধরে দুই মেম্বার ধর্ষকদের নিয়ে বৈঠকের পর বৈঠক করেছে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য। কালামারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান জানিয়েছেন-‘গ্রেফতার হওয়া আমার পরিষদের মেম্বার লিয়াকত আলী স্থানীয় বিএনপি’র তৃণমূল নেতা এবং খতিজা বেগমও বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত।’ তবে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টার কথা অস্বীকার করেছেন। মেম্বারদ্বয় গনধর্ষণের ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেছেন-‘আমরা এলাকার বদনাম ঘুচাতেই ঘটনার কথা প্রকাশ করিনি।’
    মহেশখালী থানা পুলিশ গতকাল ধর্ষিতা তরুণীকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আংশিক ডাক্তারি পরীক্ষার পর আবার দ্বীপের থানায় নিয়ে গেছেন। আজ রবিবার তরুণীর বাদবাকি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। তরুণীর সাথে রয়েছেন মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ি ইউনিয়নের শামীমা বেগম নামের আরেক নারী ইউপি মেম্বার। নারী ইউপি মেম্বার শামীমা বেগম ধর্ষিতা তরুণীর পালক মা। গ্রেফতার হওয়া ইউপি মেম্বারদ্বয় নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে শামীমা বেগম মেম্বারের ঘরেই ধর্ষণের পর ৫ দিন ধরে তরুণীকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। ####

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ