• শিরোনাম

    বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের জরুরী সহায়তা দিতে জেলা প্রশাসকের চিঠি

    মাঝি-মাল্লার ভরসা এখন দাদনের টাকা

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ২২ মে ২০১৯ | ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

    মাঝি-মাল্লার ভরসা এখন দাদনের টাকা

    জাফর আলম পেশায় একজন জেলে। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সাগরে মাছ আহরণ তার পেশা। অন্য কোন পেশার কাজ তার জানা নেই। মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের মুদির ছড়ার বাসিন্দা এই জেলের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ তাই বঙ্গোপসাগর।
    বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণ করতে যাওয়া মানেই পরিবার ও নিজের জীবন সচল থাকা। এর বিপরীত হলেই পোহাতে হয় অবর্ণনীয় কষ্ট। বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা তাই জাফর আলমের জন্য নিয়ে এসেছে অশনি সংকেত।
    পাঁচ বছর আগে মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে জেলেদের দেয়া হয় কার্ড। প্রকৃত জেলে শনাক্ত করতে দেয়া এই কার্ডের জন্য জাফর আলমকে কম দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। তিন বছর তদন্ত শেষেই তার হাতে দেয়া হয় এই কার্ড। মাঝ সাগরেও নিজেকে জেলে প্রমাণ করতে তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। এরপরই হাতে পায় কাঙ্খিত এই কার্ড।
    কিন্তু সেই কার্ড জাফর আলমকে জেলের পরিচিতি ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। ইতঃপূর্বে ইলিশের জাটকা নিধনের নিষেধাজ্ঞাকালে অনেকে ভিজিডি কার্ড পেলেও জাফর আলমের ভাগ্যে তাও জোটেনি। জেলে হলেও তখন ধার করেই সচল রাখতে হয় সংসারের চাকা। কিন্তু এতো দীর্ঘ সময়ের নিষেধাজ্ঞা কবলে পড়তে হয়নি তাকে।
    গতকাল ২১ মে বিকেলে শহরের নুনিয়া ছড়াস্থ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জাফর আলম জানান, অন্তত ঈদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও কিছু কিনতে পারতাম। এখন সেটিও সম্ভব নয়। এখন আমাকে বহদ্দারের ( ট্রলার মালিক) দাদনের টাকার উপর নির্ভর করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে সেই টাকা পরিশোধ করতে হবে। আমার মতো সব জেলেই বর্তমানে এই অবস্থা। বহদ্দারের কাছ থেকে দাদনের টাকা নিয়েই দীর্ঘ ৬৫ দিন আমাদের সংসার চালাতে হবে। আমার প্রত্যাশা একটিই অন্তত এবার হলেও একটি ভিজিডি কার্ড যেনো আমাকে দেয়া হয়।
    জাফর আলমের মতো একই অবস্থা কক্সবাজার জেলার ৫০ হাজারের অধিক মাঝি-মাল্লার। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। এখন তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাড়িয়েছে দাদনের টাকা। তাদের ভাষায় কোম্পানির (বোট মালিক) কাছ থেকে দাদন (অগ্রিম) নিয়েই দুই মাসের অধিক সময় সংসার চালাতে হবে।
    কয়েকজন জেলে জানালেন, কোম্পানি তাদের প্রত্যেককে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে পারেন। এই টাকা নেয়ার মানেই কোম্পানির কাছে আবদ্ধ হয়ে যাওয়া। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও দাদন নেয়া কোম্পানির বোটেই তাঁদের কাজ করতে হবে। যার বেতন হবে খুবই কম।
    দাদন না নিয়েও কোন উপায় নেই। সংসার চালু রাখতে হলে এই টাকা নিতেই হবে। বিনিময়ে দুই মাস পর দিতে হবে কঠোর শ্রম। তারপর কোম্পানি সেই টাকা তাদের বেতন থেকে কেটে নেবে। প্রত্যেক মাঝি-মাল্লা সারাবছরের অন্তত চার ভাগের এক ভাগ টাকা দাদন হিসেবে নেবে বলে জানালেন বেশ কয়েকজন মাঝি-মাল্লা।
    এদিকে, কক্সবাজার জেলার মাঝি-মাল্লাদের দুরাবস্থার বিষয় চিন্তা করে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন ইতোমধ্যে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। যে চিঠিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের ভিজিডি কার্ডের আওতায় প্রত্যেককে ৩০ কেজি চালের পাশাপাশি নগদ ৫ হাজার টাকা দেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ