• শিরোনাম

    * উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের সমাবেশে জেলা প্রশাসকের আহ্বান * ইয়াবা ব্যবসায় টাকা লগ্নিকারিদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে-বিজিবি অধিনায়ক

    মাদকের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলুন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া ও টেকনাফ | ২৭ জুন ২০১৯ | ১:২৫ পূর্বাহ্ণ

    মাদকের বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলুন

    কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। মাদক ব্যবসায়ী যতবড় নেতা হোকনা কেন প্রশাসন কারো প্রতি নমনীয় হবে না। তিনি এলাকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে আধাঘন্টা মাদক বিরোধী আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের উদ্ধুদ্ধ করার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওকে নিদের্শ দেন।
    আন্তর্জাতিক মাদক প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ফিঃ বছর জেলা শহরে নানা কর্মসুচি নিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। কিন্তু এবারই প্রথমবারের মত মাদকের সা¤্রাজ্য খ্যাত কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ও উখিয়ায় গতকাল বুধবার মাদক বিরোধী র‌্যালী ও সমাবেশ সহ নানা কর্মসুচি পালন করা হয়েছে। গতকালের দিবসটি উপলক্ষে জেলা শহরের দিবসের সবধরণের কর্মসূচি সীমান্তের এ দুই উপজেলাকে ঘিরে পালিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১১ টায় টেকনাফ উপজেলা প্রাঙ্গন ও দুপুরে উখিয়ার সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন।
    সারাদেশে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে যে আন্দোলন চলছে তারই অংশ হিসেবে টেকনাফ এবং উখিয়ার জনগনকে সচেতন করার জন্যই দিনব্যাপি দিবসটির কর্মসুচি পালন করা হয়। দুই উপজেলার সমাবেশে উপস্থিত থেকে, সমাবেশের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক জনাব মো: কামাল হোসেন। পাশাপাশি সভা দু’টিতে টেকনাফ ও উখিয়াবাসীকে মাদক হতে দূরে থাকা, মাদক/ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেওয়া এবং ইয়াবা কারাবারীদের বয়কট করার জন্য শপথও গ্রহণ করান।
    সমাবেশে স্থানীয় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশে ইয়াবা রুট হিসেবে পরিচিত টেকনাফ ও উখিয়া। ইয়াবার প্রধান রুট টেকনাফের রন্ধ্র্রে রন্ধ্র্রে ইয়াবা প্রবেশ করছে। টেকনাফে গুলশান বনানীর মত ঘরবাড়ী দেখা যায়। টেকনাফের অলিগলিতে এলিয়েন, হারিয়ার, ল্যান্ড ক্রুজারের মত দামীদামী ব্যান্ডের গাড়ি দেখা যেত। টেকনাফের ইয়াবা বাংলাদেশকে গ্রাস করেছে। গ্রাস করেছে আমার ভাইকে, বোনকে, আমার ছেলেকে। ইয়াবার জন্য বোন হারিয়েছে তার স্বামীকে, মা হারিয়েছে তার ছেলেকে, ভাই হারিয়েছে তার প্রিয় ভাইকে। টমটমের চালক থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষসহ ধর্মীয় শিক্ষা গুরু ইমাম মোয়াজ্জিম সকলে আজ ইয়াবা কারবারী। কুলি, মেথর, চামার ইয়াবা ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছে। তরুন সমাজ আজ নেশাগ্রস্ত হতে যাচ্ছে।
    কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ইয়াবার গেইটওয়ে হিসাবে পরিচিত সীমান্ত উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফের দু’টি পৃথক সমাবেশেই উপস্থিতিদের হাত তুলে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। সমাবেশে সীমান্তবাসীরা শপথ নিয়েছেন-‘আমরা আর মাদকের সাথে জড়িত হব না। মাদক কারবারি কাউকে সহযোগিতা করব না। মাদক কারবারিদের সামাজিকভাবে বয়কট করব।’
    টেকনাফের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, যারা মাদক কারবারে জড়িত তাদের কোন ধরনের ছাড় নেই, তারা ধরা পড়বেই। মাদক কারবারিদের সাথে সামাজিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করুন। তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন এবং তাদের ব্যাপারে আপনারা আমাদের তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহযোগীতা করুন। তিনি আরো বলেন, মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক কারবারিরা অর্থ, এয়ারকন্ডিশনসহ বিভিন্ন ধরনের অনুদান প্রত্যাহার করুন। এছাড়া যেসব জনপ্রতিনিধি ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িত থেকে দীর্ঘদিন এলাকায় অনুপস্থিত তাদের বরখাস্থ করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একদিন আধা ঘন্টা মাদকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ করেন।
    উপজেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর আয়োজিত ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাদক বিরোধী সমাবেশে টেকনাফের ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খাঁন বলেন, বিজিবির যে জনবল রয়েছে তা দিয়ে ৭৪ কিলোমিটার সীমান্ত নিছিদ্্র করা সম্ভব নয়। তবে স্থানীয়রা সহযোগীতা করলে সীমান্ত নিছিদ্র করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই জন্য তিনি সহযোগীতার আহবান জানান। তিনি আরো বলেন একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসাবে আমার খারাপ লাগে যখন আমার দেশের একটি প্রশিক্ষিত বাহিনীর গুলি আমার দেশের নাগরিকের বুকে চলে। আমি বিশ্বাস করি যে গুলি করে আমার দেশের মানুষকে মেরে সীমান্তে ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করা যাবে না। ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করতে হলে সবার সহযোগীতা লাগবে, সবার সহযোগীতায় ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করা যাবে। যারা ইয়াবা ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা লগ্নি করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলী। তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে মাদকের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। মাদক একটি পরিবারকে গ্রাস করার পর একটি পাড়া এবং একটি গ্রামকে গ্রাস করে। এভাবেই একদিন পুরো দেশকে গ্রাস করে সমাজকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। তাই এখন থেকেই আমরা সবাই এগিয়ে যাব মাদককে সমুলে ধ্বংস করার কাজে।
    অনুষ্টানে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, টেকনাফে এক সময় সুগন্ধি বাতাস বইত, সেই টেকনাফে এখন ইয়াবার গন্ধ বইছে। স্কুল ছাত্র থেকে শুরু করে এখানকার কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ ও জনপ্রতিনিধি সবাই ইয়াবা নিয়ে ব্যস্ত।
    সভায় জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: আদিবুল ইসলাম, সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আলী, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম, টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজী মোঃ ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কক্সবাজার সহকারী পরিচালক সৌমেন মন্ডল, কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার মোহাম্মদ সোহেল রানা। সভা সঞ্চালনা করেন টেকনাফ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক সন্তোষ কুমার শীল।
    অপরদিকে বুধবার বিকালে উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও মাদক বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এক সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, মাদকের ব্যাপারে সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল অত্যন্ত সিরিয়াস। যে কোন ভাবেই মাদকের ছোবল নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
    জেলা প্রশাসক সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-‘আমি আজ সকালে কক্সবাজার থেকে উখিয়া আসার পথে দেখেছি ফসলী জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এভাবে ফসলী জমি বিনষ্ট করা যাবে না। ফসলী জমিতে দালান নির্মাণ ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনের পরিপন্থি।’ তিনি বলেন, আইনে বলা আছে যদি কারো বেশি প্রয়োজন হয় যে ফসলী জমিতে বাড়ী নির্মাণ করা ছাড়া তার কোন বিকল্প নাই। তাহলে ওই ব্যক্তিকে কালেক্টরের অনুমতি নিতে হবে।
    জেলা প্রশাসক অবিলম্বে ফসলী জমিতে নির্মাণাধীন যাবতীয় ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করে বলেন, খতিয়ে দেখতে হবে রাতারাতি ৪/৫ তলা বিল্ডিং তোলার জন্য তারা এত টাকা পেল কোথায়? নিশ্চয় এসব ব্যক্তিরা অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। এব্যাপারে প্রশাসনকে জরুরী ভিত্তিতে তাদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন। পরে জেলা প্রশাসক সমাবেশে উপস্থিত সকলকে মাদক বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান।
    সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহজাহান আলী, ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে.কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ, উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফখরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য আশরাফ জাহান কাজল, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নেছা বেবী, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের, হলদিয়া পালং ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ শাহ আলম, উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোছাইন সিরাজী।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ