• শিরোনাম

    *কক্সবাজারে মার্কিন সরকারের দু’শীর্ষ কর্মকর্তার প্রেস ব্রিফিং * রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমার সরকারেরই সৃষ্টি তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে

    মানবপাচারের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ নভেম্বর ২০১৯ | ১:০৭ পূর্বাহ্ণ

    মানবপাচারের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ

    ১) ইউএসএআইডি’র উপ-প্রশাসক রামু উপজেলার ফতেকারকুলে একটি গ্রামে দরিদ্র মহিলাদের সাথে কথা বলছেন। ২) মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস টেকনাফের শাপলাপুর রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শন করছেন।

    ইউএসএআইডি’র উপ-প্রধান বনি গ্লিক বলেছেন, মানবপাচারের বিষয়ে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এক দিকে সীমান্ত অপর দিকে রোহিঙ্গা আধিক্যের কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া সীমান্তে এ ঝুঁকি আরো প্রখর। মানবপাচারের বিশ্ব রেঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চলমান অবস্থান দ্বিতীয় সারিতে। এটি ক্রমাবনতি ঘটলে মার্কিন সরকারের সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর হয়ে কাজ করা উচিত।
    কক্সবাজারে মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

    উপ-প্রধান বনি গ্লিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মানবপাচার প্রতিরোথে সচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে এনজিও-আইএনজিওর সমন্বয়ে নানা প্রকল্প চলমান রেখেছে। এসব প্রকল্পে তৃণমূল ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ চলছে। ইমাম, শিক্ষক, সমাজপতি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ প্রকল্পের আওতায় এনে মানবপাচার প্রতিরোধে শক্ত ভীত গড়ার প্রচেষ্টা চলছে। ইউএসএআইডি’র উপ-প্রশাসক বনি গ্লিক আরো বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি আন্তজার্তিক সমস্যা। সারাবিশ্ব এই সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এটি মূলত মিয়ানমারের কারণেই হয়েছে। বাংলাদেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সারাবিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এসময় তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার সরকার। এসংকট সমাধানে মার্কিন সরকার মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। ট্রাম্প সরকার ইতিমধ্যে মিয়ানমার সরকারের উপর অর্থনৈতিক নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, চার সামরিক কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞাও জারী করেছে।
    বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরের দিকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস টেকনাফের শাপলাপুর রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প এলাকা পরিদর্শনে যান। সকালে ইউএসএআইডি টীম কক্সবাজার সদরের পাওয়ার হাউস এলাকায় বেসরকারি সংস্থা ইপসা পরিচালিত মানবপাচারের শিকার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার ও রামুর ফতেখারকুলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে চলমান স্যানিটেশন বিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম পরিদর্শন ও মতবিনিময় করেন। এসময় মানব পাচারের শিকার হয়ে উদ্ধার ভিকটিমদের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা শুনেন এবং স্কুল শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নাটিকা উপভোগ করেন পরিদর্শক টীম। ২০১৭ সালের আগস্টের পর বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশের পাশে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
    ক্যাম্প ও প্রকল্প স্থল পরিদর্শন শেষে তাঁরা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা (আরআরআরসি) মো. মাহবুব আলম তালুকদারের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এসময় বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, তাঁদের সাথে ছিলেন।
    আরআরআরসি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা এখানকার ক্যাম্প এলাকা এবং মিয়ানমারের রাখাইন এস্টেটের পরিস্থিতি দেখে এসেছি। মিয়ানমার এখনো নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য পরিবেশ তৈরী করতে পারেনি। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া অনিরাপাদ। মার্কিন সরকারের প্রত্যাশা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন। এ ব্যাপারে আন্তজার্তিক সম্প্রদায়কে নিয়ে মার্কিন সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।

    তিনি আরও বলেন, থাইল্যোন্ডে অনুষ্ঠিত ইন্দো-ফ্যাসিফিক সন্মেলনে এই বিষয়টির উপর গুরুত্বারোগ করা হয়েছে। যুক্তরাস্ট্র সরকার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন তরান্বিত করতে সকল আন্তÍজার্তিক সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
    নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে ইউএসএইড’র উপ-প্রধান বনি গ্লিক বলেছেন, ভাসানচর নিরাপদ বসবাসের উপযোগী কিনা এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো সঠিক পর্যবেক্ষন পায়নি। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে রোহিঙ্গাদের পাঠাতে আমরা সম্মতি দিতে পারি না। নিরাপত্তার সবদিকের বিষয়টি গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি দাতা সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে একিভূত সিদ্ধান্তে আসতে পারলে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।
    বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস, মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলাররা বিমানবন্দরে পৌঁছালে কক্সবাজারের উর্ধ্বতন কর্মকতারা তাদের স্বাগত জানান। পরিদর্শকটীম কক্সবাজারে জেলা প্রশাসন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (আইএনজিও) গুলোর সাথে বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মানবিক সাহায্য, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠী, ভাসানচরে শরনার্থী স্থানান্তরসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তারা।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে ১৯৯২ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নিয়েছে আরো প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে অবস্থান করছে। জীবন ধারণের সব উপকরনসহ মানবিক সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যহত রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের বন্ধুপ্রতীম নানা দেশকে সাথে নিয়ে সফল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রচেষ্টা চলছে। এটি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা মধ্য থেকে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করার উদ্যোগ চলছে। সেভাবে সেখানে আবাসনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা তৈরী করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার জানানো হচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা প্ররোচনায় পড়ে ভাসানচরে যেতে অনীহা প্রকাশ করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস, রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ও ইউএস এইডের উর্ধ্বতন কর্মকতারা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সাথে কথা বলেছেন বলেও দাবি করেছে সূত্র।
    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ