বৃহস্পতিবার ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মারোতের উদ্যেগ

মানসিক ভারসাম্যহীন জাফরকে দশ বছর পর খুঁজে পেল স্বজনরা

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ   |   সোমবার, ২৯ জুলাই ২০১৯

মানসিক ভারসাম্যহীন জাফরকে দশ বছর পর খুঁজে পেল স্বজনরা

মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে দশ বছর আগে সংসার, ঘরবাড়ি, আত্মীয় স্বজন সবাইকে ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন জাফর আলম। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার খালিশ পাড়ায়। প্রথম দিকে স্বজনরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজেও কোথায় সন্ধান না পেয়ে ঘরে ফিরে যায়। বছর দুয়েক বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েও জাফরকে না পেয়ে একসময় স্বজনরা তার ফিরে আসা কিংবা বেঁচে থাকার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন।

এতদিনে মানসিক ভারসাম্যহীন জাফর দেশের বিভিন্ন শহর গ্রাম ঘুরে এসে পৌঁছান কক্সবাজারের টেকনাফে। উপজেলার গ্রামে গঞ্জে ঘুরে ঘুরে খেয়ে না খেয়ে কাটতো তার দিনকাল। পাগলের দলে একসাথে ঘুরে বেড়ালেও জাফরকে দেখতে অনেকটা ভদ্র স্বভাবের ছিল।
টেকনাফের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ মানসিক রোগীদের তহবিল (মারোত) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ঝন্টু বড়–য়া জাফরকে প্রথম দেখে তার সাথে কথা বলেন।

মানসিক রোগী হলেও জাফর অনেকটা স্বাভাবিক উত্তর দিয়েছিলেন ঝন্টুর প্রশ্নে। স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠক জাফরের সাথে কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। একই সাথে মারোতের পক্ষ থেকেও জাফরের স্বজনদের খোঁজ শুরু হয়।ঝন্টু বড়–য়া বলেন, মানসিক রোগী জাফরের সাথে কথা বলার ভিডিওটি ফেসবুকে আমার ব্যক্তিগত পেজ এবং মারোতের পেজ থেকে আপলোড দেয়ার পর নোয়াখালীর চাটখিল থেকে চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে বাকি বিল্লাহ নামে এক ব্যক্তি যোগাযোগ করেন আমাদের সাথে। চেয়ারম্যান দাবি করেন জাফর তার এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি সম্ভ্রান্ত ঘরের সম্মানি ব্যক্তি ছিলেন। পরে মারোতের মাধ্যমে জাফর ও পরিবারের সদস্যরা ভিডিও চ্যাট করে পরিচয় নিশ্চিত করে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মারোতের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, মানসিক রোগী জাফরের পরিবারের সদস্যরা আমাদের সাথে কথা বলে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। গত শনিবার বিকালে তার পরিবারের সদস্যরা নোয়াখালী থেকে টেকনাফে পৌঁছলে আমরা তাদের হাতে জাফরকে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিই।

মানসিক রোগী জাফরের বড় ভাই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজান বলেন, জাফর আমার ছোট ভাই। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি প্রবাসে কাটিয়েছেন। একসময় তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পেলেন। পরে তিনি ঘরবাড়ি ছেড়ে কোথাও পালিয়ে যান। দীর্ঘ দশ বছর পর আজ আমরা তাকে খুঁজে পেয়েছি টেকনাফের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ঐকান্তিক সহযোগীতায়। জাফরের সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন কন্যা সন্তান রয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে দশ বছর ধরে নিখোঁজ মানসিক রোগী জাফরকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মানসিক রোগীদের তহবিল (মারোত) নামক সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক সন্তোষ কুমার শীল বলেন, এটি মারোতের ১৮তম মানসিক রোগীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর অনুষ্ঠান। এর আগে আমরা ১৭ জন মানসিক রোগীকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছিলা।

Comments

comments

Posted ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৯ জুলাই ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com