সোমবার ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

মালয়েশিয়া পাচারকালে ১ বাংলাদেশীসহ ৫৭ রোহিঙ্গা উদ্ধার, দালাল চক্রের ২ সদস্য আটক

তারেকুর রহমান   |   শুক্রবার, ২৫ মার্চ ২০২২

মালয়েশিয়া পাচারকালে ১ বাংলাদেশীসহ ৫৭ রোহিঙ্গা উদ্ধার, দালাল চক্রের ২ সদস্য আটক

সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাচারকালে কক্সবাজারের উখিয়া ছেপটখালী সমুদ্র উপকূল থেকে ১ বাংলাদেশীসহ ৫৭ রোহিঙ্গা নাগরিককে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের পাচারে জড়িত দালাল চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ মার্চ) ভোরে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছেপটখালী সমুদ্র উপকূল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২৪ জন নারী, ১০ জন শিশু ও ২৩ জন পুরুষ রয়েছে।

এ ব্যাপারে শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান কক্সবাজার র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল ইসলাম।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে উখিয়ার ছেপটখালী সমুদ্র উপকূল থেকে এক বাংলাদেশী নাগরিকসহ ৫৭ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মোহাম্মদ সোহেল ও মুছা সলিমুল্লাহ নামে মানবপাচার চক্রের ২ সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের ব্যবহৃত ট্রলারটি জব্দ করা হয়।

তিনি আরো জানান, সংঘবদ্ধ দালাল চক্র মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে এসে উখিয়া ও টেকনাফ উপকূলের গভীর পাহাড়ি এলাকায় জড়ো করে। পরে তাদেরকে সাগরে অপেক্ষামান ইঞ্জিন চালিত বোটে তুলে। দালাল চক্র তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০/১২ হাজার টাকা করে অগ্রিম হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী ক্যাম্প ১২ বাসিন্দা আরকান বিবি বলেন, ‘আমার ভাই মো. জুবাইর মালয়েশিয়া থাকে। আমাকে সেখানে বিয়ে দেয়ার জন্য দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দালালরা সমুদ্রের মাঝ পথে নিয়ে আমাদের জিম্মি করে টাকা আদায় করে। তারা আমাদের পানিতে ৩দিন পরে পাহাড়ি জঙ্গলে ২দিন রাখে। পরে র‍্যাব আমাদের উদ্ধার করে।

১৩ বছরের শিশু দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘আমার বাসা কুতুপালং ক্যাম্প-৩, ব্লক ডি ডি/৪ এ। আমার বাবার নাম রবিউল আলম। মা-বাবা আমাকে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া পাঠাচ্ছে। আমার জন্য বাবা দালালদের ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে।

থাইংখালী ক্যাম্প-১৩, জি/৪ এর বাসিন্দা আরেফা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ১৩ বছর ধরে মালয়েশিয়া থাকে। আমাকেও সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য জাগির হোসেন দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা দেয়। জাগির হোসেন দালাল আমাকে স্বামীর কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রলারে তুলে।’

র‍্যাব-১৫ অধিনায়ক জানান, মূলত দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল এসব রোহিঙ্গাদের। প্রথমে ছোট ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে উপকূল থেকে রওয়ানা দিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশ – মিয়ানমার সমুদ্র সীমানায় অপেক্ষামান রেখে বড় ইঞ্জিন ট্রলারে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল দালাল চক্রের।

Comments

comments

Posted ৮:৩৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৫ মার্চ ২০২২

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com