• শিরোনাম

    চকরিয়ার গরু চুরির ঘটনায় তদন্ত শুরু

    মা ও দুই মেয়ের জামিন, আটক তিন

    নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া | ২৪ আগস্ট ২০২০ | ১১:৫২ অপরাহ্ণ

    মা ও দুই মেয়ের জামিন, আটক তিন

    কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত গরু চুরির অপবাদে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে স্থানীয় লোকজন কর্তৃক মারধরের পর দ্বিতীয় দফায় ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান কর্তৃক নির্যাতন ও মারধরের ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চকরিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মা-মেয়ের জামিন। ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে আটক তিনজন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্ব:প্রনোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ।
    জানা গেছে, চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নে গরু চুরির অপবাদে রশি দিয়ে বেঁেধ মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়লে টনক নড়ে প্রশাসনের। এরপর গতকাল রবিবার জেলা প্রশাসক মো.কামাল হোসেনের নির্দেশে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার পরিচালক (উপ-সচিব) শ্রাবস্তী রায়কে প্রধান করা হয়। অন্য দুই সদস্য হলেন চকরিয়া সহকারি কমিশনার ভুমি তানভীর হোসেন ও হারবাং ইউনিয়নের একজন ট্যাগ অফিসার ও চকরিয়া উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) সঞ্জয় চক্রবর্তী।
    অপরদিকে, চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গরু চুরি অপবাদে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে নির্যাতনের ঘটনাটি আমলে নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। চকরিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার কাজী মো.মতিউল ইসলামকে আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে ঘটনাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।
    তদন্ত কমিটির ঘটনাস্থল পরিদর্শন..
    গরু চুরির ঘটনায় মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে রশি দিয়ে বেঁধে মারধরের ঘটনায় জেলা প্রশাসক মো.কামাল হোসেনের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত টিম কাজ শুরু করেছে। তদন্ত টিমের প্রধান স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) শ্রাবস্তী রায়ের নেতৃত্ব তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম সোমবার দুপুরে হারবাং ইউনিয়নের ঘটনাস্থল সুমুহ পরিদর্শন করেন।
    এসময় তিনি স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
    তবে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য চকরিয়া সহকারি কমিশনার (ভুমি) তানভীর হোসেন বলেন, ঘটনার সময় উপস্থিত মেম্বার-চৌকিদারদের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজনের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আর কিছু বলা যাচ্ছেনা। শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে প্রেরণ করা হবে।
    অন্যদিকে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজের নেতৃত্বে আরেকটি তদন্ত কমিটি মাঠে কাজ করছে। গতকাল রবিবার বিকেলে ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ সরজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলেছেন। তিনিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
    মা ও দুই মেয়ের জামিন….
    আলোচিত গরু চুরির অপবাদে রশি দিয়ে বেঁধে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের মধ্যে মা-মেয়েসহ তিনজনকে জামিন দিয়েছে আদালত। সোমবার সকালে চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার দেব এই জামিন দেন।
    জামিন প্রাপ্তরা হলেন- চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার, তার মেয়ে সেলিনা আক্তার ও রোজিনা আক্তার।
    চকরিয়া আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি তুলে ধরে চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক রাজিব কুমার দেবের আদালতে আসামীদের জামিনের জন্য প্রার্থনা করেন অ্যাডভোকেট ইলিয়াছ আরিফের নেতৃত্বে একদল আইনজীবি।
    এসময় আদালতের বিচারক রাজিব কুমার দেব আসামীদের আদালতে উপস্থিত করার জন্য নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ সোমবার সকালে মা পারভীন আক্তার ও মেয়ে সেলিনা আক্তারকে আদালতে উপস্থিত করেন। এসময় আদালত মা-মেয়েসহ তিনজনকে জামিন দেন। অন্য দুই আসামীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
    ঘটনার সাথে জড়িত অভিযোগে আটক তিন….
    গরু চুরির অভিযোগ মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার ভোর রাতে হারবাং এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় বলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
    আটককৃতরা হলেন- গরু চুরির মামলার বাদি মাষ্টার মাহমুদুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম (১৯) একই এলাকার ইমরান হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০) ও জিয়াবুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন (২৮)।
    চকরিয়া থানার ওসি মো.হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে হারবাং এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ ফাঁড়ির আইসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ। প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
    উল্লেখ্য, গত শুক্রবার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে গরু চুরির অপবাদে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে রশি দিয়ে বেঁেধ নির্যাতন করে স্থানীয় লোকজন। পরে তাদের রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে সড়কে ঘুরিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান পরিষদে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারধর করেন। এতে তারা অসুস্থ হয়ে যায়। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেন।
    পরে গরু চুরির অভিযোগ এনে স্থানীয় বাসিন্দা মাষ্টার মাহমুদুল হক শুক্রবার রাতে বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরের দিন শনিবার সকালে আসামীদের আদালতে উপস্থিত করা হলে মামলার প্রেক্ষিতে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ