• শিরোনাম

    রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশ :৫ দফা দাবী আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গিকার : দাবী আদায় পূরণ না হলে মিয়ানমারে ফেরত যাবেনা কেউ

    মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সৃষ্টির দাবী

    নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া | ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ২:২১ পূর্বাহ্ণ

    মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ সৃষ্টির দাবী

    মিয়ানমারে সব রোহিঙ্গা ফিরে যেতে রাজি রয়েছে। তবে তাদের যথার্থ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ চাই রোহিঙ্গারা। ৫ শর্ত পূরনে মিয়ানমারকে চাপ সৃষ্টি করতে হবে আন্তর্জাতিক মহলকে। এই পাঁচ শর্ত হচ্ছে, নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, নিজেদের ভিটেবাড়ি ফিরিয়ে দেয়া, ক্ষতিপূরণ দেয়া ও রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনকারিদের আন্তজার্তিক অদালতে বিচার করা। রোহিঙÍা ক্যাম্পে অর্ধলক্ষাধিক রোহিঙ্গার উপস্থিতিতে এসব দাবি জানান রোহিঙ্গা নেতারা। এ দাবি আদায়ে তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ বলে ঘোষনা দেন।
    ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা সংকটের দুই বছর পুর্ণ উপলক্ষ্যে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের এক্সটেনশন ফোর ক্যাম্প মাঠে এক বিশাল সমাবেশে রোহিঙ্গারা নেতারা এই ঘোষনা দেন। সমাবেশে সকাল ৮টা থেকে দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। এক পর্যায়ে মাঠ ছাড়াও পাহাড়ের পাদদেশে জড়ো হয় অর্ধ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ। সকাল ৯ টায় শুরু হয় সমাবেশ।

    আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস নামের সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিব উল্লাহ’র সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্ত রাখেন উক্ত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ উল্লাহ, রোহিঙ্গা নেতা নূর হাকিম, মো. কামাল, আবদুর রহিম, নারীনেত্রী হামিদা বেগম প্রমুখ।
    বক্তব্যে রোহিঙ্গা নেতা সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘দুই বছর ধরে আমরা পরবাস জীবন যাপন করছি। নিজ ভিটেমাটিতে এখনো ফিরতে পারিনি। বিশ্বের শীর্ষ নেতৃত্ব আমাদের দেখতে আসে, সহানুভূতি জানায়। কিন্তু কেউ আমাদের নিজ দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নেয়নি। এতে মিয়ানমারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাসীও ব্যর্থ।

    নারীনেত্রী হামিদা বেগম বলেন, ‘দুই বছর ধরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা এখন ঘরে ফিরতে চাই। পাশাপাশি আমাদের যারা নির্যাতন করে এ দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে, তাদের বিচার চাই।
    রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে চাই। নাগরিকত্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের নিশ্চয়তা পেলে শিবিরের সব রোহিঙ্গা ফিরে যাবে। এ জন্য আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপে বসতেও রাজি।

    রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে নিতে হবে মিয়ানমারকে। সঙ্গে রাখাইনে ফেলে আসা ভিটেমাটিও ফিরিয়ে দিতে হবে। তাহলেই প্রত্যাবাসন সফল হবে। ২০১২ সালে ১ লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গাকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে যে আশ্রয়শিবিরে রাখা হয়েছে, তাদেরও নিজ নিজ বাসস্থান ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয় সমাবেশে।
    সমাবেশে মৌলভী সৈয়দ উল্লাহ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর যারা হত্যাকান্ড ও নির্যাতন চালিয়েছে আল্লাহর নিকট তাদের বিচার প্রার্থনা করেছেন। সেই সাথে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়া সকল রোহিঙ্গাদের শান্তি কামনা করেন। তাদের যথার্থ সম্মান ও অধিকার নিয়ে যাতে নিজের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেন তার জন্য প্রার্থনা করা হয়।
    দুপুর ১২টার দিকে সমাবেশ শেষ হয়। এরপর রোহিঙ্গারা দলে দলে শিবিরে ফিরে যায়।

    মধুরছড়া আশ্রয় শিবিরের ইনচার্জ মাইন উদ্দিন বলেন, সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার তৎপর ছিল।
    সমাবেশে আগত রোহিঙ্গা নেতা নুরুল বশর জানান, ২৫শে অগাস্টকে তারা গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে এই সমাবেশ আয়োজন করেছে। গত বছর থেকে রোহিঙ্গারা এই দিনটিকে গুরুত্ব দিয়ে সমাবেশ করে আসছেন।
    দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে উখিয়ার বালুখালী ও টেকনাফের পুঁটিবুনিয়া শিবিরে পৃথক বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে।
    শরনার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম (অতিরিক্ত সচিব) জানান ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য একটা কঠিন দিন। এ দিনে তারা তো একটা সমাবেশ করতেই পারে। এজন্য কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। উখিয়া থানার ওসি আবুল মনসুর জানান-সমাবেশে অপ্রীতিকর কোন কিছু ঘটেনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ