শনিবার ১০ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যের সমাবেশে মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে বিরোধীতাকারিরা পাকিস্তানের পরাজিত শক্তি

বিশেষ প্রতিবেদক:   |   সোমবার, ২২ মার্চ ২০২১

মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যের সমাবেশে মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে বিরোধীতাকারিরা পাকিস্তানের পরাজিত শক্তি

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু হওয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম একটি স্বাধীন বাংলাদেশ হয়েছে। এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে আমরা ভারতে কাছে কৃতজ্ঞ। কেননা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে যখন নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে তখন ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলো আমাদের এক কোটি ২০ লাখ মানুষ। শুরু তা নই বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাথে একই সাথে যুদ্ধ করেছে ভারতের সেনা বাহিনী। যেখানে ১৮ হাজার সৈন্য মারা গেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পেছনে ভারতের সৈনিক রক্ত আছে। আর সেই বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে অনেক রাষ্ট্র প্রধান অনেক আসছেন। কিন্তু কোথাও বিরোধী নেই। তাহলে ভারতের নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে এতো বিরোধী কেন? এরা সেই পাকিস্তানের পরাজিত শক্তি যারা পাঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর বাংলাদেশে কথিত ভারতের বিরোধের নামে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বুনে ছিল। যারা এদেশে জঙ্গির উৎত্থান করে ছিল। এখন সময় এসেছে এদের বিরুদ্ধে ঐক্য করার।

রোববার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় শহরের ঐতিহ্যবাহি পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ‘মুক্তিযুদ্ধের ঐক্য’ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, সম্প্রীতি বিনষ্টকারীরা দেশ ও ধর্মের শত্রু। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল দেশে একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে সকলেই মিলেমিশে সুখে ও শান্তিতে বসবাস করবে এবং প্রত্যেকে নির্বিঘেœ নিজ নিজ ধর্ম প্রতিপালন করবে। জাতির পিতার আদর্শ ও চেতনাকে নষ্ট করে মানুষের মাঝে দ্বন্দ্ব-বিবাদ সৃষ্টি করতে ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে একটি সুবিধাবাদী দল। তারা ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে সকল ধর্মের মানুষের সাথে খেলা করে। তারা পাকিস্তানিদের পেতাত্মা। তাদের বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে।

কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীত ও উদ্বোধনী সংগীতের মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া কর্মসূচির
উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যের কেন্দ্রিয় আহবায়ক মেজর (অব:) এএসএম শামসুল আরেফিন। উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিয়েছেন। তার স্বপ্ন ছিল এদেশের দারিদ্র পীড়িত মানুষকে মুক্ত করবেন। এমন করে দেশকে গড়ে তুলবেন যাতে বিশ্বের বুকে বাঙালি মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারে। ক্ষুধা দারিদ্র দুর করতে তিনি সেইভাবে কর্মসূচি দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা দিতে গিয়ে তিনি দিনের পর দিন জেল খেটেছেন। বঙ্গবন্ধু কখনো মাথানত করেননি, আর্দশচ্যুত হননি। দুর্ভাগ্য তিনি যে দেশের স্বাধীনতা দিয়েছেন সেই স্বাধীন দেশেই তাকে হত্যা করা হয়। এটা কেউ কল্পনাও করেনি, বিশ্বাস করতেও পারেনি। কারণ তিনি এদেশের মানুষকে অত্যান্ত ভালোবাসতেন। তিনি এদেশের জন্য রক্ত দিয়ে গেছেন। কৃষক শ্রমিকের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্য দিয়ে তার রক্ত ঋণ শোধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এদেশে আর মুক্তিযুদ্ধের লড়াই আর হবে না। এখন হবে স্বাধীনতা রক্ষা করার লড়াই। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যের কক্সবাজার জেলা শাখার আহবায়ক পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নজিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল করের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে কেন্দ্রিয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মনিরুজ্জামান মনির, মুক্তিযুদ্ধের ঐক্য কক্সবাজার জেলা শাখার উপদেষ্টা আশেক উল্লাহ রফিক এমপি, যুগ্ম আহবায়ক শামসুল আলম মন্ডল ও সদস্য সচিব সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল করিম মাদু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সাংসদ অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জয়ন্ত আচার্য্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর হায়দার চৌধুরী রোটন।
আলোচনা সভা শেষে আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযুদ্ধের নাটক মঞ্চায়ন করা হয়।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের ঐক্য কক্সবাজার জেলা শাখার ঘোষিত ৩ টি স্থানের কর্মসূচির মধ্যে ২১ মার্চ রোববার শহীদ দৌলত ময়দানে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। এছাড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২৩ মার্চ ঈদগাঁও স্টেশন এবং ৩০ মার্চ রামু চৌমুহনী স্টেশনে একই অনুষ্ঠান মালা থাকছে।

Comments

comments

Posted ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২২ মার্চ ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com