বুধবার ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

* পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা শুরু * মুনিয়ার টর্চার সেল নিয়ে তোলপাড়

মুনিয়া বাহিনীর নির্যাতিত মালেক উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মুনিয়া বাহিনীর নির্যাতিত মালেক উদ্ধার

গতকাল সোমবারের দৈনিক আজকের দেশবিদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত কক্সবাজার সাগর পাড়ের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মুনিয়া বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের সংবাদ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজার সাগর পাড়ের এমন হিং¯্র সন্ত্রাসী বাহিনীর দখলবাজি, হত্যা, অপহরণ, সশস্ত্র হামলা, চাঁদাবাজি সহ নির্মমতার ঘটনা নিয়ে মানুষ বিচলিত হয়ে পড়েন। আবার পর্যটন ব্যবসায় নিয়োজিত যারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এক বিএনপি নেত্রীর আশির্বাদপুষ্ট সন্ত্রাসী মুনিয়া বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়ে আসছিলেন তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ওদিকে গতকালই পুলিশ এমন নির্মম ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। পুলিশ মুনিয়া বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হওয়া সেই গণপূর্তের প্লটের পাহারাদার আবদুল মালেককে অবশেষে উদ্ধার করেছে। গতকাল সোমবারের দৈনিক আজকের দেশবিদেশ এ ‘গণপূর্ত প্লটে সন্ত্রাসী মুনিয়ার টর্চার সেল’ শিরোনামের সংবাদটি প্রকাশের পর পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম-বার এর নির্দ্দেশে পুলিশ নির্যাতিত মালেককে ঘরে আটকা পড়া অবস্থায় উদ্ধার করে। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর থেকে সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান শাহাদত হোসেন মনিয়া গা ঢাকা দিয়েছে। তরে বাহিনীর অন্যান্য ক্যাডারগন এখনো সক্রিয় রয়েছে।

এর আগে গতকাল দুপুরে দেশবিদেশ পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদ সূত্র ধরে সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক অনজন সাহা সৈকত পাড়ার গণপূর্ত সি বøকের ৪৭ নম্বর প্লটের ঝুপড়ি ঘরে থাকা মালেককে নির্যাতনের অমানবিক ঘটনাটি সরেজমিন গিয়ে নিশ্চিত হন। সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার তত্বাবধানে একদল পুলিশ গিয়ে নির্যাতিত মালেককে তার ঘর থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
নির্যাতিত মালেকের সাথে ছিলেন তার স্ত্রী মোরশেদা বেগম। গতকাল সন্ধ্যায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজাহান কবিরের অফিসে সন্ত্রাসী মুনিয়া বাহিনীর নির্যাতনের বিশদ বিবরণ জানান। নির্যাতিত আবদুল মালেকের নিজ বাড়ী কুতুবদিয়া দ্বীপের লেমশীখালী ইউনিয়নের ঠান্ডা চৌকিদার পাড়ার বাসিন্দা। তার স্ত্রী মোরশেদাও একই এলাকার বাসিন্দা। আজ থেকে ১৮/১৯ বছর ধরে তারা কক্সবাজারের সৈকত পাড়ার সংলগ্ন গণপূর্তের সি বøকের ৪৭ নম্বর প্লটে পাহারাদার হিসাবে রয়েছেন।
আবদুল মালেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানান, একই স্থানের ৬০ নম্বর প্লটটি জবর দখল করে নেয় সন্ত্রাসী বাহিনী মুনিয়ার নেতৃত্বে তার দলবল। সেখানেই সন্ত্রাসী মুনিয়া তার বাহিনী নিয়ে অফিস স্থাপন করে। অফিসের নামে সেই টর্চার সেলেই লোকজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন চালায় মুনিয়া। মালেক জানায়, ৬০ নম্বর প্লটটি দখল করার পর তার নজর পড়ে ৪৭ নম্বর প্লটের উপর। এজন্য মালেককে সেই প্লট থেকে চলে যেতে বলেছিল মুনিয়া। কিন্তু মালেক তাতে রাজি হননি। চট্টগ্রাম শহরের মোহাম্মদ ইউনুস নামের এক বাসিন্দার মালিকানাধীন সেই ৪৭ নম্বর প্লটটি দখল করার জন্যই সন্ত্রাসী মুনিয়া তাকে (মালেক) আটদিন আগে ডেকে নিয়ে যায় ৬০ নম্বর প্লটের আস্তানায় থাকা টর্চার সেলে। মুনিয়া টর্চার সেলে মালেককে নিয়ে গাছের একটি বাট (মালেকেরে ভাষায় গাছের বিরালি) নিয়ে বেদম মারতে থাকে। এক পর্যায়ে মারতে মারতে মালেকের ডান পা ভেঙ্গে দেয়। দুই ঘন্টা ব্যাপি নির্মম নির্যাতন চালায় মালেকের উপর।

পা ভাঙ্গা সেই মালেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আরো জানান, মুনিয়া গাছের বিরালি দিয়ে পিটুনির এক পর্যায়ে তার ক্যাডারদের বলে-এই কে আছসরে এবার কাটা বন্দুকটা নেয়-শালারে একটু দেখিয়ে দেই। মালেক জানান, মুনিয়ার আস্তানাটিতে তার অফিস সহ আরো বেশ কয়েকটি কক্ষ রয়েছে। নির্যাতনের পর মুনিয়া মালেককে নির্দ্দেশনা দেয় যাতে তার ঘর থেকে বের না হতে। এজন্য মুনিয়া বাহিনী নজরদারিও করতে থাকে। যাতে মালেক ঘর থেকে বের হয়ে পুলিশ ও হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে না পারে।
সদর মডেল থানার পুলিশ তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতরাতেই নির্যাতিত মালেককে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্ত্তি করান। পরে ঘটনাটির ব্যাপারে একটি মামলা রুজু করা হয়। এদিকে মুনিয়া বাহিনীর দখল করা সি বøকের ৬০ নম্বর প্লটটিতে গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বাহিনীর সন্ত্রাসীরা সেখানে পাহারা বসিয়েছে। কোন লোককে সেখানে ঢুকতে দেয় না। প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় দোকানদাররা রয়েছে এক ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে। এলাকার কেউই ভয়ে মুনিয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছে না। মুনিয়া বাহিনী যেন এক সাক্ষাৎ যমদূত।

প্রসঙ্গত শহরের বাহারছড়ার আবু শামার পুত্র সন্ত্রাসী শাহাদত হোসেন মুনিয়া এবং তার বোন জেলা বিএনপি’র মহিলা শাখার সভানেত্রী ও পৌর কাউন্সিলর নাসিমা আকতার বকুল সহ ৩০/৩৫ জন সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে জবর দখলের অভিযোগে ৬০ নম্বর প্লটের মারিক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউনুস হোছাইন পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে সংঘটিত ডজন ডজন অপরাধজনক ঘটনা থেকে রেহাই পেতে সেই বিএনপি নেত্রী দৌড়ঝাঁপও শুরু করে দিয়েছেন। ###

Comments

comments

Posted ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com