• শিরোনাম

    মেজর সিনহার ময়না তদন্ত ও সুরতহাল রিপোর্ট প্রায় অভিন্ন

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ০৯ আগস্ট ২০২০ | ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

    মেজর সিনহার ময়না তদন্ত ও সুরতহাল রিপোর্ট প্রায় অভিন্ন

    পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অবঃ) সিনহা মোঃ রাশেদ খানের ময়না তদন্তেও ৪ টির বেশী গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর আগে নিহত মেজর সিনহার সুরতহাল রিপোর্টে পুলিশ ৬ টি গুলির চিহ্ন খুঁজে পায়। কিন্তু টেকনাফ থানায় মেজর সিনহার হত্যাকান্ড নিয়ে পুলিশ যে মামলা দায়ের করেছে তাতে উল্লেখ রয়েছে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত সেই রাতে ৪ টি গুলি বর্ষণ করেছিলেন। তবে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, সেই রাতে পরিদর্শক লিয়াকতের গুলির পর ওসি প্রদীপ এসে আরো ২ টি গুলি করেছিলেন মাটিতে লুটিয়ে পড়া মেজর সিনহার গায়ে। এতে মনে করা হচ্ছে যে, ময়না তদন্ত রিপোর্ট এবং সুরতহাল রিপোর্ট প্রায় অভিন্ন।
    গত ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক লিয়াকতের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর মেজর সিনহা। তাঁর (মেজর সিনহা) নিহতের ঘটনা নিয়ে টেকনাফ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ উপ পরিদর্শক নন্দ দুলাল রক্ষিত বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটিতে বলা হয়েছে, সেই রাতে পরিদর্শক লিয়াকত ৪ টি গুলি বর্ষণ করেছিলেন।
    পরের দিন নিহত মেজর সিনহার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। উপ পরিদর্শক সাইফুল তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন যে, মেজর সিনহার মরদেহে ৬ টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বলেন-‘ আমি মেজর সিনহার মরদেহ তন্ন তন্ন করে দেখেছি। মরদেহে আমি মোট ৬ টি ফুটো দেখতে পেয়েছি। যা সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।’
    টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলা এবং পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে বর্ষিত গুলি ও মরদেহের গুলির ফুটোর চিহ্ন নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাবার পর থেকে সবাই ময়না তদন্তের অপেক্ষা করছিল। গতকাল শনিবার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে কাংখিত ময়না তদন্তের রিপোর্টটি তদন্তকারি সংস্থা র‌্যাবের হাতে পৌঁছেছে। ময়না তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও মামলার তদন্তকারি সংস্থা র‌্যাবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। তবে একথা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মেজর সিনহার মরদেহে ৪ টির অধিক গুলির চিহ্ন মিলেছে। এতে মনে হচ্ছে প্রায় অভিন্ন রয়েছে রিপোর্ট।
    অপরদিকে সেই রাতের একজন প্রত্যক্ষদর্শী টমটম চালক গতকাল শনিবার বিকালে জানিয়েছেন-‘ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত গুলি করার পর মোবাইলে বলেন-স্যার ৩ টি দিয়েছি।’ টমটম চালক আরো জানান, এর কিছুক্ষণ পর টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়া মেজর সিনহার বুকে -পিঠে লাথি দিয়ে কুত্তার বাচ্ছা বলে আরো ২ টি গুলি ছুঁড়েন।
    টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর নয়াপাড়ার বাসিন্দা ইজিবাইক (টমটম) চালক সরওয়ার কামাল (৩০) গতকাল সন্ধ্যায় মোবাইলে বলেন, তিনি গত ৩১ জুলাই সন্ধ্যার পর শামলাপুর লামার বাজার গিয়ে পরের দিন ঈদুল আযহার জন্য গায়ের একটি পাঞ্জাবী কিনেন। এরপর মেরিন ড্রাইভে ঘটনাস্থলের পাশের্^র ব্রীজে বসে বসে সিগারেট টানছিলেন। এমন সময় তিনি দেখতে পান পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত ও তদন্ত কেন্দ্রের ক্যাশিয়ার (কনষ্টেবল) মামুন কক্সবাজারমুখি একটি কার থামান।
    সরওয়ার বলেন, কার থেকে এসময় এক ব্যক্তি নামতেই পরিদর্শক লিয়াকত পর পর তিনটি গুলি করে দেন। এরপর ওই ব্যক্তির অপর সঙ্গি নামতেই তারও পা লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করেন এক রাউন্ড। তবে সেই গুলি তার পায়ে লেগেছে কিনা তিনি জানেন না। প্রত্যক্ষদর্শী সরওয়ার আরো বলেন, এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে ওসি প্রদীপ এসে মেজর সিনহার শরীরে লাথি মেরে তিনিও দুই রাউন্ড গুলি করেন। ####

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ