• শিরোনাম

    দৃশ্যপট: জেলা সদর হাসপাতাল

    মেয়র মুজিব দেখেছেন যেন এক ‘জীবন্ত মৃত্যুপুরি’

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ১৭ মার্চ ২০১৯ | ১:৫০ পূর্বাহ্ণ

    মেয়র মুজিব দেখেছেন যেন এক ‘জীবন্ত মৃত্যুপুরি’

    কক্সবাজার জেলা সদরের আড়াইশ শয্যার হাসপাতালটিতে অবেলায় গিয়ে যেন এক ‘মৃত্যুপুরি’ স্বচক্ষে দেখেছেন তিনি। এমনসব দৃশ্য দেখে তিনি বলেছেন-কেবল মৃত্যু হলেই যে মৃত্যুপুরি হবে এমনটা নয়। এটা যেন মৃত্যু না হয়েও একটা ‘জীবন্ত মৃত্যুপুরি।’ ময়লা-আবর্জনায় ভরা হাসপাতাল অঙ্গণ।
    এটির নাম কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। মৃত্যুপথ যাত্রীরা এখানে চিকিৎসা সেবার জন্য যান। অথচ এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবার জন্য গিয়ে বরং উল্টো রোগির অবস্থাই আরো কাহিল হয়ে পড়বে-এমনই চলছে অবস্থা।
    তবে এরকম পরিস্থিতিতে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালটির মাত্র ২ দিন আগে অবসরে যাওয়া তত্বাবধায়ক ডাঃ সুলতান আহমদ সিরাজী গতরাতে বলেন-‘ এমন অবস্থার জন্য লোকবলের সংকট দায়ি। কেননা হাসপাতালে ২৮৬ জনের লোকবলের স্থানে ৬০ টি শূন্য পদ রয়েছে। ২৫০ বেডের হাসপাতালে ৬০০/৭০০ জন রোগির স্থান করে দিতে হয়। দেশের মন্ত্রী-আমলারা এসে কেবল আশ্বাসই দিয়ে যান বাস্তবে কেউই সমস্যা সমাধান করেন না। এই যে- আইসিউ পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি আমরা।’
    গতকাল শনিবার সন্ধ্যা মাগরিবের সময় আকস্মিক জেলা সদর হাসপাতালটির ৫ম তলায় এক রোগি দেখতে গিয়েছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। মেয়র হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েই এতসব কথার জন্ম দিয়েছে।
    গতরাতে আলাপকালে মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন-‘ভাইরে আমি মনে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছি। আমি এটা কি দেখেছি। জেলা সদরের সরকারি হাসাপাতালটিতে এরকম খারাপ অবস্থার কথা চিন্তাও করিনি।’ মেয়র বলেন, মাগরিবের সময়ই দেখলাম রোগিদের খাবার সরবরাহের জন্য ওয়ার্ডে নেয়া হচ্ছে। তিনি খাবার দেখে এগিয়ে গেলেন। প্রথমেই দেখলেন ডালের ডেকচি। ডেকচি থেকে এক চামচ নিয়ে তিনি মুখে দিয়েই দেখলেন মারাতœক ঠান্ডা।
    মেয়র মুজিব এরপর তরকারির বালতি দেখলেন। তরকারির বালতি থেকে এক চামচ নিয়ে দেখতে পান ললিতা আলুগুলো ¯্রফে লম্বা করে কেটে কয়েক ফালি করেই ডেকচিতে ফেলে রান্না করে দেয়া হয়েছে। আলুর বাইরের খোলসও ফেলা হয়নি। ভাত এবং ডিমও ঠান্ডা।
    মেয়র বলেন, হাসপাতালটিতে কেবল ডিউটি করছিলেন ইন্টার্ণ ডাক্তারগণ। সেখানে অন্য কোন ডাক্তারকে তিনি দেখতে পাননি। সবচেয়ে কষ্ট তিনি অনুভব করেছেন, হাসপাতালের লিফটি বন্ধ রাখায়। কেননা হাসপাতালের ৫ ম তলায় উঠার জন্য একজন হাঁফানি রোগির সে যে কি কষ্ট তা আর কে বলবে।
    কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান আরো জানান-হাসপাতালের রোগিরা তাকে কাছে পেয়ে একের পর এক অভিযোগ জানান। রোগিরা তাকে পেয়ে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চনার কথাই সবচেয়ে বেশী বলেছেন। অনেক রোগিই বলেছেন, যে খাবার হাসপাতাল থেকে সরবরাহ দেয়া হয় সেটা খাওয়া যায়না। এ কারনেই বাইর থেকে কিনে এনে খেতে হয়। এজন্য তিনি রোগিদের মাঝে টাকা-পয়সাও বিলি করেন। ####

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ