বুধবার ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

অনুসন্ধান-১

যেভাবে রোহিঙ্গাদের হাতে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥   |   সোমবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

যেভাবে রোহিঙ্গাদের হাতে যাচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

অনেক রোহিঙ্গার কাছেই এখন বাংলাদেশের পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট ব্যবহার করেই রোহিঙ্গাদের মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে গমনাগমন। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট না দেয়ার ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর। তবে, তাতেও কোন কাজ হচ্ছে না। রোহিঙ্গারা বিভিন্ন কৌশলে নিচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট।
২০১৭ সাল থেকে ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯। এই দুই বছরে শুধু কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসে ধরা খায় ১৬ রোহিঙ্গা। পরবর্তীকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তারপরও থেমে থাকেনি রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট নেয়ার অপকৌশল।
গত দুই বছরের মধ্যে অন্তত ৩০০ জনের আবেদনপত্র আটকে দিয়েছে কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিস। আবেদনকারীদের রোহিঙ্গা হিসেবে সন্দেহ হওয়ায় পাসপোর্ট আটকে দেয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) সহ আবেদন করলে পাসপোর্ট অফিসের করার কিছুই থাকেনা। জন্মনিবন্ধন সনদ, জাতীয়তা সনদ ও প্রত্যয়নপত্রের মতো কাগজপত্র দিলেই নাগরিকত্ব পরীক্ষা করা হয়। এতে উৎরে গেলে যে কেউই সহজে পাসপোর্ট পেয়ে যায়।
কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসের নাগরিকত্ব পরীক্ষা করা হয় সনাতনী পদ্ধতিতে। যে পরীক্ষায় স্বল্পবুদ্ধির রোহিঙ্গার পক্ষেও উত্তীর্ণ হওয়া অত্যন্ত সহজ। কয়েক বছর ধরে রোহিঙ্গা কিনা তা পাসপোর্ট কর্মকর্তারা যাচাই করেন কয়েকটি ক্ষুদ্র প্রশ্ন দিয়ে।

প্রথমে সন্দেহভাজন রোহিঙ্গাকে স্বাক্ষাৎকারের জন্য নিয়ে আসা হয় পাসপোর্ট কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এরপর জিজ্ঞেস করা হয় তাঁর নাম, পিতার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা। পরে আবেদনপত্রের সঙ্গেমিলিয়ে দেখা হয়। এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারলেও যদি পাসপোর্ট কর্মকর্তার সন্দেহ হয় লোকটি আসলেই রোহিঙ্গা নাকি বাংলাদেশের নাগরিক। জিজ্ঞেস করা হয় এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বারদের নাম, এদেশের কয়েকটি ফুলের নাম, পাখির নাম, বিভিন্ন এলাকার নাম। এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারাদের আর কিছুই করা হয় না। যোগ্য বিবেচনা করে তুলে দেয়া বাংলাদেশের পাসপোর্ট।

সুচতুরে রোহিঙ্গা। যাদের দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে বসবাস। কক্সবাজার জেলা তো বটেই। এদেশের বিভিন্ন জেলায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তাঁরা। অধিকাংশের আবার রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র। তাদের এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়া ডাল-ভাতের মতোই সহজ। ফলে পাসপোর্ট পেতে তাদের বেগ পেতে হয় না।
সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা শনাক্তকরণ পদ্ধতিতে আধুনিকতা এসেছে। কম্পিউটারে সংরক্ষিত ডাটাবেজ দেখে শনাক্ত করা হচ্ছে রোহিঙ্গা। সেখানেও রয়ে গেছে গলদ। (আগামিকালের পর্বে যার বিস্তারিত থাকবে)

Comments

comments

Posted ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com