শনিবার ১০ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

রাত নামলেই যেন অপরাধ জগত কুতুপালং

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া   |   সোমবার, ১৫ মার্চ ২০২১

রাত নামলেই যেন অপরাধ জগত কুতুপালং

উখিয়ার কুতুপালং যেন রাত নামলেই নেশার জগতে রঙ্গিন দুনিয়ায় পরিণত হয়। বিশেষ করে কুতুপালং পশ্চিম পাড়া ও লম্বাশিয়া গ্রামেই চলছে মরণনেশা ইয়াবাসহ রকমারি মাদকদ্রব্যের জমজমাট বাণিজ্য। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে উক্ত গ্রামে গড়ে উঠেছে একের পর এক দালানকোঠা। প্রতিটি দালানেই রয়েছে রংবেরঙের আলোকসজ্জা। রাতের আলোতে প্রতিটি দালান হয়ে উঠে একেকটি রং-বেরংয়ের মহল। দিনের বেলায় শুনসান নীরবতা থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে সরগরম হয়ে উঠে কুতুপালং পশ্চিম পাড়া সড়কসহ আশপাশের এলাকা। নামি দামি মোটরসাইকেলের কান ফাঁটা হর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপন নাভিশ^াসে উঠেছে। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত এসব বাইকগুলো সড়কে তৎপর থাকলেও দেখার কেউ নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুতুপালং গ্রামের বয়োবৃদ্ধ এক মুরুব্বী বলেন, উখিয়ার ব্যস্ততম গ্রাম হওয়ার সুবাদে গ্রাম দুটি প্রায় অপরাধমুক্ত ছিল, নিরাপদ ছিল গ্রামবাসী। কিন্তু গত দুয়েক বছরের ব্যবধানে রোহিঙ্গা আসার পর গ্রাম দুটিতে বেড়েছে অপরাধ, দুটি গ্রামের উঠতি বয়সী যুবকরা জড়িয়ে পড়েছে মরণনেশা ইয়াবা বানিজ্যে। প্রতিদিন রাতে মোটরসাইকেলের আওয়াজে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এখানে প্রতিরাতে প্রায় অর্ধ শতাধিক মোটরসাইকেল ইয়াবা বহনে নিয়োজিত থাকে। কুতুপালং পশ্চিম পাড়া সড়কে দিয়ে লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ইয়াবা এনে পাচারকারী সিন্ডিকেট উখিয়ার গ্রামীন সড়ক দিয়ে নিরাপদ ইয়াবা পাচার করে যাচ্ছে। ইদানিং উঠতি বয়সী বখাটে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয়েছে সদ্য জেল ফেরত আসা চিন্থিত ইয়াবা গডফাদাররা। ইয়াবা মামলায় দীর্ঘদিন তারা হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়ে ফের জড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা বাণিজ্যে। ফলে মাদক ব্যবসার জমজমাট আকার ধারণ করেছে ঐ দুটি গ্রামে। জেল ফেরত চিহ্নিত ওইসব ইয়াবা গডফাদারদের উখিঢা থানায় নতুন যোগদান করা পুলিশ সদস্যরা না চেনার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে তারা। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর পূর্বে উক্ত গ্রামের অনেকেরই “নুন আনতে পান্তা পুরায়”, এমন অনেক পরিবার ইয়াবা বাণিজ্যের মাধ্যমে এখন এক্স নোহা, ডাম্পার, সিএনজিসহ একাধিক গাড়ি, বাড়ির মালিক বনে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোহিঙ্গা ও কতিপয় বিপদগামী যুবক ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার দেশি বিদেশী মাদকদ্রব্য সেবন ও বিক্রি করছে। যে কারণে এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এসব নেশাখোর ও ইয়াবা পাচারকারী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম এতই বৃদ্ধি পেয়েছে, যেকোন মুহুর্তে অনাকাংখিত সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। তাই এসমস্ত চিহ্নিত ও মাদক দ্রব্যের সাথে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহাম্মদ সঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, আমি যোগদান করার পর থেকে ইয়াবার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সচেতনতামুলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এলাকার ওয়াজ মাহফিল সহ মসজিদ মাদ্রাসায় গিয়ে ইয়াবার বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছি। জনবহুল স্টেশনগুলোতে সভা সেমিনার করে ইয়াবার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখছে কারণ এলাকার জনগণ সচেতন না হলে ইয়াবা বন্ধ করা কঠিন। এলাকার প্রতিটি অভিভাবক কে কোথায় যায় এগুলো নজরদারি করতে হবে, তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

Comments

comments

Posted ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৫ মার্চ ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com