• শিরোনাম

    রামুতে বর্ণমালা হাতে হাজারো শিক্ষার্থীর কন্ঠে অমর একুশের কালজয়ী গান

    আল মাহমুদ ভূট্টো, রামু | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

    রামুতে বর্ণমালা হাতে হাজারো শিক্ষার্থীর কন্ঠে অমর একুশের কালজয়ী গান

    ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রামুতে হাজারো কন্ঠে পরিবেশিত হলো অমর একুশের কালজয়ী গান “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি”। বৃহষ্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রামু উপজেলা শহীদ মিনার চত্ত্বরে বর্ণমালা হাতে সমবেত কন্ঠে গানটি পরিবেশন করেন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী। মুজিববর্ষ, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে রামু উপজেলা প্রশাসন ব্যতিক্রমধর্মী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
    এ আয়োজনের উদ্যোক্তা রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণয় চাকমা বলেন, মুজিববর্ষে ভাষা সৈনিকদের সম্মান জানানো এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য সর্বস্থরে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বর্ণমালা হাতে এভাবে সমবেত কন্ঠে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি” গানটি পরিবেশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ১৯৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে আন্দোলনের যে গোড়াপত্তন হয়েছিলো ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজপথে রক্ত ঢেলে তার বাস্তবায়ন করেছিলেন অমর শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে। সেসব বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

    আয়োজনের সমস্বয়কারি রামু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সুমথ বড়–য়া জানান, বর্ণমালা হাতে অমর একুশের কালজয়ী গান পরিবেশনের মাধ্যমে ভাষা সৈনিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে মাতৃভাষার অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস জানতে পারবে। তিনি আরো বলেন, ইউএনও প্রণয় চাকমা রামুতে যোগদানের পর থেকে একের পর সৃজনশীল কর্মকান্ড এবং কর্মদক্ষতা দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। মুজিববর্ষে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য নিয়ে এ আয়োজনও সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে।
    বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজার কেন্দ্রের সংগীত প্রযোজক কন্ঠশিল্পী বশিরুল ইসলাম জানান, বর্ণমালার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি এবং ভাষা আন্দোলনকে শিশু শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে ধারণ করতে এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি আরো বলেন, ভাষা সৈনিকদের স্মরণে এ গানটি কেবল বছরের একটি দিনই গাওয়া হয়। এছাড়া গানটির তেমন চর্চা থাকে না। তাই এ ধরনের উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা গানটি আরো বেশী চর্চার সুযোগ পাবে।

    এছাড়া শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে রামু উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত দু’দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে প্রথম দিন ২০ ফেব্রুয়ারী শহীদ মিনার/ভাষা আন্দোলন/ ভাষা শহীদ/ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সাথে সংগতিপূর্ণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্তীদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়। আজ ২১ ফেব্রুয়ারী প্রথম প্রহরে ১২.০১টায় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গুরুত্বপূর্ণ সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিতকরণ, সকাল ৬.৩০ টায় নগ্ন পায়ে প্রভাত ফেরী ও বর্ণমালা মিছিল, সকাল ১০টায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে আলোচনা সভা, বাদে যোহর অথবা সুবিধামত সময়ে মসজিদ, মন্দির, বিহার/ক্যাং, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা এবং বিকাল চারটায় উপজেলা শহীদ মিনার চত্ত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ