শনিবার ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

* সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিং * পাহাড় কাটলে এনজিওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা * সৈকতের অসুন্দর পরিবেশ এবং শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই

রোহিঙ্গাদের জন্য আর এক ইঞ্চি বনভূমিও নয়

দিপক শর্মা দিপু   |   শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

রোহিঙ্গাদের জন্য আর এক ইঞ্চি বনভূমিও নয়

একাদশ জাতীয় সংসদের ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি’র ৮ম বৈঠক কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের শহীদ জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদীয় কমিটির এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি সাংবাদিকদেও বলেন, রোহিঙ্গাদের কারনে বাংলাদেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে বেশি ক্ষতি হয়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যেও, যা পূরন করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের কারনে বন গেছে, গাছ নেই, পশুপাখি সহ ধ্বংস হয়েছে জীববৈচিত্র্য, ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বন্য হাতি। এখন নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে পানির সংকট। প্রায় ১০ হাজার গভীর নলকুপ থেকে প্রতিদিন পানি তোলা হচ্ছে। ফলে পানির স্তর ক্রমান্বয়ে নিচে নামছে, আর বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে পানি সংকট। পানি সংকটের কারনে আগামিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সবকিছু মিলে উখিয়া টেকনাফ এখন মরুভুমিতে পরিনত হচ্ছে। এমনিতে বড় ক্ষতি হয়েছে, তাই এখন নতুন করে আর কোন হিসাব গুনতে চাইনা। রোহিঙ্গাদের জন্য আর এক ইঞ্চিও বনভূমি দেয়া হবেনা।
পাহাট কাটা নিয়ে তিনি বলেন, আর যারা পাহাড় কাটবে তাদের রেহাই নেই। এনজিওরা পাহাড় কাটায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা পুরণ করা আসলে সম্ভব নয় উল্লেখ করে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বন বিভাগের পাহাড় ধ্বংস করে যেভাবে বসতী স্থাপন করা হয়েছে এ অবস্থায় বনায়ন করাও সম্ভব নয়। তার পরেও কিছু বিশেষজ্ঞ দিয়ে ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর এখানে ১০হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার একর বন ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সাথে জীববৈচিত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নির্দিষ্ট স্থানে ৬৩টি হাতি রয়েছে। এসব হাতির চারিদিকে গড়ে উঠেছে রোহিঙ্গা বসতি। তাই হাতিগুলো বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এসব হাতি সুরক্ষার। বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য করিডোর উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ৮ম সংসদীয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে- রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কি পরিমান পরিবেশের উপর প্রভাব পড়েছে এবং ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপনের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি আগামি নভেম্বর মাসে তার প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের তাগাদা দিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, একটু সচেতন হলে সৈকতের পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব। এছাড়া কক্সবাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, সড়কের উন্নয়ন জরুরী। সরকার পরিবেশ সুরক্ষার উপর খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে। পাহাড় কাটা,
বন ধ্বংস করা সহ নানাভাবে পরিবেশ ধ্বংস করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিবেশ সুরক্ষা হলেই মানুষসহ সমস্ত প্রাণীকুলের সুরক্ষা হবে। রোহিঙ্গারের নিজ দেশে ফিরিয়ে দিয়ে বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ৮ম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, স্থায়ী কমিটির সদস্য জাফর আলম এমপি, রেজাউল করিম বাবলু এমপি, বেগম খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এমপি, জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন। উক্ত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, উপসচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
এর পুর্বে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঢাকা থেকে বিমান যোগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। ক্যাম্পে পৌঁছার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দলটি বৈঠক করেন। এরপর কুতুপালং মধুরছড়া এলাকার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তারা।

দেশবিদেশ/নেছার

Comments

comments

Posted ১:২৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com