বুধবার ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

১টি মসজিদ ও ৩০ ঝুপড়ি পুড়ে ছাঁই

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

শফিক আজাদ,উখিয়া   |   বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে ১টি মসজিদ সহ ৩০টি ঝুপড়ি ঘর পুড়ে ছাঁই হয়েছে। এই অগ্নিকান্ডে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এসময় আগুন নেভাতে গিয়ে ৪জন রোহিঙ্গা নাগরিক আহত হয়েছে। তাদেরকে স্থানীয় রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে।
বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১ টার দিকে উখিয়ার কুতুপালংয়ের-৫ নাম্বার ক্যাম্পে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ইমদাদুল হক জানান, অগ্নিকান্ডের খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে কাজ শুরু করে প্রায় দেড় ঘন্টার ব্যবধানে নিয়ন্ত্রনে আনে। এসময় বৃদ্ধাসহ ২জন রোহিঙ্গা আহত হয়েছে। ক্যাম্পে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুণের সুত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ১টি ক্যাম্পের মসজিদ ও ৩০টি রোহিঙ্গার ঝুপড়ি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ নুর জানিয়েছেন, বিভিন্ন এনজিও সংস্থা দেওয়া গ্যাস সিলিন্ডার এখনো অধিকাংশ রোহিঙ্গা ব্যবহার করতে জানেনা। যার কারনে দুর্ঘটনা ঘটছে। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে সংঘঠিত অগ্নিকান্ডে ১টি মসজিদ ও ৩০টি রোহিঙ্গার ঘর ছাড়াও বেশ কিছু রোহিঙ্গার ঝুপড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উখিয়ার থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, ‘দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আগুন নেভাতে গিয়ে এক বৃদ্ধাসহ চার রোহিঙ্গা আহত হয়েছে। ক্যাম্পে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন,‘রোহিঙ্গা শিবিরের পুলিশ ফাড়ির ট্যাংকিতে প্রচুর পরিমাণ পানি ছিল, তা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া ফায়ার সার্ভিসও ছিল। আগুনে একটি মসজিদসহ ৩০টি ঝুপড়ি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হন। যার প্রেক্ষিতে বড় ধরনের দুঘর্টনা থেকে রক্ষা পান রোহিঙ্গারা। তবে যে সমস্ত ঘর গুলো পুড়ে গেছে তাতে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার সেনাদের অভিযানের মুখে পড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাফনদী পেরিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের পাহাড় ও বন কেটে আশ্রয় নিয়েছেন। এর আগে ৪ লাখের মত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সব মিলিয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। এসব রোহিঙ্গাদের অধিকাংশ এখন গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছে।

Comments

comments

Posted ১:২৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com