• শিরোনাম

    রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরিন দ্বন্দে বিব্রত প্রশাসন

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে

    রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে

    প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় উখিয়া টেকনাফের ৩০ টি ক্যাম্পে আশ্রীত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস দীর্ঘায়ীত হলেও ভাত কাপড় চিকিৎসা নিয়ে তাদের ভাবতে না হলেও তারা জড়িয়ে পড়ছে নানা প্রতিহিংসামুলক সহিংস অপরাধ প্রবনতায়। বিশেষ করে অধিপাত্য বিস্তার, চাঁদাবাজী, মাঝিদের মেেধ্য ত্রানের ভাগ ভাঠোয়ারা নিয়ে বিরোধ, পূর্ব শক্রতার জেরসহ অভ্যান্তরিন দ্বন্দে অপহরন,খুন, ধর্ষন, হত্যার চেষ্টা প্রভৃতি সহিংস ঘটনা দিন দিন বাড়তেই থাকছে। রোহিঙ্গাদের এমন আচারন নিয়ে ভাবিয়ে তোলেছে প্রশাসনকে। গ্রামবাসীকে বসবাস করতে হচ্ছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা নিয়ে।
    উখিয়া টেকনাফ পুলিশের তথ্যমতে, গত ১ বছরে ৩০টি ক্যাম্পে ২০ জন রোহিঙ্গা খুন হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অপরাধে প্রায় শতাধিক অভিযোগ তদন্তনাধীন রয়েছে। ক্যাম্পে সহিংসতা প্রতিরোধে পালাক্রমে পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও রোহিঙ্গাদের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। যা নিয়ে প্রশাসনকে ভাবিয়ে তোলেছে। সর্বশেষ গত সোমবার ৩ সেপ্টম্বর সকাল ও বিকালে পৃথক অভিযান চালিয়ে হোয়াইক্যং চাকমারকুলের গহীন অরণ্যে থেকে পুলিশ ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাত্ত গলাকাটা জখম অবস্থায় ৬ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে। আহত রোহিঙ্গাদের দুইজনকে উখিয়ার মালেশিয়ার হাসপাতালে অন্যান্যদের চাকমারকুল স্যাভ দ্যা সিলড্রেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ৬জন রোহিঙ্গাদের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্প থেকে অস্ত্রধারী রোহিঙ্গারা অপহরন করে হত্যার উদ্দেশ্য আটকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
    টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিত কুমার বড়–য়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোয়াইক্যং চাকমারকুল পাহাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুপিয়ে জখম করা কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের আব্দুল গফুরের ছেলে মোঃ আনোয়ার (৪০), কুতুপালং ক্যাম্পের শফিক হোছনের ছেলে নুরুল আলম (৪৫), বালুখালী ক্যাম্পের জামাল মোস্তফার ছেলে মোঃ খালেক (২২)কে উদ্বার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যও ভিত্তিতে ওই দিন বিকাল ৩ টার দিকে একই এলাকার আরো গভীওে হত্যার উদ্দেশ্য আটকিয়ে রাখা বালুখালী ক্যাম্পের ছৈয়দ হোসনের ছেলে জামাল মো¯তফা(২৮), মাহমুদুর রহমানের ছেলে সোলাইম্যান (২০), জামাল হোছাইনের ছেলে নুরুল আমিন (৩০) কে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গারা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাদেরকে হত্যার উদ্দেম্য উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে অপহরন করা হয়েছিল। তবে করা অপহরনের সাথে জড়িত তা তারা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি।
    এর আগে ৩১ আগষ্ট শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকের রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তের গুলিতে মোঃ আবু ইয়ছির (২২) নামের এক রোহিঙ্গা যুবক ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। এর আগের দিন ৩০ আগষ্ট উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের মাঝে ব্যাপক সংঘর্ষ হলে ক্যাম্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বালুখালী ক্যাম্পের হেড মাঝি লালু মিয়া জানান, গত ১৬ আগষ্ট সন্ধা ৭ টার দিকে বালুখালী শিয়াল্লা পাড়ার প্রধান সড়কে সিএনজি থামিয়ে রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা আরিফুল্লা মাঝিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিত কুমার বড়–য়া জানান, ৬ জন রোহিঙ্গা হত্যা চেষ্টার দায়ে জাবেদ মাঝি বাদী হয়ে অজ্ঞতানামা রোহিঙ্গাদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে। তিনি জানান, গত ৬ মাসে টেকনাফের ১০ টি ক্যাম্পে ১০/১২ জন রোহিঙ্গা খুন হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে প্রায় অর্ধশত অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, গত ১ বছরে উখিয়ার ২০টি ক্যাম্পে প্রায় ১০ জন রোহিঙ্গা তাদের অভ্যন্তরিন কোন্দলে খুন হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির সভাপতি গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, রোহিঙ্গাদের সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলছে। এসবের বিরোদ্ধে কথা বলতে গেলে মামলা খেতে হয়। যে কারনে রোহিঙ্গাদের বহুমুখী অপরাধ প্রবনতা সম্পর্কে ব্যাখ্য দিতে তিনি অপরাগত প্রকাশ করেন।

    দেশবিদেশ /০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ