রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

রোহিঙ্গা ক্যাম্প অপরাধের স্বর্গরাজ্য

  |   বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট ২০২১

রোহিঙ্গা ক্যাম্প অপরাধের স্বর্গরাজ্য

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ :

 জড়াচ্ছে নানা অপরাধ কর্মকা-ে
 ইয়াবা-আইসের নিরাপদ আস্তানা
 শ্রমবাজারের দখলে রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গা ঢলের চার বছর পূর্ণ হলো গতকাল ২৫ আগস্ট। ২০১৭ সালের এই দিনের পাশের দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জের ধরে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা। প্রাণে বাঁচতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঠাঁই হয়েছিল কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ে। নতুন ঢলে আসা ও পূর্বে কয়েক দফায় আসা রোহিঙ্গা মিলে উখিয়া-টেকনাফে এখন প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। রোহিঙ্গা আগমণের গত চার বছরে দুই দফা উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল প্রত্যাবাসনের। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নানান শর্ত ও অজুহাতে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হয়।

বাংলাদেশে প্রথম ১৯৭৮ সালে রোহিঙ্গারা শরণার্থী হয়ে আসে। এসময় মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে আসা প্রায় সাড়ে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজার ও বান্দরবন জেলায় আশ্রয় নেয়। ১৯৯২ সালে মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন চালালে সে বছর আড়াই লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়। ২০১২ সাল ও ২০১৬ সালেও বাংলাদেশে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের আগে পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লাখের বেশি। ২০১৭ সালের আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে ঢুকেছিল সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ লাখের অধিক। সেখানে সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪ টি ক্যাম্পে। বাকিরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবে ক্যাম্পের বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভোটার তালিকায় নাম উঠিয়ে নিজেরা বাংলাদেশী নাগরিক পরিচয় দিচ্ছে।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের কবে দেশে ফেরত পাঠানো হবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সময় এখনো জানা নেই কারো। দুই দফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর এখন আর রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত পাঠানোর কোন উদ্যোগ নেই। এরই মাঝে রোহিঙ্গারাও স্বদেশে ফেরার কথা অনেকটা ভুলে গেছেন। তারা দেশে ফেরার চেয়ে বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়ার চিন্তায় মগ্ন। তাই তারা নানান অজুহাত দেখিয়ে বারবার প্রত্যাবাসনের পরিবর্তে বাংলাদেশে থাকতে বিশ্বসম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর অনুকম্পার দারস্থ হচ্ছেন।

উখিয়া ও টেকনাফের দুই উপজেলায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশির ভাগ রোহিঙ্গা স্বদেশে ফেরত যেতে অনাগ্রহী। তাদের কেউ কেউ মিয়ানমারে ফেরত যেতে হবে এ কথা যেন ভুলে গেছেন। তারাও ভরসা করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রাখতে সাধ্যমতে চেষ্টা করবে এবং তাদের পাশে থাকবে। তবে এত বিপুল রোহিঙ্গা শরণার্থীর মধ্যে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই এমন রোহিঙ্গার সংখ্যা হাতেগোনা। কিন্তু বেশির ভাগ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী হওয়ায় যারা ফিরতে আগ্রহী তারা মুখ খুলতে পারেনা অন্যদের ভয়ে।

উখিয়ার থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বয়োবৃদ্ধ রোহিঙ্গা আজম উল্লাহ বলেন, আমার জন্মস্থান মিয়ানমার, বাপ দাদার কবর সেখানে। শরণার্থী জীবন আর ভালো লাগছেনা। নিজ দেশে ফিরতে মন চাইছে। জন্মভূমিতে মরতে চাই। যত দ্রুত ফিরতে পারি ততই আমাদের জন্য এবং রোাহিঙ্গা জনগোষ্টির জন্য কল্যানজনক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, কথাগুলো বেশিরভাগ রোহিঙ্গাকে আমরা বুঝাতে পারিনা।

প্রত্যাবাসনে নারাজ কেন রোহিঙ্গারা ?

নিজ দেশ, বাপদাদারও জন্মভূমি রাখাইন, তবু দেশে ফিরে যেতে অনীহা কেন রোহিঙ্গাদের। এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে ঘুরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সাধারণ রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সাদামাটা চিন্তা ধারণা থেকে শুধুই বাংলাদেশে থাকতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের এ অংশটির ধারণা, তারা বাংলাদেশে থাকলে বিনা পারিশ্রমিকে বছরের পর বছর ঘরে বসে খাদ্য, চিকিৎসা থেকে মানবিক সব সাহায্য পাবে। মিয়ানমার ফিরে গেলে অনেকের ভাগ্যে হয়তো তা ঝুটবেনা।

টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নারী ছমুদা বেগম বলেন, মিয়ানমার ফিরে গেলে আমাদের কষ্টে দিনযাপন করতে হবে। সেখানে আমাদের আয় রোজগারের সুযোগ থাকবেনা। এখানে আমরা ঘরে বসে খাবার, চিকিৎসা সবই পাচ্ছি। আমাদের এই আরাম আয়েশের জীবন ছেড়ে কেন আবার মিয়ানমার ফেরত পাঠানোর কথা উঠছে বুঝছিনা।

ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের একটি অংশ মিয়ানমারে ফিরে গেলে নিরাপত্তা শঙ্কায় থাকে। তাদের ধারণা, ২০১৭ সালের সহিংসতায় তারা অনেকে মা, বাবা, সন্তান সহ অনেক আত্মীয় স্বজনকে হারিয়েছে। তাই শর্ত ছাড়া মিয়ানমার গেলে তাদের যদি আবার কখনো অতীতের ভয়ানক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় তাহলে হয়তো তাদের অস্তিত্বই সংকটে পড়তে পারে।

যেমনটি বলেছিলেন, উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা যুবক আলী আহমদ, ‘মিয়ানমার সরকার সহজে আমাদের মেনে নেবেনা। আমাদের নাগরিকত্ব ও ভিটেমাটি ফেরত দেবেনা। সেখানে আবারো আমাদের শরণার্থী হয়ে পাঠানো আমাদের জন্য হুমকি হবে। মিয়ানমার সরকারকে আমরা আর বিশ্বাস করতে পারিনা। ফেরত নিয়ে কখন যেন তারা আমাদের উপর আবারো হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে এ আশঙ্কা থেকে আমরা মুক্ত নয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তৃতীয় একটি শক্তিশালী গ্রুপ রয়েছে যারা শুধুই নিজেদের স্বার্থে, নিজেদের অর্থ বৈভব বাড়াতে মিয়ানমার ফিরে যাওয়ার চরম বিরোধীতা করছেন। তারা অনেকটা ক্যাম্পের মাফিয়া প্রকৃতির লোক। তাদের হাতে কোটি কোটি টাকা, সোনা-গয়না, তারা মাদকের সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক এবং উগ্রপন্থি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্বদাতা। ক্যাম্পে এ প্রকৃতির রোহিঙ্গা সংখ্যা বছরে বছরে বাড়ছে। মিয়ানমার ফিরে গেলে তাদের মাফিয়াগিরি, মাদক কারবার, সোনা চোরাচালান, অস্ত্রবাজি ও কোটিকোটি টাকা কিছুই থাকবেনা। মিয়ানমারে তাদের সাধারণ রোহিঙ্গার মতো কঠোর বিধিনিষেধের গন্ডিতে চলতে হবে। রোহিঙ্গাদের এ অংশটি প্রত্যাবাসন বা রোহিঙ্গাদের স্বদেশ ফেরতের ঘোর বিরোধী। শুধু তাই নয়, প্রত্যাবাসন ইস্যু সামনে আসলে তারা নিজেদের লোক দিয়ে সাধারণ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাজি না হতে বা কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভন্ডুল করতে আগে থেকে নির্দেশনা দেয়। সাধারণ রোহিঙ্গারা তাদের কথা মতো না চললে ভয়ানক পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়।

প্রত্যাবাসন বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শাহ রেজওয়ান হায়াত জানান, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হচ্ছে আমাদের শেষ লক্ষ্য। তখনই চুড়ান্ত সাফল্য আসবে, যখন তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি চলমান, বিষয়টি পরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দেখছেন। সব টিক টাক করে যখন আমাকে দিন ধার্য্য করে দিবেন, তখনই সকল লজিস্টক দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাঠানোর দায়িত্ব আমার।’

স্থানীয়দের ক্ষোভ :

এদিকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফেরত পাঠানোর কোন তড়িৎ উদ্যোগ না থাকায় বাংলাদেশীদের মধ্যে দিনদিন ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। তাদের মতে রোহিঙ্গাদের বসবাসের কারণে বিশেষ করে কক্সবাজারে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। রোহিঙ্গারা দিনদিন সহিংস, সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে। হত্যা, অপহরণ, ডাকাতি, ধর্ষণ, মাদক পাচার থেকে শুরু করে এমন কোন অপরাধ নেই যা রোহিঙ্গারা করছেননা।

হ্নীলা এলাকার বাসিন্দা কলেজ পড়–য়া ইমাম হোসাইন বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফিরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তি নেই। উখিয়া- টেকনাফে তারা একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে। কখন কাকে অপহরণ করে পাহাড়ে তুলে নিয়ে যায় তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা সহ বেশ কয়েকটি নৃশংস হত্যাকা- সংঘটিত করেছে রোহিঙ্গারা। তাদের প্রত্যাবাসন না হলেও অন্তত উখিয়া টেকনাফ এলাকা থেকে সরানো দরকার।

কক্সবাজারের ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যা¤েপ প্রতিদিন কোন না কোন ক অপরাধ কর্মকান্ডের খবর পাওয়া যায়। এপিবিএন ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের অপরাধ কর্মকা- দমনে কাজ করছে। আমারা ইতোমধ্যে মাদক, অস্ত্র উদ্ধারসহ অনেক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করে আইনের আওতায় এনেছি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।

ইয়াবা ও আইসের আড়ত :

উখিয়া ও টেকনাফের বেশির ভাগ ক্যাম্প এখন সর্বনাশা মাদক ইয়াবার আড়তে পরিণত হয়েছে। এছাড়া নতুন ভয়ঙ্কর মাদক ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের চালানও সরবরাহ হচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প অধ্যুষিত উখিয়া ও টেকনাফের এলাকাগুলো মিয়ানমার সীমান্তবর্তী হওয়ায় সহজে ইয়াবার চালান ঢুকে পড়ছে ক্যাম্পে। ক্যাম্পে রয়েছে ইয়াবার বড় ডিলার। সেখানে মজুদদারির পর এসব মাদক দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। গত ৪ মার্চ দুই কেজি ওজনের ক্রিস্টাল মেথ বা আইস উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটেছে টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এ ছাড়া আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে উদ্ধার হচ্ছে ইয়াবা।

ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবা ও আইসের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা স্বর্ণ চোরাচালানেও নিজেদের জড়িয়েছে। গত ৯ আগস্ট তুমব্রু সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৪৭০ ভরি ওজনের স্বর্ণের ৩৩ টি বারসহ এক রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে। ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের কাছে স্বর্ণ পাচার এখন অনেকটা নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা।

উখিয়ার বালুখালী এলাকার বাসিন্দা নুরুল হাসন বলেন, উখিয়া ও টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে কিছু কিছু পয়েন্ট দিয়ে হেঁটে সীমান্ত পার হওয়া যায়। এই সুযোগে রোহিঙ্গা মাদক কারবারিরা সীমান্তে দায়িত্বরত বাহিনী সদস্যদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সুযোগবুঝে ইয়াবার বস্তা কাঁধে নিয়ে হেঁটেই বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে বিজিবি সীমান্তে ইয়াবা পাচারকালে বেশ কয়েকবার রোহিঙ্গাদের বড় চালানসহ আটক করতে সক্ষম হয়। এরপরও দীর্ঘ সীমান্ত পথে পাচারকারীদের জন্য অনেক ফাঁক থেকে যায়।

টেকনাফ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাস্টার জাহেদ হোসেন বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা ইয়াবা কারবার থেকে অনেকটা সরে আসছিল। এখন ইয়াবার বড় গোদাম কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক মাদক কারবার থামানো গেলে টেকনাফ ও উখিয়ায় ইয়াবার বদনাম অনেকটা ঘুচবে।

শ্রমবাজারের দখল :

রোহিঙ্গারা গত চার বছরে বাংলাদেশে আশ্রয়ের সুযোগে ক্যাম্পের বাইরে স্থানীয় শ্রমবাজারে নিজেদের দখল পাকাপোক্ত করেছে। এতে স্থানীয় শ্রমিকরা কদরহীন ও বেকার হয়ে পড়ছে। রোহিঙ্গা শ্রমিকরা বাইরে কাজ করাকে তাদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে বেঁচে নেয়ায় স্থানীয় শ্রমিকদের তুলনায় অনেক কম মুজুরী নেয়। এতে কাজদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও স্থানীয় শ্রমিকের পরিবর্তে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের কাজে বেছে নেয়।

ক্ষেতের শস্য চাষ, মাছধরা, রিক্সা চালানো, কাঠ মিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রির কাজের বাজার রোহিঙ্গা শ্রমিকরা অনেকটা নিজেদের দখলে রেখেছে। এমনকি টেকনাফের স্থলবন্দরে পন্যখালাসসহ যাবতীয় কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের। এতে স্থানীয় শ্রমিকরা পাত্তাই পাচ্ছেনা।

টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার দিনমজুর আবুল কালাম বলেন, আগে দিনমজুরী করে সংসার চালাতাম। এখন আমাদের কোন কাজ কাম নেই বললে চলে। রোহিঙ্গারা সব নিজেদের দখলে নিয়ে নিচে। আমরা যেখানে দৈনিক পাঁচশত টাকা মজুরীতে কাজ করি সেখানে রোহিঙ্গারা দুই’শ বা তিন’শ টাকায় কাজ করছে। কাজের জন্য প্রতিদিন শতশত রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বের হচ্ছে।

এডিবি/জেইউ।

Comments

comments

Posted ২:১৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com