• শিরোনাম

    বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা

    রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইয়াবা পাচারের নিরাপদ আস্তানা

    রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া | ২৬ আগস্ট ২০২০ | ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

    রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইয়াবা পাচারের নিরাপদ আস্তানা

    উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলছে। বিশাল এলাকা জুড়ে অসংখ্য ঝুপড়ি হওয়ার সুবাধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান চালিয়েও অপরাধীচক্রদের শায়েস্তা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ সুবাধে ইয়াবার চালান ও পাচারের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এ রোহিঙ্গা ক্যাম্প। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এসব অপরাধের সাথে সরাসরি জড়িত। গত সোমবার কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ সাগরে অভিযান চালিয়ে ১৩ লক্ষ ইয়াবা সহ দুইজন রোহিঙ্গা নাগরিককে হাতে নাতে আটক করার ঘটনায় প্রমাণিত হয়, রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে মিয়ানমারের তৈরি ইয়াবা এদেশের বিভিন্ন স্থানে অভিনব কায়দায় পাচার হচ্ছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গত তিন বছরে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড সনাক্ত ও গ্রেপ্তার পূর্বক প্রায় ৩শতাধিক মামলা করেছে বলে জানা গেছে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে খুন, ডাকাতি, মাদক ও মানবপাচার, ধর্ষন, অপহরণ, অস্ত্র ও সহিংষতা।
    র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্ণেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার গণমাধ্যমকে জানান, গত ২৩ আগষ্ট রোববার বিকাল ৫ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজর মাঝিরঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মাছ ধরার বোটসহ ১৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে। এসময় আটক করা হয় মোঃ বিল্লাহ (৪৫) ও মোঃ আয়াছ (৩৮) সহ দুইজন রোহিঙ্গা নাগরিক। অপারেশনস অফিসার এটিকে ইয়াবা পাচারের সবচেয়ে বড় চালান বলে আখ্যায়িত করেছেন। কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে। ফলে চলতি বছরে ২০ জানুয়ারি থেকে ২০ জুন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৪০৯ ইয়াবা ও ১৮৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তার মধ্যে শুধু ক্যাম্প থেকে ৫ লাখ ৪১ হাজার ৭৪২ ইয়াবাসহ ৬৫ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেন।
    রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘনবসতি এলাকা হওয়ার কারণে অপরাধীরা সেখানে নিরাপদে অবস্থান করতে সক্ষম হয় এবং কিছু কিছু ক্যাম্প পাহাড় ও জঙ্গল সংলগ্ন হওয়ার সুবাদে খুনি, ডাকাত ও অপহরণকারী রোহিঙ্গারা দিনের বেলায় জঙ্গলে আশ্রয় নিলেও রাতে ক্যাম্পে চলে আসে। চালায় বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা ও সহিংষতা। পাশাপাশি ইয়াবা লেনদেন ও মজুদ করে থাকে একটি শক্তিশালী রোহিঙ্গা ইয়াবা পাচারকারী সিন্ডিকেট। উখিয়া টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে চলতি বছরের জুলাই থেকে দায়িত্ব পালণ করছে পুলিশের বিপরীতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর সদস্যরা। এর আগে সেখানে জেলা পুলিশ দায়িত্বে নিয়োজত ছিল বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। গত জুলাই মাসে ক্যাম্পে দায়িত্বরত ১৬ এপিবিএন পুলিশ সদস্যরা মাদক ও অস্ত্রসহ ১৬ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে সাড়ে ৩ হাজার ইয়াবা, ৩টি অস্ত্র ও ৩০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে।
    এব্যাপারে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) হেমায়েতুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করছি গত এক মাস ধরে। প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ কর্মকান্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে তা নয়। বিভিন্ন সহিংষ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও মামলা দায়ের করা হচ্ছে। সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের দমনে এপিবিএন পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে ঝুকিপূর্ণ ক্যাম্প এলাকাগুলোতে।
    স্থানীয়দের তথ্য মতে, ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড় ঘিরে সংঘবদ্ধ ডাকাত বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। জকির ও হাকিম ডাকাতের নেতৃত্বে অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ ডাকাতদল টেকনাফের নাইট্যংপাড়া, হোয়াইক্যং, মিনা বাজার, শালবন, মনখালী, চোয়াংখালী, ছেপটখাঅলী, মাদানবনিয়া গভীর জঙ্গলে আস্তানা ঘেরে ধারাবাহিক ডাকাতি করে যাচ্ছে। এছাড়া টাকা ওয়ালা বিত্তশালী রোহিঙ্গাদের ধরে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপন আদায় করছে। এমনকি তারা মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আসা ইয়াবার বড় বড় চালান ও সংরক্ষণ করে থাকে। এসব ইয়াবা সাগর পথে মাছ ধরার ট্রলারে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। চলতি বছরে জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত টেকনাফ বিজিবি বিভিন্ন সময়ে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩২ লাখ ৮৬ হাজার ইয়াবা সহ ১৩২ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে থানায় সোপর্দ্দ করে।
    টেকনাফ ২ বিজিবি’র অধিনায়ক লে.কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান সাংবাদিকদের জানান, সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের অতিরিক্ত সর্তকতা অবলম্বণের কারণে ইয়াবা পাচারের ধারাবাহিকতা একটু হ্রাস পেয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের কারণে ইয়াবা পাচার সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ রোহিঙ্গারা ইয়াবা কিভাবে সংগ্রহ করতে হয়, যেভাবে মিয়ানমারে যেতে হয় এবং সেখান থেকে ইয়াবার চালান সংরক্ষণ করতে হয় তা সেব্যাপারে তারা পুরোপরি অভিজ্ঞ। যে কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে ইয়াবার প্রচলণ একটু বেশি। তবে সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অবলম্বণ করে বিজিবি শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ