• শিরোনাম

    নুর মোহাম্মদ বাহিনীর হাতে এযাবত দেশে ফিরতে ইচ্ছুক ২২ রোহিঙ্গা নিহত

    রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ দেহরক্ষী সহ ধরা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

    রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ দেহরক্ষী সহ ধরা

    শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছে টেকনাফ সীমান্তের দুর্ধর্ষ সেই রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দ্দার নুর মোহাম্মদ (৪২)। ধরা পড়েছে নুর মোহাম্মদ ডাকাতের দেহরক্ষী আমানুল্লাহও। জালে আটকা পড়া নুর মোহাম্মদ জীবন বাঁচাতে কোটি টাকার অপারও দিয়ে ব্যর্থ হয়। নরপিশাচ এই রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ। এই বাহিনীর হাতেই গত দুই বছর সময়ে একে একে ২২ জন নিরীহ রোহিঙ্গার প্রাণ গেছে। সেই সাথে টেকনাফের যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক সহ আরো বেশ ক’জন স্থানীয় লোকও হত্যার শিকার হয়েছেন।

    নির্মমতার শিকার এসব নিরীহ রোহিঙ্গাদের সবাই দেশে ফিরতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে আলেম-ওলামার সংখ্যাই বেশী। রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর জন্যই কসাই নুর মোহাম্মদ বাহিনী দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এক একজন রোহিঙ্গাকে নিরবে ধরে নিয়ে পাহাড়ে নিয়ে মাটি চাপা দিয়েছে।
    এতদিন নুর মোহাম্মদ ডাকাতের নেপথ্যে প্রত্যাবাসন বিরোধী একটি শক্তি কাজ করেছে বিধায় তাকে ধরাও বেশ কঠিন ছিল। গত ২২ আগষ্ট প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাবার পর দেশের প্রশাসন যন্ত্রও শেষমেষ নড়েচড়ে বসার কারনেই নুর মোহাম্মদকে পাকড়াও করা সহজ হয়ে পড়ে। অথচ এতদিন ধরে নুর মোহাম্মদ ডাকাতদের নেপথ্যে কাজ করেছে প্রত্যাবাসন বিরোধী একটি শক্তিশালী চক্র।

    গত এক সপ্তাহ ধরে টেকনাফ থানা পুলিশ কৌশুল নিয়েছিল নুর মোহাম্মদ ডাকাতকে ধরার জন্য। শেষ পর্যন্ত পুলিশের নেয়া কৌশলেই গতকাল শনিবার ভোর রাতে ধরা পড়ে সীমান্তের এই দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া নুর মোহাম্মদ ডাকাত কত টাকার মালিক তার আরো একবার প্রমাণ মিলে-এই ডাকাত সর্দ্দারই শেষ মুহূর্তে ছাড়া পেতে টেকনাফ থানার ওসি’কে কোটি টাকার অপার দিয়েছিল।

    টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান-‘ গত ২২ আগষ্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাবার দিন রাতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে গ্রেফতার হওয়া নুর মোহাম্মদ ডাকাতের বাহিনীর সদস্যরাই খুন করে। সেই থেকে তাদের ধরার জন্য আমি নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি।’ তিনি জানান, এর আগেও যুবলীগ নেতা ওমর ফারুকের হত্যায় জড়িত তিন রোহিঙ্গা আটকের পর পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে। গ্রেফতার হওয়া নুর মোহাম্মদ এবং আমনুল্লাহ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটিরও এজাহার নামীয় আসামী।
    টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান-‘আমার ইউনিয়নের উলুচামিরা নামক পাহাড়ী এলাকায় ডাকাতদের কৌশলে ভোজের দাওয়াত দিয়েই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।’ তিনি বলেন, এসব রোহিঙ্গা ডাকাত একদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিরোধী কাজে জড়িত এবং অপরদিকে এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি ও ইয়াবা কারবারে জড়িত রয়েছে।

    এদিকে দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা নুর মোহাম্মদ ডাকাত বাহিনীর নেপথ্যে সীমান্তের সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত একটি শক্তিশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ইন্ধন দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে তদানীন্তন বিএনপি সরকারের আমলে নুর মোহাম্মদ ডাকাত রাখাইন থেকে পাড়ি দেয়ার পর টেকনাফের জাদিমুরা এলাকায় আশ্রয় নেয়। সেখানে বন বিভাগের সংরক্ষিত এলাকায় সে একে একে ৪ টি ঘর করে গড়ে তুলে তার আস্তানা।

    নুর মোহাম্মদ ডাকাতের রয়েছে তিন স্ত্রী। তার প্রথমা স্ত্রী হচ্ছেন স্থানীয় হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা ওয়ার্ড বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতা মোসতাক আহমদের কন্যা। পরবর্তীতে নুর মোহাম্মদ এক সাথে বিয়ে করে আরো দুইজন রোহিঙ্গা নারীকে। তারা দুইজনই আপন বোন। তার প্রথমা স্ত্রীর প্রথম কন্যাকে বিয়ে দেয় হ্নীলা ইউনিয়ন যুবদলের নেতা সেলিমের কাছে। এভাবে নুর মোহাম্মদ ডাকাত সীমান্তের একটি রাজনৈতিক শক্তিও হাতে নিয়ে আসে।

    এদিকে নুর মোহাম্মদ ডাকাত ধরা পড়ার পর এলাকাবাসী তার বাহিনীর অপকর্মের কথাও প্রকাশ করতে শুরু করেছে। নিহত যুবলীগ নেতা ওমর ফারুকের ভাই আমীর হামজা গতকাল বিকালে বলেন-‘ নুর মোহাম্মদ ডাকাত বাহিনীর কারনেই গত ২২ আগষ্টেও শালবাগান শিবিরের কোন রোহিঙ্গা প্রত্রাবাসন করতে পারেনি। এই ডাকাত বাহিনী শিবিরের উগ্রপন্থী আল ইয়াকিন গ্রুপের সদস্য। তাদের হাতে গত দুই বছরে ২২ জন নিরীহ রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে।’

    আমীর হামজা আরো বলেন, নিরীহ রোহিঙ্গারা দেশে ফিরতে চায়। কিন্তু আল ইয়াকিন গ্রুপ কোনভাবেই তাদের দেশে যেতে দিচ্ছেনা। এরকমই দেশে ফিরতে ইচ্ছুক ২২ জন রোহিঙ্গাকে পাহাড়ে নিয়ে হত্যার মাটি চাপা দিযে ফেলেছে। যার কোন প্রতিবাদও করতে পারছে না কেউ। প্রতিবাদ যে করবে তাকেও হত্যার শিকার হতে হবে। আমীর হামজা আরো বলেন, নুর মোহাম্মদ বাহিনীর হাতে তার ভাই ওমর ফারুক সহ এলাকারও বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

    শিবিরে ফিরেছে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ
    এদিকে রোহিঙ্গা নেতা এবং আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) সভাপতি মুহিবুল্লাহ গতকাল শনিবার রোহিঙ্গা শিবিরে ফিরেছেন। গতকাল দুপুর ১২ টা থেকে যথারীতি রোহিঙ্গা শিবিরে তার সংগটনের অফিসে সাংগটনিক কাজ করতে দেখা গেছে।
    এ বিষয়ে রোহিঙ্গা শিবিরের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ মাঈনুদ্দিন জানিয়েছেন-‘আমি তার বাসায় গিয়ে খোঁজ নিতে গেলে আমাকে জানানো হয়েছে, মুহিবুল্লাহ ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। তবে সকালে বাসায় ফিরে এসেছেন।’
    প্রসঙ্গত, বৃহষ্পতিবার রাতে তাকে সারকারি কোন সংস্থার লোকজন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান বলে বলা হয়েছিল।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ