• শিরোনাম

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু নভেম্বরের মাঝিমাঝি সময়ে

    রফিক উদ্দিন বাবুল / শফিক আজাদ,উখিয়া | ০১ নভেম্বর ২০১৮ | ১:৫১ পূর্বাহ্ণ

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু নভেম্বরের মাঝিমাঝি সময়ে

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের মিয়ানমারদলের নেতা ও সে দেশের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে সহ ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিল ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ক্যাম্পে পৌছে মিয়ানমার প্রতিনিধিদল সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। পরে কুতুপালং ডি-৫ ব্লকের একটি কমিউনিটি সেন্টারে শতাধিক নির্যাতিত রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সাথেও আলাপ করেন এবং তাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া মনযোগ দিয়ে শুনেন।
    এসময় নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে সনাক্তকৃত ৫হাজার রোহিঙ্গাকে প্রথম ধাপে ফেরত নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ-মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের নেতা ও সেদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে। এখান থেকে গিয়ে মিয়ানমার সরকারের সাথে আলোচনা করে বাদ বাকী রোহিঙ্গাদেরও পর্যায়ক্রমে ফেরত নেওয়ার কথা দেন মিয়ানমার পররাষ্ট্র সচিব। একই সাথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা, নাগরিত্ব সহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
    দুপুরে দেড়’টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৫ কমিউনিটি হলে রোহিঙ্গাদের সাথে আলাপ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব এই আশ্বাস দেন। এসময় জয়েন ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুল মান্নান, কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: আবুল কালাম, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন ও উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নিকারুজ্জামান সহ দু’দেশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
    গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনার পর প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ১৪ মাসের মাথায় দ্বিতীয় বারের মতো মিয়ানমারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত দু’দেশের জয়েন্ট ওয়াকিং গ্রুপের তৃতীয় বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদল আজ রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলতে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে প্রথমে ক্যাম্প কর্মকর্তা সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। পরে আশ্রয় নেয়া শতাধিক রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে মত বিনিময় করেন। রাখাইনের বিভিন্ন নির্যাতনের ঘটনার পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের শর্ত হিসাবে রোহিঙ্গাদেও বিভিন্ন দাবি দাওয়া তুলেন ধরেন। এসময় মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের নেতা মিন্ট থোয়ে তাদের দাবি দাওয়া মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং বিবেচনার আশ্বাস দেন। বৈঠকে রোহিঙ্গারা নেতারা জানিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্বসহ নিজেদের ভিটে বাড়ি ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করলে তারা মিয়ানমারের ফেরত যাবে না।
    মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের সাথে কথা বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নেতা আব্দুর রহিম (৪৫)। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ের সাথে আলাপ করেছি এবং রাখাইনে বর্বর নির্যাতনের কথা তুলে ধরেছি। এসময় আমরা বলেছি, আমরা মিয়ানমারের নাগরিক। আমাদের নাগরিকত্বেও স্বীকৃতি দিতে হবে। নিজেদের ভিটে বাড়ি ও জমিজমা ফেরত দিতে হবে। মিয়ানমারের যাওয়ার সময় ট্রানজিট ক্যাম্পে তিন দিনের বেশী রাখা যাবে না। এ কথা শুনার পর আমার প্রশ্নের কোন উত্তর দেয়নি’ তারা।
    রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহ বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবকে বলেছি আমাদের ফিরিয়ে নেয়ার আগে আকিয়াব শহরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত নিয়ে যান এবং রাখাইনে স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ করে দেন। এতে করে বাংলাদেশের রোহিঙ্গারা এমনিতে চলে যাবে’।
    রোহিঙ্গা নারী ছেকুফা বেগম বলেন, ‘পররাষ্ট্র সচিব আমাদের বলেছেন মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে প্রথমে ন্যাশনাল ইনভেষ্টিগেশন কার্ড (এনভিসি) কার্ড নিতে হবে। এতে বুঝা যায় মিয়ানমার আমাদের কিভাবে ফিরিয়ে নিচ্ছে। এরকম হলে আমরা কোনভাবেই বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে যাবো না’।
    একই কথা বলছেন, রোহিঙ্গা নেতা হামিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে রাখাইনে আন্তর্জাতিক কোন বাহিনীর নিরাপত্তায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মিয়ানমারের সংসদে সেদেশের ১৩৫টি জাতি গোষ্টির মত আমাদের মর্যাদা দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হবে। উত্তরে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব আমাদের বলেছেন, বিষয়টি মিয়ানমারের ফিরে গিয়ে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করতে হবে। এতে বুঝা যায় আমাদের মিয়ানমারের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে নাটক করছে। আমরা মিয়ানমারের মিথ্যা আশ্বাসে রাজি নয়’।
    মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের সাথে অন্যান্যদের মধ্যে কথা বলেছেন রোহিঙ্গা নেতা আমান উল্লাহ, দেলোয়ার সাদেক, ছৈয়দ উল্লাহ, মাষ্টার কামাল, নুরুল আলম সহ সিরাজুল মোস্তফা, মোহাম্মদ নুর, জামালিকা বেগম সহ শতাধিক রোহিঙ্গা নেতা ও নেত্রীরা। এসময় তারা মিয়ানমারের ভাষায় কথা বলেন।
    রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবি দাওয়ার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিন্ট থোয়ে আরো বলেন, তারা এখানে এসে রোহিঙ্গাদের কথা শুনেছেন এবং বেশ কিছু শর্ত দিয়েছেন। মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে সরকারের উর্ধ্বতন মহলে বিষয়টি জানাবেন। সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিং করার পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া হিন্দু রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সাথেও আলাপ করেন। তবে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের কোন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেননি।

    দেশবিদেশ /০১ নভেম্বর ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ