• শিরোনাম

    সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপে স্থানীয়দের সাধুবাদ

    রোহিঙ্গা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সহ ৪ জন প্রত্যাহার

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

    রোহিঙ্গা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সহ ৪ জন প্রত্যাহার

    শেষ পর্যন্ত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রশাসনে বড় ধরণের রদবদল হয়েছে। গতকাল সোমবার একদিনেই রোহিঙ্গা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম সহ ৪ কর্মকর্তাকে সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩ জন হচ্ছেন রোহিঙ্গা শিবিরের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি)। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন সুত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিলম্বে হলেও সরকারের নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পেরেছেন রোহিঙ্গা সমস্যাটি বাস্তবে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে গত দুই বছর সময়ে। স্থানীয়রা নানাভাবে গতকাল থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলছেন, সরকার যাদের উপর আস্থা এনে রোহিঙ্গা সমস্যাটির দায়িত্ব দিয়েছিল তারাই কিনা একদম নিরবে বহুদুরে ঠেলে দিয়েছে সমস্যাটিকে। এ সমস্যা থেকে ফিরে আসতেও সময় দরকার হবে অনেক-এরকমই মনে করেন লোকজন।

    এদিকে জনপ্রশাসন বিভাগ গতকালই দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক এবং সরকারের যুগ্ন সচিব মাহবুব আলম তালুকদারকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রশাসনে নতুন শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) নিয়োগ দিয়েছেন। সেই সাথে নিয়োগ দেয়া হয়েছে জনপ্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা এবং উপ সচিব মোঃ খলিলুর রহমান খানকে অতিরিক্ত আরআরআরসি হিসাবে। অপরদিকে কক্সবাজারের প্রত্যাহার হওয়া আরআরআরসি এবং অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালামকে বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে বিশেষ কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রত্যাহার হওয়া ক্যাম্প ইনচাজর্রা (সিআইসি) হচ্ছেন হলেন যথাক্রমে কুতুপালং ৩, ৪, ৫ ও ১৭ নম্বর ক্যাম্পের উপ সচিব শামীমুল হক পাভেল, ১৩ ও ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ সিনিয়র সহকারি সচিব আবদুল ওয়াহাব রাশেদ এবং বালুখালী ক্যাম্পের সহকারি ক্যাম্প ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম।
    প্রত্যাহার হওয়া আরআরআরসি সহ সরকারি এসব কর্মকর্তারা ২০১৭ সালের আগষ্ট পরবর্তী সময়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রশাসনে যোগ দিয়েছিলেন। সেই থেকে এসব কর্মকর্তারাই মানবতায় আশ্রয় নেওয়া এগার লক্ষাধিক রোহিঙ্গার দেখভাল করে আসছিলেন। অভিযোগ আছে, এই দুই বছর যাবত রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রশাসনের এসব কর্মকর্তারা স্থানীয় অন্য কোন প্রশাসনের কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি এবং সুশিল সমাজের প্রতিনিধির সাথেও কোন কিছু শেয়ার করারও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি।

    এ কারনেই গত দুই বছর ধরে বাস্তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কেবল এক তরফাভাবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রত্যাবাসন বিরোধী মনোভাব ছাড়া অন্য কোন ইস্যু তৈরি হয়নি। আলোচিত আরো একটি বিষয় হচ্ছে, দেশী-বিদেশী এনজিও এবং সংস্থার পক্ষে সমন্বয়কারি বানিয়ে একজন এনজিও কর্মীকে আরআরআরসি’র পার্শ্বে অফিস দিয়ে রোহিঙ্গায় খবরদারির কাজ শুরু করারও ব্যবস্থা করেছেন। এই এনজিও কর্মী গত ২২ আগষ্ট এবং ২৫ আগষ্টের লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশের পর থেকে কোণঠাসা হয়ে তার মোবাইল পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছেন।

    কক্সবাজারের রোহিঙ্গা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হচ্ছে, এই দুই বছর ধরে কেবল মাত্র দেশী-বিদেশী এনজিও এবং বিদেশী সংস্থার পরামর্শে রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বদল করা হয়েছে। কিন্তু কোন সময়েই প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাবার জন্য মোটিভেশনের কাজ করা হয়নি। এমনকি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো চলেছে এনজিওদের পরামর্শে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ‘সাইট ম্যানেজমেন্ট’ নামে পরিচিত একটি নতুন পদ্বতির মাধ্যমে ক্যাম্পের যাবতীয় কাজে এনজিওদের খবরদারি প্রথা চালু করে সরকারি কর্মকর্তাদের পর্যন্ত ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এমন দুর্বল পদ্বতির বিষয়টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে তুলে দিয়েছে বিদেশী সংস্থা এবং এনজিওদের হাতে।
    এভাবে টানা দুই বছর অতিবাহিত হবার পর সর্বশেষ গত ২২ আগষ্ট দ্বিতীয় দফার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়া থেকে শুরু করে ২৫ আগষ্টের রোহিঙ্গাদের লাখো সমাবেশ অনুষ্টানের পর সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে টনক নড়ে উঠে। সেই থেকে নানা সংস্থা দিয়ে গোপন তদন্তের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের পরই এ রকম ব্যাপক রদবদল করা হয় বলে জানা গেছে। এদিকে দীর্ঘদিন পর রোহিঙ্গা শিবিরের রদবদলে স্থানীয় সুশিল সমাজেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরকম রদবদলকে সরকারের ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আশা করছেন অনেকেই।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ