• শিরোনাম

    ইউএনএইচসিআর এবং আইওএম এর যৌথ বিবৃতি

    রোহিঙ্গ্যা সংকটে জাতিসংঘের ৯২০ মিলিয়ন ডলার আহ্বান

    বার্তা পরিবেশক | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

    রোহিঙ্গ্যা সংকটে জাতিসংঘের ৯২০ মিলিয়ন ডলার আহ্বান

    জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থা এবং সহযোগী এনজিওসমূহ রোহিঙ্গ্যা মানবিক সংকট মোকাবেলায় যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা-২০১৯ প্রকাশ করেছে । এই আবেদনটিতে প্রায় ৯,০০,০০০ রোহিঙ্গ্যা শরণার্থী এবং ৩,৩০,০০০ ক্ষতিগ্রস্থ বাংলাদেশী স্থানীয় জনগণের ব্যাপক প্রয়োজন মেটাতে ৯২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।
    এ বছরের অর্থ সহায়তার অর্ধেকের বেশি প্রয়োজন হবে সহায়তা এবং সেবা সমূহ যেমন খাদ্য ,বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ , পয়ঃনিষ্কাশন ও আশ্রয়ণের জন্য। আবেদনটিতে অন্যান্য প্রধান খাতগুলো হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা, সাইট ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষা কর্মসূচি , শিশু সুরক্ষা , যৌন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা কমানো , শিক্ষা এবং পুষ্টিসেবা ।
    ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের পর ৭,৪৫,০০০ রোহিঙ্গ্যা শরণার্থী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সহিংসতা এড়াতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে পূর্ববর্তী সহিংসতাগুলোর সময় পালিয়ে এসে কক্সবাজারে অবস্থানরত আরো ২,০০,০০০ রোহিঙ্গ্যা শরণার্থীর সাথে যোগ দেয়।
    বাংলাদেশী কতৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদারতা এবং সহযোগিতায়, সংকটপূর্ণ প্রয়োজন মেটানো এবং সেসময় অনেক জীবন রক্ষা পেয়েছে। বাংলাদেশী কতৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণ ছিলেন মূলত প্রথম সাড়াদানকারী ( ভরৎংঃ ৎবংঢ়ড়হফবৎ) ।
    বাংলাদেশ সরকার এবং মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলির সংহতিপূর্ণ অবস্থান ২০১৮ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
    “আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক আন্তোনিও ভিতোরিনো বলেন, “সামনের দিনগুলোতে আমরা এই মানুষগুলোর অতিবপ্রয়োজন মেটানোর অঙ্গীকার পুনঃব্যক্ত করছি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে আহ্বান জানাচ্ছি।”
    জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, ” আজকে আমাদের মানবিক আবশ্যিকতা হচ্ছে রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গ্যা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় প্রদানকারী স্থানীয়দের অবস্থা স্থিতিশীল রাখা। এই বছরের আবেদনটির লক্ষ্য পূরণে আমরা সময়মত, সুবিধাজনক ও আশাব্যঞ্জক অবদান প্রত্যাশা করছি। ”
    গ্র্যান্ডি আরো বলেন, ” কিন্তু আমরা যখন এইসব তাৎক্ষণিক মানবিক প্রয়োজন মোকাবেলা করছি তখন সমাধানের দিকে দৃষ্টি হারানো যাবে না । আমি আবারো মিয়ানমারের প্রতি দশক ধরে চলতে থাকা এই সংকটের মূল কারণগুলো নিরসনে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানাবো যাতে করে মানুষগুলো আর পালতে বাধ্য না হয় এবং শেষপর্যন্ত মর্যাদার সাথে নিরাপদে ফিরে যেতে পারে। আমরা এই অঞ্চলের এবং এর অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোকে বাংলাদেশের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে এবং মিয়ানমারকে স্বেচ্ছা , নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে সহায়তা করার জন্য উৎসাহিত করছি।”
    নুতন যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা একটি সামগ্রিক মানবিক প্রচেষ্টাকে তিনটি কৌশলগত উদ্দেশ্যর আকার দিয়েছে। এখানে ১৩২ সহযোগী সংগঠন, জাতিসংঘভুক্ত সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও দেশী এনজিও এবং সরকারীসংস্থাগুলোকে একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার মধ্যে এনেছে যার লক্ষ্য হচ্ছে শরণার্থী নারী , পুরুষ , বালক ও বালিকাদের সুরক্ষা সেবা প্রদান , জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদান এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করা।
    যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা ২০১৯ হচ্ছে এখন পর্যন্ত অর্জিত রোহিঙ্গ্যা শরণার্থীদের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তৃতীয় যৌথ মানবিক আবেদন। যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা ২০১৮-এর আওতায় ১২ মাসের বেশি সময় ধরে সাহায্য সংস্থাগুলো শরণার্থীদের আবাসস্থলগুলোতে অবস্থার উন্নতি ঘটাতে, মৌলিক সহায়তা প্রদান , ক্যাম্পে জীবনমান উন্নয়ন, মৌসুমী বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড় ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কাজ করেছে।
    বিকল্প জ্বালানী হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ( এলপিজি ) প্রদান শুরু করার ফলে জ্বালানী কাঠের চাহিদা কমায় রোহিঙ্গ্যা ঢলের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত প্রভাব কমতে শুরু করেছে।
    ২০১৭ সালের শেষের দিকের তীব্র অপুষ্টির প্রাদুর্ভাব-এর লেভেল কমতে শুরু করেছে , যেটা এখন কমে ১৯ থেকে ১২ তে নেমেছে, খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি হয়েছে , টিকাদান কর্মসূচি বৃদ্ধি পেয়ে ৮৯ শতাংশ হয়েছে , স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশু জন্মদান হার বেড়ে ২২ থেকে ৪৪ শতাংশে হয়েছে।
    এগুলো এবং অন্যান্য অর্জনগুলো ছাড়াও রোহিঙ্গ্যারা চরম নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে। এজন্য টেকসই সহায়তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত হবার মূল কারণসমূহ নিরসন হওয়া এবং নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে শরণার্থীরা ফিরে যাওয়া পর্যন্ত তাদের ও স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন মিটাতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সহায়তা প্?দান করা হবে।
    যেমন , সকল শরণার্থী জনগোষ্ঠি ২০১৮ সালের বর্ষা মৌসুমের সাথেই খাপ খাইয়ে নেবার জন্য জরুরী আশ্রয়ন কীট গ্রহণ করেছে । কিন্তু এখন আরো নিরাপদ ও শক্ত আশ্রয়ন প্রয়োজন।
    প্রায় ৮,৬০,০০০ জন নিয়মিত খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করছে। এখনপর্যন্ত ২,৪০,০০০ শরণার্থী সর্বনিম্ন প্যাকেজে যেমন চাল , ডাল এবং তেল এর বাইরে বৈচিত্রপূর্ণ খাদ্য পাচ্ছে। তাদের পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিশ্চিত করতে এই সহায়তাগুলো বর্ধিত করতে হবে। একইভাবে, নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন , স্বাস্থাসেবা , সুরক্ষা সেবাও গুরুত্বপূর্ণ।
    ২০১৮ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় আবেদনকৃত ৯৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এর বিপরীতে ৬৯ শতাংশ অর্থাৎ ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগৃহিত হয়েছিল।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ