• শিরোনাম

    র‌্যাবের অভিযানে একজন সার্ভেয়ার আটক

    ৩ সার্ভেয়ারের বাসা থেকে কোটি টাকা জব্দ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২:০৬ পূর্বাহ্ণ

    ৩ সার্ভেয়ারের বাসা থেকে কোটি টাকা জব্দ

    কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভুমি অধিগ্রহণ (এল,এ) শাখায় কর্মরত তিনজন সার্ভেয়ারের বাসায় পৃথক অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা নগদ প্রায় এক কোটি টাকা সহ বেশ কিছু সরকারি নথিপত্র জব্দ করেছে। অভিযানের সময় আটক হয়েছেন ওয়াসিম নামের একজন সার্ভেয়ার। এসময় ফেরদৌস ও ফরিদ নামের দুইজন সার্ভেয়ার পালিয়ে গেছেন।
    কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন গতকাল বিকালে সম্মেলন কক্ষে যখন জেলা প্রশাসন অফিসে কর্মরত চাকরীজীবিদের নিয়ে সবাইকে দুর্ণীতি-অনিয়মের উর্ধে থেকে দেশপ্রেম নিয়ে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দ্দেশনা দিচ্ছিলেন তখনই র‌্যাবের দুর্নীতি বিরোধী এ অভিযানটি চলানো হচ্ছিল বেপরোয়া সার্ভেয়ারদের বাসায় বাসায়।
    জানা গেছে জেলা প্রশাসন প্রতি সপ্তাহেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক সভা করে থাকেন। এসব সভা সমূহে জেলা প্রশাসক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূর্নীতির উর্ধ্বে থেকে জনগণকে সেবা দেয়ার জানিয়ে থাকেন।

    র‌্যাব- ১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের তিনটি স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মেজর মেহেদী হাসান বলেন, অভিযান অব্যাহত থাকবে।
    র‌্যাব সূত্রে আরো জানা গেছে, ভুমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার দলের ২ গ্রæপের উপর বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারি করা হচ্ছিল। সার্ভেয়ারের একটি গ্রæপ কাজ করছিল মহেশখালী দ্বীপের বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধিগ্রহণ করা প্রকল্পে এবং অপর গ্রæপের কাজ ছিল মেরিন ড্রাইভ সড়কে।
    এ প্রকল্প দুইটিতে অধিগ্রহণ করা জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানে সার্ভেয়ারগন ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। র‌্যাব সদস্যরা বুধবার বিকালে শহরের বাহারছড়া এলাকার সার্ভেয়ার ওয়াসিমের বাসা থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা এবং সার্ভেয়ার ফরিদের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৬০ লাখ ৮০ হাজার টাকা জব্দ করেন।
    অপরদিকে শহরের তারাবনিয়ার ছড়া এলাকায় সার্ভেয়ার ফেরদৌসের বাসায় অভিযান চালিয়ে আরো প্রায় ২৭ লাখ টাকা জব্দ করেন করা হয়। র‌্যাব সার্ভেয়ার ওয়াসিমকেও আটক করে অবৈধ উপায়ে আয়ের ৬ লাখ টাকা সহ।

    এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন জানিয়েছেন-‘ইতিমধ্যে অপকর্মের দায়ে কয়েক দফায় ১১ জন সার্ভেয়ার কে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। আমি প্রতি সপ্তাহে জমি অধিগ্রহণের চেকের টাকা ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে নিজেই তুলে দিই। এসময় চেক গ্রহিতাদের নিকট জন জন করে জানার চেষ্টা করে আসছি কাউকে কোন টাকা দেয়া হয়েছে কিনা।’

    জেলা প্রশাসক আরো বলেন, প্রতি সপ্তাহেই ষ্টাফদের নিয়ে সভা করা হয়। তাতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দূর্ণীতি থেকে দুরে থাকার বিষয়টি বলা হয়। এরপরেও যখন একজন সরকারি কর্মচারি কর্মস্থল বাদ দিয়ে নিজের বাসায় বসে আকন্ঠ দুর্ণীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে তখন দায়- দায়িত্ব তাদের নিজেদেরই। এসব কর্মচারিদের বিরুদ্ধে আইনত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    জেলা প্রশাসক আরও জানান, সার্ভেয়ারদের এসব দূর্ণীতির দায়-দায়িত্ব জেলা প্রশাসন কিছুতেই নিবেন না।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ