• শিরোনাম

    র‌্যাবের হাতে অস্ত্র সহ ধরা পড়া শাহেদকে নিয়ে ‘আইএসআই’ কানেকশনের সন্দেহ

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

    র‌্যাবের হাতে অস্ত্র সহ ধরা পড়া শাহেদকে নিয়ে ‘আইএসআই’ কানেকশনের সন্দেহ

    কক্সবাজারে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) এর হাতে আটক হওয়া অস্ত্র কারবারি মোঃ শাহেদুল ইসলামকে নিয়ে নানা সন্দেহ ঘুরপাক খাচ্ছে। দু’টি ওয়ান শ্যুটার গান নিয়ে সোমবার কক্সবাজার সদর উপজেলার বাংলাবাজার নামক এলাকায় আটক হন এই কারবারি। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে অস্ত্রগুলো কেনাবেচার সময় হাতে নাতে র‌্যাব সদস্যদের হাতে আটক হন তিনি। আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃত্ত। তিনি পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা-আইএসআই’র একজন চর বলেও পুলিশ সহ এলাকাবাসীর নিকট সন্দেহ ঘনীভুত হচ্ছে।
    কক্সবাজারের র‌্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্র সহ ধরা পড়ার পরই নানা সন্দেহজনক তথ্য তাদের নিকট আসতে শুরু করেছে। আটক হওয়া ব্যক্তির নাম মোঃ শাহেদুল ইসলাম (৩০)। এলাকায় শাহেদুল ইসলাম একজন রহস্য পুরুষ হিসাবে পরিচিত। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ডিপ্লোমাধারী শাহেদের বাড়ী কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর নাপিতখালী গ্রামে। তবে পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি বিএসসি ডিগ্রী নিয়েছেন। তার মা শাহেদা বেগম স্থানীয় একজন বিএনপি নেত্রী এবং সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার। শাহেদের বাবার নাম ফরিদুল ইসলাম ভেদু।
    অস্ত্রসহ আটক হয়ে সোমবারই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর পর পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা-আইএসআই কানেকশনের কথা ছড়িয়ে পড়ছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে ‘এমডি শাহেদ’ নামের আইডিধারী এ ব্যক্তি একজন কট্টর সরকার বিরোধী লোক হিসাবেই পরিচিত। সোমবার র‌্যাব তাকে অস্ত্রসহ কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তরের পর আতœীয় স্বজনের সাক্ষাৎ মিলে। এরপরই শাহেদের ফেসবুক আইডি’র সব তথ্য ডিলেট করে দেয়া হয়।
    এমনকি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলাটির তদন্তকারি কর্মকর্তা (আইও) উপ পরিদর্শক প্রদীপ দে জানান-‘মামলা দায়েরের পর পরই আটক ব্যক্তি শাহেদের ফেসবুক আইডি (এমডি শাহেদ) ডিলেট করার কথা শুনেছি। এমনকি শাহেদ যে কি রকম ধূর্ত তাও দেখেছি থানা হাজতের গেইটে আমার সামনে তার মা এবং খালার মোবাইল নিয়ে কাকে যেন বলছে, দ্রুত মেইলের তথ্য মুছে ফেলে দাও। জরুরি করার জন্য আরো যেন কিসব বলতেও শুনেছি।’
    তদন্তকারি কর্মকর্তা বলেন, সেই সময় তো মনে করেছি কেবল একজন অস্ত্র মামলার আসামী হয়েই তিনি এসেছেন। তাই বিষয়টি এমনভাবে সিরিয়াসলি নিইনি। কিন্তু এখন সময় যতই গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে আটক হওয়া অস্ত্রকারবারিকে নিয়ে সন্দেহের নানা কথা। তদন্তকারি কর্মকর্তা আরো বলেন, থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহেদের নিকট পাওয়া অস্ত্র বেদারের বলে জানিয়েছে। বেদার চকরিয়া উপজেলার শিকলঘাট অর্থাৎ চকরিয়া কলেজের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা। তিনি পাথর ও গাছ ব্যবসায়ী। র‌্যাব সদস্যরা রবিবার রাতে তার ঘরেও তল্লাশী চালিয়েছে।
    প্রসঙ্গত আটক শাহেদের নানা বাড়ীও হচ্ছে শিকল ঘাট এলাকায়। তার মামা জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা কায়সার হচ্ছেন লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। শাহেদ দীর্ঘদিন ধরেই অস্ত্র ব্যবসায় জড়িত বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন। তিনি উত্তর নাপিতখালী গ্রামে গত কিছুদিন ধরে একটি বহুতল বাড়ী নির্মাণেরও কাজ করছেন। ফেসবুকে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সরব থেকে সরকার বিরোধী প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। ইসলামপুর ইউনিয়নের একজন সাবেক চেয়ারম্যানও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আটক শাহেদের জন্য গোপনে তদবীর করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
    কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন-‘অস্ত্রসহ আটক ব্যক্তিকে নিয়ে বিলম্বে নানা স্পর্শকাতর তথ্য শুনা যাচ্ছে। তাই তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। এজন্য তাকে রিম্যান্ডে আনতে আদালতে আবেদন জানানো হবে।’ স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গেল বছরের আগষ্টে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে দলে দলে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর পরই পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সম্পৃত্ত লোকজনের আনাগোনা কক্সবাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি রোহিঙ্গা শিবির কেন্দ্রিকও নানা ছদœাবরণে এসব লোকজনের চলাচলের কথাও চাওর হয়ে রয়েছে এলাকায়।
    র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মোঃ মেহেদী হাসান জানান-‘ র‌্যাবের গোয়েন্দা সুত্রের খবর ছিল শাহেদ একজন অস্ত্র কারবারি। নির্বাচনকে সামনে নিয়ে কারবারি শাহেদের অস্ত্রের চালান পাচার করার আগাম সংবাদ ছিল র‌্যাবের কাছে।’ তিনি জানান, সোমবার র‌্যাব ওঁৎপেতে থেকে কক্সবাজার সদরের বাংলাবাজার রাস্তার মোড় নামক স্থান থেকে অস্ত্র সহ তাকে হাতে নাতে ধরে ফেলেন।
    কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খোন্দকার বলেন-‘ র‌্যাবের হাতে অস্ত্র সহ ধরা পড়ার পরই পুলিশের কাছে সোপর্দ্দ করা হয় কারবারি শাহেদকে। পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারগারে পাঠিয়ে দেয়।’ ওসি বলেন, অস্ত্র মামলায় আসামী শাহেদকে কারাগারে প্রেরণের পরই তাকে নিয়ে নানা সন্দেহজনক তথ্য শুনা যাচ্ছে। তবে ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক নারী মেম্বার ও আটক ব্যক্তি শাহেদের মা শাহেদা বেগম তার পুত্রকে নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ ডাহা মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার পুত্র অস্ত্র কারবারে জড়িতও নেই।
    আটক হওয়া ব্যক্তির ফেসবুক নিয়েও এলাকায় যথেষ্ট বিতর্কিত একজন ব্যক্তি তিনি। যা আটক হয়ে কারাগারে পাঠানোর পর শুনা যাচ্ছে বলে জানান তিনি। ওসি জানান, আটক ব্যক্তি যেহেতু বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার চর ছিলেন বলে প্রচারিত রয়েছে সেহেতু তাকে রিম্যান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজারের একজন বিশিষ্টজন জানিয়েছেন-‘ অস্ত্রসহ আটক কারবারি নিজের ফেসবুক ম্যাসেন্জারে তথ্য দিয়েছেন যে, তিনি আইএসআই বিষয়ক অনেক তথ্য দিতে সক্ষম রয়েছেন।’ র‌্যাবের হাতে আটক ব্যক্তির এসব বিষয় নিয়ে এখন কক্সবাজারে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
    আটক অস্ত্র কারবারির গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত রহস্যময় জীবন-যাপন করেন। গ্রামের বাড়ীতে খুব কমই বসবাস করেন। দিনের বেলায় চলাচল করতে তাকে কম দেখা যায়। প্রায়শ রাতের বেলায় চট্টগ্রাম থেকে গ্রামে আসেন। বেশীর ভাগ সময় থাকেন চট্টগ্রামে। স্থানীয় ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানিয়েছেন-‘ ছোট বেলায় মাদ্রাসায় লেখাপড়া করা শাহেদ জামায়াত-শিবিরের উগ্র রাজনীতির সাথে জড়িত। অত্যন্ত রহস্যেঘেরা তার চালচলন। ফেসবুকেও তিনি সরকার বিরোধী লেখালেখিতে ব্যস্ত থাকেন।’
    এসব কান্ড এখন তদন্তকারি কর্মকর্তাকেও ভাবিয়ে তুলেছে, তাহলে মেইলে এমন কিসব ম্যাসেজ রয়েছে যেগুলোর প্রমাণ নষ্ট করার দরকার পড়েছে ? আটক হওয়া ব্যক্তি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারি কর্মকর্তাকে একজন সংবাদকর্মী বলেও দাবি করেছেন। আটক শাহেদ নিজেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার বলেও দাবি করেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারি কর্মকর্তা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ