রবিবার ৭ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে রেললাইনের কাজ

লক্ষ্য ২০২২ সাল, চালু হবে ঢাকা-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ

  |   সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

লক্ষ্য ২০২২ সাল, চালু হবে ঢাকা-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ

নেছার আহমদ:
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের নগরী কক্সবাজারের সাথে সারা দেশের ২০২২ সালের মধ্যে চালু হবে রেল যোগাযোগ। আর কক্সবাজারের রামু হয়ে রেল যাবে মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম পর্যন্ত। দ্রæত গতিতে এগিয়ে চলছে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেললাইন স্থাপনের কাজ। অবকাঠামো নির্মাণের প্রায় ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরের সাথে সংযোগ স্থাপন ও পর্যটন শহর কক্সবাজারকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার লক্ষে এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪.৪৭ কোটি টাকা। ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেন চলাচলের মধ্যদিয়ে দেশের সব অঞ্চলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এর মধ্য দিয়ে পর্যটক ও স্থানীয় জনগনের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক, সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন হবে বলে আশাবাদ সকলের।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৩০ বছর আগের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে। সর্বপ্রথম ১৮৯০ সালে বার্মা (মিয়ানমার) রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম হতে রামু ও কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত রেলওয়ে লাইন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়। প্রথম সার্ভে ১৩০ বছর আগে করা হলেও দ্বিতীয় সার্ভে করা হয়েছিল প্রায় ১০০ বছর আগে। ১৯০৮-১৯০৯ সালে পূর্ণাঙ্গ সার্ভে করে বার্মা রেলওয়ে। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের সঙ্গে আকিয়াবের (মিয়ানমার) রেল যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে দোহাজারী হতে রামু হয়ে আকিয়াব পর্যন্ত ১৯১৭ হতে ১৯১৯ সালে পুনরায় সার্ভে করা হয়। মিয়ানমার পর্যন্ত রেললাইন চালু করতেই চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত মিটারগেজ রেললাইন স্থাপন করা হয়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৫৮ সালে পূর্ববাংলা রেলওয়ে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন স¤প্রসারণের জন্য সার্ভে করে। কিন্তু পদক্ষেপের অভাবে পর্যটন শিল্পের এই ধাপটির বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে ২০১০ সালে দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমার সীমান্তের নিকট গুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন মিটারগেজ ট্র্যাক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হতে অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম বিলম্বিত হতে থাকে। ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমারের কাছে গুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন মিটারগেজের পরিবর্তে ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন রেললাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণের সময় ভবিষ্যতে ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমির সংস্থান রেখে ভূমি অধিগ্রহণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। সে অনুযায়ী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এডিবি কর্তৃক ২০১৬ সালে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পে প্রাক্কলন নির্ধারণ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০.৮৩১ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ভূমি অধিগ্রহন করা হয়েছে ১৩৯১ একর। কক্সবাজারে আইকনিক স্টেশন সহ ৯টি স্টেশনের অবকাঠামো নির্মান চলমান রয়েছে। ১০০.৮৩১ কিলোমিটার রেল লাইন প্রকল্পে ৩৯টি মেজর ব্রীজ, ১৪৫ টি মাইনর ব্রীজ, বিভিন্ন শ্রেণীর ৯৬টি লেভেল ক্রসিং নির্মানও এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের ৫০ ভাগ কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা হবে। দিত্বীয় পর্যায়ে রামু হতে মায়ানমারের নিকট ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮.৭৫২ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মানের জন্য ৩৫০ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। এতে ২টি স্টেশন, ১৩টি মেজর ব্রীজ, ৪৫টি মাইনর ব্রীজ ও ২২টি লেভেল ক্রসিং নির্মান করা হবে। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরের সাথে সংযোগ স্থাপন ও পর্যটন শহর কক্সবাজারকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার লক্ষে এ প্রকল্প। পর্যটক ও স্থানীয় জনগনের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক, সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন, সহজে ও কম খরচে মাছ, লবণ, রাবারের কাচামাল এবং বনজ ও কৃষি পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে।

সিনিয়র সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ জানান, রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশের সাথে কক্সবাজারের রেল যোগাযোগ শুরু হলে সবচেয়ে সুবিধা ভোগ করবে নি¤œ আয়ের মানুষগুলো। দেশের নানা প্রান্তে বহু মানুষ রয়েছে যারা এখনো পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার দেখেননি। রেল যোগাযোগ শুরু হলে এসব নিন্ম আয়ের মানুষগুলো কক্সবাজার আসার সুষোগ পাবে।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান জানান, কক্সবাজারে ৭৭টি প্রকল্পের মধ্যে রেল লাইন সহ ১৫টি মেঘা প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী নিজেই তদারকি করেন। রেল লাইন বাস্তবায় হলে পর্যটক আগমন কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে। কক্সবাজারের সাথে দেশের যে কোন স্থানের পণ্য আনা নেয়া সহজতর এবং সাশ্রয়ী হবে।

জেলা প্রশাসক ড. মো: মামুনুর রশীদ জানান, দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে গুমদুম পর্যন্ত রেল লাইন প্রকল্পের কাজ দ্রæত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজারে আধুনিক মানের আইকনিক রেলস্টেশন ভবনের নির্মাণ কাজও এগিয়ে চলছে। দ্রুতই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন হবে।
তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল জানান, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, রাস্তা চার লেইনে উন্নিতকরন, কর্ণফুলী টানেলের পাশাপাশি রেল লাইন যোগাযোগ শুরু হলে কক্সবাজার হবে আন্তর্জাতিক মানের শহর। আর সারা দেশের সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে গেলে ক´বাজারে দেশি বিদেশি পর্যক কয়েকগুন বৃদ্ধি পাবে। এতে বৈদেশিক আয় হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেক এগিয়ে যাবে।

২০২২ সালের জুন মাসে রেল লাইন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে করোনাকালিন সময়ে কাজের কিছুটা ধীরগতি হলেও দ্রুত গতিতে নির্মান কাজ এগিয়ে চলছে। আশা করা যাচ্ছে ২০২২ সালের মধ্যে ঢাকা-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু হবে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেন চলাচলের মধ্যদিয়ে দেশের সব অঞ্চলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

এডিবি/জেইউ।

 

Comments

comments

Posted ১২:০৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com