• শিরোনাম

    * বিএনপি- জামায়াত লবণ শিল্পকে ধ্বংশ করেছিল * লবণ চাষীরা যেই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে তখনই তারা আবারো তৎপর য় অসাধু মিল মালিকদের লবণ সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা * নির্বাচনকে সামনে নিয়ে এটা গভীর ষড়যন্ত্র * উৎপাদন শুরুর প্রাক্কালে কোন আমদানী নয় * আমদানীর অপপ্রচার চালিয়ে মিলারগণ দামও কমিয়ে দিয়েছে

    লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

    লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এবং শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু দেশের অসাধু লবণ মিল মালিকদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, উৎপাদন মৌসুমের পুর্ব মুহূর্তে গোপনে লবণ মওজুদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আগামী মাসেই দেশের একমাত্র লবণ উৎপাদন কেন্দ্র কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উপকুলীয় মাঠে চাষীরা লবণ উৎপাদনে নামবে। আগামী নভেম্বর মাসেই মাঠে নতুন লবণ উৎপাদন হবে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে লবণ আমদানীর অজুহাত সৃষ্টির জন্য কোন অসাধু মিল মালিক বা ব্যবসায়ীরা যদি কৃত্রিম সংকট দেখানোর চেষ্টা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজারে ‘মান সম্পন্ন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন। কক্সবাজার সাগর পাড়ের বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন -বিসিক এ কর্মশালার আয়োজন করে। অনুষ্টানে কক্সবাজারের দুই এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশে লবণ কেলেংকারি সৃষ্টির জন্য বিএনপি-জামায়াতপন্থী লবণ মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম লবণ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা বলেন, এ মুহূর্তে বিদেশ থেকে আমদানীর কথা বলা হলে লবণ চাষীরা আগামী মাসে আর উৎপাদনের জন্য মাঠে নামবে না। সেই সাথে লবণ চাষীরা সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি দল থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার শংকা রয়েছে। তাই অসাধু লবণ মিল মালিকগন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই লবণের সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা আরো বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে নিয়ে এটা গভীর ষড়যন্ত্র। কর্মশালায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার এমপি আশেক উল্লাহ রফিক বলেন,বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে সাগর পথে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফ্রিষ্টাইলে ইউরিয়া সার পাচার করা হয়েছে। অপরদিকে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে লবণ। ফলে একদিকে সারের অভাবে বাংলাদেশের কৃষক এবং অপরদিকে মিয়ানমারের লবণে দেশ সয়লাব হওয়ায় কক্সবাজারের লবণ চাষীরা মাথায় হাত দিয়েছিল। আর এসবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই সময়কালের প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। এমপি আশেক আরো বলেন, লবণ চাষীরা বর্তমান সরকারের আমলেই একমাত্র ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে। তবুও তাদের অনেকেরই নামে রয়েছে ব্যাংকের সার্টিফিকেট মামলা। অপরদিকে এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশের সার এবং মিয়ানমারের লবণ পাচারের ঘটনা এমনই ওপেন সিক্রেট ছিল যে, কক্সবাজার সদরের সাবেক বিএনপি দলীয় এমপি লুৎফুর রহমান কাজলের মালিকানাধীন হোটেল নিরিবিলি থেকে এসব পাচারের পাস ইস্যু করা হত। তিনি বলেন, সেই আমলে বাংলাদেশের কৃষক ও লবণ চাষীদের কোমর ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিল। এসময় কর্মশালায় উপস্থিত লবণ চাষীরাও হাঁ সূচক সায় দেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেছেন, কক্সবাজার জেলার অভ্যন্তরে থাকা কোন অসাধু মিল মালিক যদি কিনা অতি মুনাফা লাভের আশায় অবৈধভাবে লবণের মওজুদ গড়ে তুলে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য থাকবে। সভায় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, বর্তমান সরকারের কঠোর পদক্ষেপে মিয়ানমার থেকে লবণ পাচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে ভারত সহ অন্যান্য দেশ থেকে ঢালাওভাবে লবণ আমদানীও হয় না। এসব কারনে ধীরে ধীরে লবণ চাষীরা স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। এমনকি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১০ বছরে দেশের প্রধান লবণ উৎপাদন কেন্দ্র কক্সবাজারের লবণ চাষীরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে নিয়ে দেশের বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত লবণ মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা স্বনির্ভর লবণ শিল্পকে আবারো নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিতে উঠে পড়ে লেগেছে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, এই মুহুর্তে লবণ অমদানি করা হবেনা। অধিক লাভের আশায় লবণ মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। লবণ চাষি ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, লবণ আমদানি হবে কিনা তা আপনাদের উপর নির্ভরশীল। বেশীদিন লবণ মজুদ করে রাখার কারণে দেশে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়। সেই সংকট থেকে লবণ আমদানির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সভায় আমির হোসেন আমু আরো বলেন-‘ সামনে জাতীয় নির্বাচন। আমরা এমন কাজ করবনা যাতে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়। লবণ চাষিদের ক্ষতি করে কোন সিদ্ধান্ত নেবেনা সরকার। আপাততঃ লবণ আমদানির কোন পরিকল্পনাও আমাদের নেই।’ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত কর্মশালায় স্থানীয় এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল ও এমপি আশেক উল্লাহ রফিক ছাড়াও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব, মোঃ আবদুল হালিম, বিসিক চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মোঃ ইফতিখার, কক্সবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোসতাক আহমদ চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বক্তৃতা করেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮৪ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত ভোজ্য লবণ ব্যবহার করছে। শতভাগ আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের আওতায় আনার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সেই প্রকল্পের আওতায় ইউনিসেফের সহায়তায় লবণ মিল মালিকদের মধ্যে ২৬৭টি আয়োডিনযুক্ত মেশিন (এসআইপি) মেশিন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে পটাশিয়াম আয়োডেট বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার বিকাল চারটায় কক্সবাজার হিলটপ সার্কিট হাউজে মিল মালিক ও চাষিদের সাথে আরেক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ সময় লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম (দাদা), ইসলামপুরের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মনজুর আলম, মাস্টার আবদুল কাদেরসহ লবণ মিল মালিক ও চাষিরা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে খোঁজ খবর নিয়ে আরো জানা গেছে, ইসলামপুরে গতকাল শিল্পমন্ত্রীকে মিল পরিদর্শনের নামে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল মিল মালিকদের। বিএনপি’র পতাকাতলে থাকা কতিপয় মিল মালিক সরকাররি দলের সাথে গোপনে হাত মিলিয়ে সরকারকে ডুবানোর জন্য পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর সুত্র ধরে মিল মালিকদের কিছু অসাধু ব্যক্তি ইসলামপুর খালে লবণ ভর্ত্তি নৌকা নেই দেখানোর জন্যও য়ড়যন্ত্রে মেতেছিল। তারপরেও গতকাল একদিনেই ইসলামপুর খালে প্রচুর সংখ্যক লবণ বোঝাই নৌকা মিল মারিকদের নিকট লবণ বিক্রি করতে আসে। মদীনা মিলের মালিক আলহাজ্ব অছিয়র রহমান জানিয়েছেন, তার মিলে গতকাল একদিনেই তিন হাজার মণ লবণ বোঝাই ৪ টি নৌকা ভীড়েছে। এমনকি মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামসুল আলমের মাকিানাধীন আরাফাত মিলেও লবণ ভত্র্ িনৌকা ভীড়েছে। অথচ মিল মালিকরাই মন্ত্রীকে দেখাতে তৎপরতা চালিয়েছেন যে, লবণ মাঠে এবং চাষীদের গোলায় কোন লবণ নেই। আর এজন্যই খালেও নৌকা নেই। কিন্তু তাদের সেই প্রতারণা ভেস্তে গেছে। শুধু তাই নয় মিল মারিকরা দেশ এখন লবণ শূন্য দেখাতে ইসলামপুর ঘাটগুলো একদম লবণ বোঝাই নৌকা শূন্য এবং লবণ মিলগুলোও লবণের অভাবে বকন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে বলে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি নেতা যেসব মিল মালিক রয়েছেন তারা বর্তমানে ক্ষমতাসীনদের ছায়ায় ভীড়েই এমন প্রতারণা করছেন। অথচ টের পাচ্ছেন না ক্ষমতাসীনরা। ওদিকে লবণ আমদানী করা হচ্ছে-এমন অপপ্রচার চালিয়ে টেকনাফের সাবরাং সহ আরো কয়েকটি মোকামে গতকাল একদিনেই লবণের বস্তা প্রতি ৭০/৮০ টাকা দাম কমিয়ে দিয়েছে মিল মালিক ক্রেতারা। টেকনাফের সাবরাং থেকে কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য এবং সাবেক টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শফিক মিয়া জানান, দুই মণ বস্তার লবণের দাম ছিল ৮৩০ টাকা।আর গতকাল আমদানীর হুমকি দিয়ে বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে আরো ৭০/৮০ টাকা কম দামে। প্রসঙ্গত, কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে দেশে লবণের চাহিদা ছিল ১৫ দশমিক ৭৬ লাখ মেট্রিক টন। এই মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ লাখ মেট্রিক টন। এ হিসাবে চাহিদার তুলনায় লবণের ঘাটতি ছিল ২ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন। সেই বছর ৫ লাখ মেট্রিকটন আমদানি করা হয়। সেই আমদানীর ২ লাখ ৮৮ মেট্রিকটন লবণ এখনও উদ্বৃত্ত রয়েছে। ২০১৮ সালে ১৬ লাখ ২১ হাজার মেট্রিকটন লবণ চাহিদা ছিল। এই বছর ১৪ লাখ ৯৩ হাজার মেট্টিক টন লবণ উৎপাদন হয়। ঘাটতি থাকে ১ লাখ ২৮ হাজার মেট্টিক টন। ২০১৭ সালের উদ্বৃত্ত ২ লাখ ৮৮ মেট্রিক টন বাদে বর্তমানে ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন লবণ চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে।
    দেশবিদেশ /২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ