মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ইয়াসের প্রভাব

লবণের পানিতে স্বপ্ন ভেঙ্গেছে পান বরজ চাষিদের

তারেকুর রহমান   |   বৃহস্পতিবার, ০৩ জুন ২০২১

লবণের পানিতে স্বপ্ন ভেঙ্গেছে পান বরজ চাষিদের

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে প্লাবিত হয়েছে টেকনাফের উপকূলীয় অঞ্চল। জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করেছে পানের বরজ ও ফসলের মাঠে। ফলে পানের চারাসহ বিভিন্ন ধরণের ফসলাদির ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। মরে গেছে অনেক পানের চারা ও ফসল। স্বপ্ন ভেঙ্গেছে গরীব চাষীদের।

বঙ্গোপসাগরে জলোচ্ছ¡াসের কারণে মেরিনড্রাইভ সংলগ্ন টেকনাফ সদর ও বাহারছড়ার পান বরজ এবং ক্ষেত খামারে জড়িত ৮০% মানুষের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। পানের চারা ও ফসলাদি মরার কারণ খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ¡াস ও ভরা পূর্ণিমার তিথির জোয়ারের লবণাক্ত পানি।

ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হলো- বাহারছড়া ইউনিয়নের বাইলারছড়া, শিলখালী, কাদেরপাড়া, জাহাজপুরা, হাজামপাড়া, হলবনিয়াপাড়া, মারিশবনিয়া, বড়ডেইল, মাথাভাঙ্গা এবং নোয়াখালীপাড়া। তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাদেরপাড়া ও নোয়াখালীপাড়া।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া, হাবিরছড়া মিঠাপানির ছড়া, দরগাহ ছড়া, লেঙ্গুরবিল, মহেশখাইল্যা পাড়া এলাকার পানের বরজ ও ক্ষেতগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। পাহাড় সংলগ্ন মিঠাপানির সমতল জমিতে এসব এলাকায় ২০০-২৫০ পানের বরজ ও অন্যান্য ক্ষেত খামারের চাষ করা হয়। কিন্তু সদ্য বয়ে যাওয়া ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মেরিনড্রাইভ হয়ে পূর্বদিকের জমিতে সমুদ্রের লবণাক্ত জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় পানের বরজসহ ক্ষেতের সবুজ ফসলগুলো মরে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

এসব এলাকার মানুষ সাধারণত বিভিন্ন এনজিও সংস্থা কিংবা ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পানের বরজ করে থাকে। সেই পানের বরজের কাঙ্খিত মুনাফা দিয়ে পরবর্তী বছর আবার পানের চারা কিনে রোপন করে। বর্তমানে তারা শুধু মুনাফা নয় বরং পুঁজির টাকা হারিয়েও নিঃস্ব হয়ে গেছে। অপরদিকে মৌসুমী ফল মরিচ, টমেটো, ভুট্টাসহ অনেক ধরণের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
মাথাভাঙ্গা এলাকার পানবরজ চাষী মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, ‘এবারের ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে আমার ২টি পানের বরজ ও ক্ষেতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই রকম লোকশান আমার আর কখনো হয়নি।’

কাদেরপাড়া এলাকার পান বরজের মালিক আবদুল মাবুদ জানান, ‘ঘূর্ণিঝড়ের ইয়াসের পর লক্ষ্য করলাম আমার বরজের পানের গোড়া পঁচন ধরেছে এবং পানের আগা লাল হয়ে যাচ্ছে। তখন আমি অন্যান্য অভিজ্ঞ কৃষকদের সাথে পরামর্শ করে জানতে পারি পানের বরজে জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় পানগাছগুলো মরে যাচ্ছে।’

মারিশবনিয়া এলাকার কমিউনিটি পুলিশিং এর সদস্য মোহাম্মদ হোসেন জানান, ‘এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এলাকার মানুষ ক্ষেত খামার হারিয়ে এখন হাহাকার করছে। ইয়াসের প্রভাবে তাদের ক্ষেতে লবণাক্ত পানি ঢুকে চাষীদের কষ্টে অর্জিত ফসলগুলো দিনে দিনে মরে যাচ্ছে।’

উপকূলীয় অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষের জীবিকা নিবার্হের মাধ্যম চাষবাস। পানের বরজ ও ফসলের সাথে জড়িয়ে আছে অনেকের জীবন। এই অঞ্চলগুলোতে প্রায় অধিকাংশ বাড়িতে পান বরজ করে থাকে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে মূলত চাষীদের এই বেহাল দশা। জোয়ারের লবণাক্ত পানি পানের বরজসহ বিভিন্ন ধরণের ফসলে প্রবেশ করায় ফসলগুলো পঁচে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ-সচেতন মহল।

বাহারছড়া ইউনিয়ন উপ-সহাকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক উদ্দিন বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে যেসব এলাকায় পানের বরজ ও অন্যান্য ফল-ফলাদির চাষ হয়েছে; ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে সেসব অঞ্চলে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় পানের চারা, ফসল ও ফল-ফলাদির গাছ মরে যাচ্ছে। যাছাই করে দেখেছি অন্য কোনো কারণে আসলে পানের চারাগুলো মরে যাচ্ছে না। মিঠাপানির ফসলে লবণাক্ত পানির স্পর্শ লাগলে ওই সমস্ত ফসল মারা যাবে সেটা স্বাভাবিক।’

কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক উদ্দিন আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে এই ধরণের জোয়ারের পানি থেকে কৃষি জমি রক্ষা করতে হলে সাগরের সাথে সংযুক্ত সকল ছোট-বড় খাল এবং ছরাগুলো পুনঃ খননসহ সুইচ গেইট অথবা রাবারডেম তৈরী করতে হবে। টেকনাফে কর্মরত বিভিন্ন আইএনজিও এবং এনজিও গুলো অল্প বীজ বা অল্প অল্প উপকরণ সহায়তা না করে সরাসরি সুইচ গেইট অথবা রাবারডেম তৈরী করে সেইদিকে যেন কর্তৃপক্ষ নজর দেয়। এই কাজটা করতে পারলে উপকূলীয় চাষীরা দুই ধরণের সুবিধা পাবে। সুবিধা দুটি হলো- বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের লবণাক্ত পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং শুষ্ক মৌসুমেও চাষীরা সেচ সুবিধা পাবে।’

 

আদেবি/তারেকুর রহমান

Comments

comments

Posted ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৩ জুন ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com