• শিরোনাম

    আগামীকাল শনিবার মহেশখালী আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি

    শতাধিক জলদস্যু ও সন্ত্রাসীর আত্মসমর্পণ

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ১১:০৭ অপরাহ্ণ

    শতাধিক জলদস্যু ও সন্ত্রাসীর আত্মসমর্পণ

    আগামীকাল শনিবার ২৩ নভেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারি। স¦রাষ্টমন্ত্রী ও আইজিপি দ্বীপের কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে জলদস্যু ও সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তৃতা করবেন। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক এবং জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন।
    এ অনুষ্টানে দ্বিতীয় দফায় মহেশখালী-কুতুবদিয়ার শতাধিক জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আত্মসমর্পণ’ করতে যাচ্ছে। মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অস্ত্র, গোলাবারুদ জমা দিয়ে দস্যু জীবন থেকে আলোর পথে ফেরার সম্মতি জানিয়েছে এসব দস্যু-অস্ত্র কারিগররা।

    এদিকে গতকাল বৃহষ্পতিবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসাইনের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একদল কর্মকর্তা কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ পরির্দশন করেন। এসময় কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আদিবুল ইসলাম, উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মতিউল ইসলাম, মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর, কালারমার ছরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ মাতারবাড়ি ইউনিয়ন মাষ্টার মোহাম্মদুল্লাহ সহ স্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসাইন জানান, আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রনোদনাসহ সব ধরণের সহযোগিতা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় দফায় আত্মসমর্পণের জন্য ইতিমধ্যে সেফহোমে চলে এসেছেন শীর্ষ ৭ দস্যু বাহিনীর প্রধানসহ তাদের সহযোগিরা।
    যারা সেফহোমে চলে এসেছে:
    কালারমারছড়ার আলোচিত জিয়া বাহিনীর জিয়াউর রহমান জিয়া। তার বাহিনীর সদস্য মানিক, আয়াতুল্লাহ, আব্দুস শুক্কুর, সিরিপ মিয়া, একরাম, নাজেম উদ্দিন, আয়ুব আলী, সিরাদোল্লাহ, সাদ্দাম, বশিরসহ অন্তত ১৫ জন।কালামারছড়ার কালা জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য আবুলু, সোনা মিয়া, জমির উদ্দীনসহ প্রায় ১৫ জন। সোনাদিয়া দ্বীপ থেকে দস্যু জাহাঙ্গীর, সালাউদ্দিন সহ অনেকেই।

    একই হোয়ানক নোনাছড়ি মোহাম্মদ উল্লাহর বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ আলী, সেকেন্ড ইন কমান্ড করিম ওরফে বদাইয়া, এরফান, রফিকসহ ১৫ জন। উত্তর নলবিলার মুজিব বাহিনীর প্রধান মজিবুর রহমান প্রকাশ শেখ মুজিব। হোয়ানকের শীর্ষ জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর আলোচিত আয়ুব আলী বাহিনীর প্রধান আয়ুব আলী। তার সঙ্গে চলে এসেছে তার বাহিনীর আরও ২০ সদস্য। কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালীর কালু বাহিনীর প্রধান মো. কালু প্রকাশ গুরা কালুসহ তার বাহিনীর ১৫/২০ জন। আগামী দু’একদিনের মধ্যে অনেক দস্যু ও অস্ত্র কারিগর আত্মসমর্পণের জন্য সেফহোমে আসবে বলে জানা গেছে।

    প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর র‌্যাবের মাধ্যমে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার ৪৩ জলদস্যু আত্মসমর্পণের পর থেকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় অনেক শীর্ষ জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর। যার কারণে বিভিন্ন পাহাড় ও সাগর উপকূলে অভিযান জোরদার করে পুলিশ। অভিযানের মুখে আবারো আত্মসমর্পণ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও পেকুয়ার অন্তত শতাধিক জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর। জানা গেছে, সেফহোমে আসা দস্যুদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব দস্যুদের কারণে যুগ যুগ ধরে মহেশখালী-কুতুবদিয়াসহ পুরো উপকূলীয় এলাকায় অশান্তি লেগে থাকতো।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ