• শিরোনাম

    প্রথমদিন ২১ পরিবারের সাক্ষাতকার গ্রহণ :আশাবাদী শরণার্থী ত্রান ও প্রত্যাবাসন কমিশনার

    শর্তের বেড়াজালে রোহিংগা প্রত্যাবাসন

    নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ | ২১ আগস্ট ২০১৯ | ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

    শর্তের বেড়াজালে রোহিংগা প্রত্যাবাসন

    টেকনাফের শালবাগান রোহিংগা শিবিরে ইউএনএইচসিআর’র অফিসে স্বাক্ষাতকার শেষে নিজেদের বস্তিতে ফিরছে এসব রোহিংগারা

    আবারো শর্তের বেড়াজালে ঘুরপাক খাচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে যখন জোরদার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে এমনি মুহুর্তে রোহিঙ্গারা আবারো প্রত্যাবাসনের নানা শর্ত জুড়ে দিয়েছে। রোহিঙ্গারা বলছে শর্ত পূরন না হলে তারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে না। মঙ্গলবার বিকালে শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রত্যাবাসন তালিকায় থাকা কিছু রোহিঙ্গা শর্ত গুলো তুলে ধরে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করেছে। তবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার জানিয়েছেন তিনি প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আশাবাদী। এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে তৎপর রয়েছে প্রত্যাবাসন বিরোধী চক্র। সাধারন রোহিঙ্গারা অনেকটা জিম্মি তাদের রক্তচক্ষুর কাছে। অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

    মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে টেকনাফের নয়াপাড়া শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে (নং-২৬) ঘুরে এ চিত্র দেখা দেছে।
    প্রত্যাবাসনের তালিকায় থাকা রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। তাদের কিছু শর্ত রয়েছে যা মানলে তারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে রাজী। অন্যথায় তারা ফিরবে না। এমনকি গুলি করে মেরে ফেললেও তারা শর্তপূরন ছাড়া ফিরতে রাজী নয়।
    এনভিসি কার্ড নয় সরাসরি নাগরিকত্ব প্রদান, ভিটে-বাড়ি ও জমি-জমা ফেরত, আকিয়াব জেলায় আশ্রয় শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ বাড়ীতে ফেরত, কারাগারে বন্ধি রোহিঙ্গাদের মুক্তি, হত্যা, ধর্ষনের বিচার, অবাধ চলাফেরা, নিরাপত্তা প্রদানসহ একাধিক শর্ত পূরণ না হলেই স্বদেশ ফিরবেনা রোহিঙ্গারা।
    মঙ্গলবার ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ ও ইউএনএইচসিআর’র লোকজন রোহিঙ্গাদের ঘরে ঘরে গিয়ে জানিয়ে দিচ্ছে ২২ আগস্ট স্বদেশে ফিরে যাওয়ার বার্তা। এসময় অনেক রোহিঙ্গা ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান। আবার অনেকে এসব শর্ত জুড়ে দেন।

    এসময় কথা হয় প্রত্যাবাসনের তালিকায় থাকা শালবন ক্যাম্পের এ-ব্লকে বসবাসকারি মো. জুবাইরের সাথে। এসময় তিনি জানান, ইউএনএইচসিআর’র একটি প্রতিনিধি দল সকালে এসে পারিবারিক ডাটা কার্ড খুঁজে। প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কিছু জানায়নি। পরে জানতে পারি প্রত্যাবাসনের তালিকায় আমার নাম রয়েছে। মিয়ানমারের বুচিডং চাংচিপ্রাং এলাকার জোবাইর স্বদেশ ফিরবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, নিজের দেশে ফিরতে ব্যাকুল হয়ে আছি। নাগরিকত্ব, ভিটে-বাড়ি ও জমি-জমা ফেরত, অবাধ চলাফেরা ও নিরাপত্তা দিলেই ফিরব। এভাবে গেলে মরণ নিশ্চিত। এরচেয়ে এদেশে মৃত্যুই ভাল হবে।
    তালিকায় থাকা হাসিনা বেগম বলেন, স্বামী-সন্তানদের নিরাপত্তা কে দিবে। ওখানে গিয়ে আশ্রয় শিবিরে রাখবে। অবাধ চলাফেরা করা যাবেনা। রোহিঙ্গা স্বীকৃতি দেবেনা। তবে কি নিয়ে আমরা স্বদেশ ফিরব।
    একই ব্লকের জয়নব বেগম বলেন, মিয়ানমার সরকারকে বিশ্বাস করা যায় না। এর আগেও তারা অনেকবার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তাই সরাসরি নাগরিকত্ব প্রদান করলেই আমরা ফিরতে পারি।

    শালবন ক্যাম্পের ডি ব্লকের রোহিঙ্গা মাঝি নুর মোহাম্মদ রোহিঙ্গাদের দাবীর সাথে একমত পোষন করে বলেন, মিয়ানমারে ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীর মতো রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিতে হবে। পূর্ন নাগরিকত্ব দিয়ে গোঠা মিয়ানমারে অবাধে চলাফেরার স্বাধীনতা দিতে হবে।
    এদিকে প্রত্যাবাসনের তালিকায় থাকা কিছু রোহিঙ্গা মঙ্গলবার বিকাল ৩ টারদিকে ২৬ নং ক্যাম্পের সিআইসি (ক্যাম্প ইনচার্জ) অফিসের কাছে বিক্ষোভ করেছে। এসময় নিজেদের দাবী তুলে ধরে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ করেন রোহিঙ্গারা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মোস্তফা কামাল, শফিকা একই শর্ত জুড়ে দেন।
    আবার সাধারন রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ জানান, ক্যাম্পে তারা স্বাধীন মতামত দিতে পারছেন না। রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র গ্রুপ সবসময় তাদের উপর নজরদারী করেন।

    এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে এগিয়ে নিতে ইউএনএইচসিআর ও সরকারের পক্ষ থেকে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের কাছে লিফলেট বিতরণ করেছে। লিফলেটে স্বদেশ ফিরে গিয়ে কোথায়, কিভাবে রাখা হবে এবং পরবর্তীতে কি কি করণীয় সে সম্পর্কে ধারণা রয়েছে।
    টেকনাফ নয়াপাড়া শালবাগান ক্যাম্পের (নং- ২৬) ইনচার্জ মোঃ খালিদ হোসেন জানান, প্রত্যাবাসনের তালিকায় আসা ২১ পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসনের জন্য সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের কথা অস্বীকার করেন।
    কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম জানান, প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের জন্য সকল প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা আশাবাদী ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসন হবে। পাশাপাশি সকাল থেকে ইউএনএইচসিআর’র লোকজন তালিকাভূক্ত রোহিঙ্গাদের সাক্ষাতকার নিচ্ছে এবং এসব লোকজনকে সংশ্লিষ্টরা নানান ভাবে সহযোগীতা করে যাচ্ছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ