• শিরোনাম

    কোন কোন দোকানে কেজিতে ১০০ টাকা

    শহরের দোকান-পাট আকস্মিক পেঁয়াজ শূন্য

    বিশেষ প্রতিবেদক | ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

    শহরের দোকান-পাট আকস্মিক পেঁয়াজ শূন্য

    দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারের দোকান-পাটগুলো যেন আকস্মিক পেঁয়াজ শূন্য হয়ে পড়েছে। বাজারের দোকান-পাটে পেঁয়াজ কিনতে গেলে দোকানীদের সাফ জবাব-‘পেঁয়াজ নেই।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। ওদিকে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানীও অব্যাহত রয়েছে। ফলে টেকনাফ সীমান্তে পেঁয়াজের দাম অনেকটাই কম থাকলেও কক্সবাজার শহরে তার উল্টো পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    কক্সবাজার শহরের কোন কোন দোকানে কেজি প্রতি ৮০/১০০ টাকা দিলে কিছু পেঁয়াজ মিলছে। তবে পরিমাণে কম। দাম বেশী দিলেও কোন দোকানীই এক সাথে কয়েক কেজি পেঁয়াজ ক্রেতাকে দিচ্ছে না। রাতে শহরের প্রধান সড়কের কয়েকটি দোকানে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পেঁয়াজ নিয়ে রিতীমত কাড়াকাড়ি চলছে। আস্বাদনী নামের একটি সুপার সপের মালিক নটু দাশ বলেন-‘ আমার দোকানেও পেঁয়াজ নেই। র্অপ পরিমাণের যাই আছে তা কেজিতে ৮০ টাকা বিক্রি করছি। আগামীকাল সোমবার বিক্রির জন্য আর মওজুদ নেই।’

    তিনি জানান, শহরের আড়তদারদের কাছেও পেঁয়াজের মওজুদ নেই। টেকনাফ ও চট্টগ্রামের আড়তদারগন চাহিদা মাপিক পেঁয়াজ বিক্রি করছে না। সরবরাহ না থাকায় আকস্মিক এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
    দোকানীরা বলেছেন, শহরের বড় বাজারের পেঁয়াজের আড়তের দোকানগুলোতে কোন পেঁয়াজের স্টক নেই। চট্টগ্রাম শহরের আড়তদারগণও পেঁয়াজ বিক্রি কমিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কক্সবাজার শহরের আড়তদারগন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।
    জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এ বিষয়ে বলেছেন-‘ রবিবারের পেঁয়াজের বাজার নিয়ে তিনি াবহিত নন। তবে সোমবার সকালেই তিনি বাজারের খবর নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিবেন।’

    স্থানীয় বাংলাবাজারের পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা নাসিরুদ্দীন বলেছেন, মিয়ানমারের আমদানী করা পেঁয়াজ আনতে গিয়েও তারা বিপাকের মুখে পড়ছেন। মিয়ানমারের পেঁয়াজের দামও বাড়তি হওয়ায় পরিবহণ খরচ সহ এনে প্রশাসনের নির্ধারিত মূল্যে তারা বিক্রি করে পুষাতে পারছেন না।
    এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থল বন্দরে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানিও অব্যাহত রয়েছে। দেশের পেঁয়াজের চাহিদা পূরণ করতে আমদানিকারকরা আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করছেন। মিয়ানমার থেকে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ এনে এবং জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিংয়ের কারণেও স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

    স্থলবন্দর কাস্টমস্ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার মিয়ানমার থেকে স্থলবন্দরে ৭৬০ দশমিক ৫৮৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। গত ১ অক্টোবর থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত ১৩ দিনে ৭ হাজার দশমিক ৪৮৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল ৩ হাজার ৫৭৩ মেট্রিক টন এবং আগস্ট মাসে আমদানি হয়েছিল মাত্র ৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ।

    আমদানি কারকরা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তবে আগামীতেও পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত থাকবে বলে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন।
    এদিকে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকায় টেকনাফ সীমান্তের স্থানীয় পাইকারী বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন আগের চেয়ে কমেছে বরেও দাবি আমদানীকারকদের। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৫৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ সব্বোর্চ ৭০ টাকা কেজি দরে মূল্য নির্ধারণ করেছিল।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ