• শিরোনাম

    * অজুহাত ঃ ভাঙ্গা সড়ক-যানজট *ভাড়া নৈরাজ্য শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে-মেয়র মুজিব

    শহর ও শহরতলিতে চলছে বেপরোয়া ভাড়া নৈরাজ্য

    এম.আর মাহবুব | ১২ জানুয়ারি ২০২০ | ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

    শহর ও শহরতলিতে চলছে বেপরোয়া ভাড়া নৈরাজ্য

    ভাড়ার নামে সমানে নৈরাজ্য চালাচ্ছে কক্সবাজার শহর ও শহরতলিতে চলাচলরত হাজার হাজার টমটম,সিএনজি-অটো রিক্সার চালকরা। ভাঙ্গা-চোরা রাস্তা ও যানজটের অজুহাত দিয়ে অসাধু চালকরা বিগত দু’সপ্তাহ ধরে এই ভাড়া নৈরাজ্য চালাচ্ছে। ফলে ভর পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে প্রত্যহ আগত দেশি-বিদেশি পর্যটক, যাত্রী সাধারণ ও স্থানীয়দের পথ চলতে পূর্ব নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে। আকস্মিক এই ভাড়া বর্ধিত হার শতকরা ৫০ থেকে ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। অসাধু চালকদের ইচ্ছেমতো বর্ধিত ভাড়া সন্ত্রাসের খপ্পরে পড়ে যাত্রী সাধারণের ত্রাহি অবস্থা হয়েছে। পাশপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী প্রকৃতির মূর্খ চালকদের হাতে শারীরিক ভাবে নিগৃহীতের পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজের শিকার হচ্ছে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও যাত্রী সাধারণ। আবার অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় চালকদের উপর চড়াও হচ্ছে মেজাজ হারা যাত্রীরা। ফলে নিত্য-দিন ঝিলংজার বাংলাবাজার, লিংকরোড়, কলেজ গেইট, সদর উপজেলা গেইট বাজার, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও তার আশ-পাশ এলাকা, কলাতলির হোটেল- মোটেল জোন, লাবনী পয়েন্ট, কলাতলি হয়ে হিমছড়ি, ইনানী রোড়, শহরের প্রধান সড়ক হলিড়ে মোড় হয়ে সিটি কলেজ, বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় এই ভাড়া নৈরাজ্য চলছে। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার অলিতে-গলিতে চলাচলরত রিক্সা, অটোরিক্সা ও এলাকা ভিত্তিক লাইসেন্স বিহীন টমটম চালকরা অনেকটা ঘোষণা দিয়ে এই অবৈধ ভাড়া নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এসব দেখ-ভালোর দায়িত্বে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পৌর কর্তৃপক্ষ, ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ, পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদ সর্বোপরি প্রশাসন থাকলেও অসাধু চালকদের ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্টরা কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কক্সবাজারের অভিজ্ঞ মহলের মতে-সংশ্লিষ্টদের উদাসিনতায় বেপরোয়া চালকরা আরো দ্বিগুণ উৎসাহে যাত্রী সাধারনের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে যাচ্ছে। এতে করে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।

    প্রাপ্ত তথ্য ও ভূক্তভোগী সূত্রে জানা যায়- এতদিন বাংলাবাজার থেকে শহরের ভোলা বাবুর পেট্রল পাম্প পর্যন্ত সিএনজি ও টমটমে জনপ্রতি বাড়ার পরিমাণ ছিল ২০ টাকা। লিংকরোড় থেকে শহরের একই জায়গায় ভাড়া ছিল ১৫ টাকা। কিন্তু বিগত দু’সপ্তাহ ধরে বাংলাবাজার ও লিংকরোড় থেকে শহরে ঢুকতে বিনা নোটিশেই ১০ থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে জনপ্রতি ৩০ টাকা, ২০ টাকা আদায় করছে অসাধু চালকরা। কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে পুরনো লালদিঘীর পাড় ও বাইপাস রোড় হয়ে কলাতলি ঢুকতে ভাড়া নিত পূর্ব নির্ধারিত জনপ্রতি ১০ টাকা। কিন্তু কিছু অসাধু চালক শহরের প্রধান সড়কের বেহাল দশার অজুহাত তুলে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা আদায় করছে। এছাড়া শহরের প্রধান সড়কে কয়েক’শ গজ পথ চলতেই টমটম চালককে উঠানামা বাবত গুণতে হচ্ছে ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান জানান- সড়ক ভাঙ্গা ঠিক আছে, কিন্তু এই অজুহাতে সিএনজি ও টমটম চালকরা ইচ্ছেমত ভাড়া বাড়াতে পারবেনা। চালকদের সাথে দু’একদিনের মধ্যে বসে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ করা হবে।
    অন্যদিকে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান আজকের দেশবিদেশকে জানান- কক্সবাজার পৌরসভা সিএনজি, টমটম, রিক্সার কোন ভাড়া বাড়ায়নি। শহর ও শহরতলিতে কোন চালক যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে শাস্তি পেতে হবে। শহরে অসাধু চালকদের ভাড়া নৈরাজ্য শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। মেয়র মুজিব বলেন- আগামী এক সপ্তাহের মাঝে শহরের প্রধান সড়ক সংস্কারে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ না করলে শহরবাসী ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের স্বাভাবিক পথচলা নিষ্কন্টক করতে কক্সবাজার পৌরসভা নিজ উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ