• শিরোনাম

    রোহিঙ্গা সমাবেশে ৬৫ হাজার শার্ট সরবরাহ দেয়া হয়

    শিবিরে দেশীয় অস্ত্র দেয়ার অভিযোগে ‘মুক্তি’ এনজিও’র কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩০ আগস্ট ২০১৯ | ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

    শিবিরে দেশীয় অস্ত্র দেয়ার অভিযোগে ‘মুক্তি’ এনজিও’র কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা

    কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে গত ২৫ আগষ্টের লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশে ৬৫ হাজার টি শার্ট সরবরাহ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও প্লে কার্ড, ব্যানার সহ আনুসাঙ্গিক আরো অনেক কিছুর যোগান দেয়া হয়েছে। সমাবেশটিতে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে সমবেত করার নেপথ্যেও পরিকল্পিত কাজ করা হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন গতকাল বৃহষ্পতিবার জেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সভায় চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন।

    জেলা প্রশাসক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে কিছু দেশী-বিদেশী এনজিও’র বিরুদ্ধে রোহিঙ্গারা যাতে স্বদেশমুখি না হয় সেজন্য প্রত্যাবাসন বিরোধী উস্কানি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এসব এনজিও সহ ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সরকারি হুঁশিয়ারির কথা জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনক বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গা শিবিরে দা,খন্তি, কোদাল ও নিড়ানীর নামে নানা ধরণের দেশীয় অস্ত্র সরবরাহ দেয়ার বিষয়টিও প্রাথমিকভাবে সঠিক প্রমানিত হয়েছে।

    শিবিরে এরকম দেশী অস্ত্র সরবরাহ দেয়ার কাজে জড়িত থাকার দায়ে ইতিমধ্যে ‘মুক্তি’ নামের একটি বিতর্কিত এনজিও’র কার্যক্রম এনজিও ব্যুরো বন্ধ করে দিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, উক্ত এনজিওটি গত দুই বছরে এরকম কয়েক লাখ অস্ত্র সরবরাহ দিয়েছে রোহিঙ্গা শিবিরে। পালস নামের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিরোধী আরো একটি বিতর্কিত এনজিও সহ কয়েক ডজন এনজিও’র বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হচ্ছে।

    কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে গতকাল অনুষ্টিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন-‘ গত ২৫ আগষ্টের রোহিঙ্গা সমাবেশটিতে লোক সমাগমের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এমনকি অস্ত্রশস্ত্র মওজুদের খবরও পেয়েছি।’ তিনি বলেন, এ ধরণের ঘটনায় স্থানীয় লোকজন থেকে শুরু করে গোটা দেশবাসী বিব্রতকর বলেও তিনি জানান।

    এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন, আমরা জনগনের জন্য রাজনীতি করি। জনগন এধরণের ঘটনার বিষয়ে আমাদের নিকট জানতে চায়। সেদিনের সমাবেশটির কোন অনুমতি ছিল কিনা তাও তিনি জানতে চান। জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, আসলে সেদিনের সমাবেশের কোন অনুমতি ছিল না।

    কক্সবাজার জেলা জাসদের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল বলেন-‘ রোহিঙ্গা শিবিরের ঘটনা অশনি সংকেত। বিএনপি-জামায়াত নেপথ্যে থেকে পাকিস্তানী এনজিও নিয়ে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।’ সভায় সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ ও ফজলুল কাদের চৌধুরীও বক্তৃতা করেন।
    সভায় কয়েকটি এনজিও’র প্রতিনিধিরা বলেন, গত ২২ আগষ্টে টেকনাফের জাদিমুরা শিবিরের সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের হাতে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ওমর ফারুকের হত্যার পর থেকে এলাকার ৩ টি শিবিরে এনজিওদের কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের উপর্যুপরি হুমকির মুখে এনজিও কর্মকান্ড বন্ধ থাকার কথা বলেন তারা।

    সভায় অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, অতিরিক্ত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ শামসুদ্দৌজা সহ সরকারি অন্যান্য কর্মকর্তা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ