বৃহস্পতিবার ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

বেতারের ডিজিসহ বিভিন্ন দপ্তরে শিল্পীদের অভিযোগ

শুধু প্রকল্প খাতেই আরডি মাহফুজের বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকা দুর্নীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট ২০১৯

শুধু প্রকল্প খাতেই আরডি মাহফুজের বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকা দুর্নীতি

শুধু রাজস্ব খাতে নয়,কক্সবাজারে বেতারে ইউনিসেফের অর্থায়নে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য অনুষ্ঠানে অনিয়মের চিত্র আরও ভয়াবহ। রোহিঙ্গা আসার পর থেকে চালু হওয়া এসব প্রকল্পের অনুষ্ঠান থেকে গত দুই বছরে দুই কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠেছে কক্সবাজার বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক (আরডি) মো মাহফুজুল হকসহ সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও আছে নারী কেলেংকারীর ঘটনাও।
আর এই প্রকল্পের অনুষ্ঠানেও ভুয়া বিল-ভাউচার বানিয়ে দিয়ে আরডিকে সহযোগিতা করেছেন তাঁর নিষ্টজন হিসাবে পরিচিত সেই ক্যাজুয়াল স্টাফ নিরুপা পাল। এদিকে আরডির মোটা অংকের আর্থিক অনিয়ম এবং নারী কেলেংকারির ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বেতারের মহা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ প্রেরণ করেছেন বেতারের বিভিন্ন বিভাগের শিল্পীরা।

এ অভিযোগ পত্রে আরডি মাহফুজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তাদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে ইউনিফের অর্থায়নে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত বেগ্গুনরল্লাই, বেগ্গুন্নরল্লাই ফোন ইন,কৈশোরের কলরব, জীবনের জন্য,সংলাপ, উঠান বৈঠক, ফোন-ইন-প্রোগ্রাম (হোস্ট কমিউনিটি),রেডিও সেট ক্রয়,যাতায়াত,নিউজ রিপোটিংসহ পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন এবং অর্থ ব্যয় না করে অন্তত ২৫টি খাতে গত দুই বছরে দুই কোটি টাকারও বেশি অত্মসাৎ করা হয়েছে।
বাজেট পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিসেফের সহযোগিতায় ‘সি ফোর ডি’ কর্মসূচীর আওতায় জানুয়ারী-ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রোগ্রামরে জন্য ১,২৯,৬৭,৭৫০/- টাকা এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রোগ্রামের জন্য ১,১৮,৮২,৮০০/- টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিল্পীদের অভিযোগ, গত জানুয়ারী থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সি ফোর ডি কর্মসূচীর আওতায় পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেক অনুষ্ঠান রেকর্ডিং/বাস্তবায়ন করা হয়নি।

শিল্পীদের অভিযোগ মতে,স্কুল ভিত্তিক শ্রোতা ক্লাবের স্টুডিও বেইসড অনুষ্ঠান কৈশোরের কলরব প্রতিমাসে ৪টি করে বছরে ৪৮টি অনুষ্ঠান এবং প্রতি অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা । কিন্তু এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের অভিযোগ. ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা শুনলেও তাদের দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা টাকা। এভাবে এই অনুষ্ঠান থেকে গত সাতমাসে প্রায় ৩লাখ টাকার অনিয়ম করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যাটরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক পরেশ কান্তি দে ও রামু উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ছালামত উল্লাহ জানান, ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা তারা শুনেছেন কিন্তু দেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা করে।
জানাগেছে, ইউনিসেফের প্রকল্পের মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাঝে সচেতনতা মূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান বেগ্গুনরলাই-এর জন্য ১৩ হাজার ৫০০ ও বেগ্গুনরলাই ফোন-ইন অনুষ্ঠানের জন্য ১৪ হাজার টাকা বাজেট বরাদ্ধ রয়েছে। এবং গত প্রায় দুই বছর ধরে সপ্তাহে তিনদিন এ অনুষ্ঠান চলে আসছে। শিল্পীদের অভিযোগ, এভাবে বরাদ্ধ থাকলে বাস্তবে এ দুইটি অনুষ্ঠানের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনার জন্য ২,০০০ টাকার স্থলে ১,০০০ টাকা, রিপোটিং এর জন্য ২,৫০০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা, সাক্ষাৎকারের সম্পদ ব্যক্তিকে ৩,০০০ টাকার স্থলে ১-৩ হাজার টাকা এবং রেকডিং ও এডিটিং বাবদ প্রতি প্রোগ্রামে ২,০০০ টাকার স্থলে মাত্র ৩ থেকে ৪০০ টাকা করে দেয়া হয়। এমনকি এ অনুষ্ঠানে মাসে ১২-১৪টি বুলেটিন প্রচার এবং প্রতি বুলেটিনের জন্য ১হাজার টাকা করে সম্মানী বরাদ্দ থাকলে গত সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে এ বাবদ কোন সম্মানী প্রদান করা হচ্ছেনা। এভাবে এই দুটি অনুষ্ঠান থেকেই দুই বছরে প্রায় ২৫লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শুরু থেকেই এ অনুষ্টানটি উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন শামীম আক্তার। তিনি বলেন, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা মিলে আমাকে প্রতি অনুষ্ঠানে একহাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি পিএসএ ( পাবলিক সার্ভিস এনাউন্সমেন্ট) অনুষ্ঠান করা হলে কোন সম্মানী দেওয়া হয়নি। এখন শুনছি একটি অনুষ্ঠানেই বরাদ্দ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়,পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান মীনা কার্টুন এবং মীনা কার্টুন ফলোড ডিসকাশন নামের দুইটি অনুষ্ঠান প্রতিটি ১১,৫০০/- টাকা করে বছরে মোট ২৪টি অনুষ্ঠানের জন্য ২,৭৬,০০০/- টাকা বাজেট বরাদ্ধ থাকলেও হাতে গোনা দু-একটি অনুষ্ঠান ছাড়া বেশিরভাগ অনুষ্ঠান রেকর্ডিং ও প্রচার করা হয়নি।
জানুয়ারী থেকে জুন’১৯ পর্যন্ত পাবলিক সার্ভিস এনাউন্সমেন্ট (পিএসএ) ৬টি অনুষ্ঠান রেকর্ডিং এর জন্য ৬,০০০ টাকা করে ৩৬,০০০ টাকা বরাদ্ধ থাকলেও শিল্পীদের এ বাবদ কোন সম্মানী দেওয়া হয়নি। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পী শামীম আক্তারসহ অন্যারা এর সত্যতা স্বীকার করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি শ্রোতাক্লাব গঠন প্রক্রিয়ার জন্য ২ থেকে ৩,০০০ টাকা সম্মানী বাবদ বিল করা হলেও অনেককে এখাতে কোন বিলই দেওয়া হয়নি।

এছাড়াও ইউনিসেফের অর্থায়নে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিমাসে একটি করে বছরে ১২টি ‘বেতার সংলাপ’, এবং প্রতি তিন মাসে একটি করে বছরে ৪টি ‘উঠান বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হওয়া কথা। প্রতিটি সংলাপ অনুষ্ঠানের জন্য ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা, আর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য ৫০,০০০ টাকা বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু এ দুটি অনুষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, প্রতিটি অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হলেও নামে-বেনামে ভূঁয়া বিল বানিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ দুটি অনুষ্ঠান থেকেও গত ৭ মাসে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এমনকি ইউনিসেফের এসব অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের জন্য প্রতিমাসে যাতায়াত বাবদ ৭০হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখানে ব্যবহার করা হয় বেতারের প্রকল্প খাতে কেনা নিজস্ব গাড়ি।নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করে প্রতিমাসে ‘আব্দুল গফুর রেন্ট এ কার’সহ বিভিন্ন নামে ভুয়া বিল বানিয়ে এসব টাকা আত্মসাত করা হয়। এভাবে প্রায় দুই বছরে এ খাত থেকে ১০ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

উপরোক্ত অনুষ্ঠান ছাড়াও ইউনিসেফের অর্থায়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত বিভিন্ন কর্মকান্ড ও প্রোগ্রামের মধ্যে টিচার্স ওরিয়েন্টেশন ফর অ্যাডোলেসেন্ট রেডিও লিসেনারস ক্লাব (এআরএলসি) ফরম্যাশন ইন স্কুল, এআরএলসি ফরম্যাশন এ্যাট স্কুল লেবেল, এআরএলসি ট্রেনিং এ্যাট স্কুল, এআরএলসি রিফরম্যাশন এ্যাট কমিউনিটি, এআরএলসি ফ্যাসিলিটেটর এন্ড কোফ্যাসিলিটেটর ওরিয়েন্টেশন এ্যাট কমিউনিটি লেভেল, এআরএলসি ট্রেনিং এ্যাট কমিউনিটি, এআরএলসি রেডিও প্রোগ্রাম, এআরএলসি অ্যাক্টিভিটি, রিভিউ এন্ড প্লানিং মিটিং, অ্যাডোলেসেন্ট ফেস্টিভ্যাল, পেট্রোনাইজ এন্ড সার্চিং অব হিডেন ট্যালেন্ট ফর এআরএলসি পার্টিসিপ্যান্ট, স্পোর্টস আইটেমস্ ফর স্কুল বেইস এআরএলসি, সাইনবোর্ড ফর এ্যাডোলেসেন্ট ক্লাব, রেডিও সেট ক্রয়, বুস্টিং রেডিও প্রোগ্রামস্ এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন রেডিও সেট, স্বপ্নডানা কুইজ, ম্যাগাজিন প্রোগ্রাম ফর হোস্ট কমিউনিটি, ফোন-ইন-প্রোগ্রাম ফর হোস্ট কমিউনিটি, পাব্লিসিটি ফর এআরএলসি রেডিও প্রোগ্রাম এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবায়নাধীন প্রোগ্রামের মধ্যে ভোলান্টিয়ার মিটিং, নিউজ রিপোটিং, বুস্টিং রেডিও প্রোগ্রাম এন্ড পাবলিসিটি, ট্রেনিং রুম রিনোভেশন, লেসন লার্নিং ওয়ার্কশপ, স্ট্রেংথেনিং অব ওয়ার্কিং এনভাইরন্টমেন্ট ফর প্রোগ্রাম প্রোডাকশন, ফরেইন ট্রেনিং ফর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ফর প্রোগ্রাম প্রোডাকশন টিম ও মনিটরিং ভিজিটসহ অন্তত ত্রিশটি খাতে গত ৭ মাসে প্রায় ১ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ ওটেছে। এমন কি গত দুই বছরে শুধুমাত্র প্রকল্পের অনুষ্ঠান থেকেই দুই কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বেতারের দুর্নীতিবাজ আরডি মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে।

শিল্পীরা জানান,এসব অনিয়ম, দূর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রকল্প ও রাজস্বখাত মিলে প্রায় ২০টি অনুষ্ঠান রেকর্ডিং ও বিল ভাউচার তৈরীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরডির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সেই বিতর্কিত নারী নিরূপা পালকে। নিরূপা পাল মাসের পর মাস অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভূঁয়া বিল-ভাউচার তৈরী করে আরডিকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের সুযোগ করে দেন। আমরা তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানাই।

কক্সবাজার বেতার শিল্পী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক রায়হান উদ্দীন বলেন, এই আরডি শুধু কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম করেছেন তা নয়, বেতারের এক ক্যাজুয়াল স্টাফের সঙ্গে নারী কেলেংকারীর মত স্পর্শকাতর ঘটনায়ও জড়িয়ে পড়েছেন। যা আমাদের শিল্পীদের ভাবমূর্তি দারুণ ভাবে ক্ষুন্ন করেছে। আমরা তার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বেতারের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন দপ্তরে ছয়টি দপ্তরে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছি। আমরা আরডি মাহফুজসহ এসব অনিয়মের অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি জানাই।
বেতার শিল্পী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট নাট্যজন স্বপন ভট্ট্যাচার্য জানান, আমরা ইতিমধ্যে তথ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইমুম সওয়ার কমল এমপি মহোদয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছি। অনতি বিলম্বে যদি এই দুর্নীতিবাজ আরডিকে এখান থেকে অপসারণ করা হয়,তাহলে কঠোর আন্দোলনে নামবে শিল্পীরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার বেতারের আঞ্চলিক পরিচালক মো. মাহফুজুল হক জানান, এতসব অনিয়মের বিষয়ে আমি অবগত নয়। সমস্যা থাকলেও এগুলো আমরা শিল্পীদের সঙ্গে বসে ঠিক করে নিতে চাই। তিনি বলেন, বেতারে আসেন আমরা বসে আলোচনা করবো। নারী কেলেংকারীর বিষয়টি জানতে চাইলে এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, কালকে বেতারে আসেন। সমস্যা থাকলে ঠিক করে নেব।

Comments

comments

Posted ১:২৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com