বৃহস্পতিবার ২২শে এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

রোহিঙ্গা ক্যাম্প অরক্ষিত

শ্রমের অজুহাতে দল বেঁধে ছুটছে রোহিঙ্গারা

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া   |   রবিবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শ্রমের অজুহাতে দল বেঁধে ছুটছে রোহিঙ্গারা

উখিয়া টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা অনুপাতে পুলিশের লোকবল সংকটের সুযোগে ক্যাম্প গুলো অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। ক্যাম্প পালানো রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে সীমিত সংখ্যক চেকপোষ্ট থাকলেও তা দিয়ে রোহিঙ্গাদের কোন ভাবেই টেকানো যাচ্ছে না। এসব চেক পোষ্টে দায়িত্বরত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিমত রোহিঙ্গাদের ভাষাগত দিক, চালছলন, পোশাক পরিচ্ছদ, আচার আচারণ স্থানীয়দের সাথে হুবুহু মিল থাকার কারণে রোহিঙ্গারা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অতি সু-কৌশলে ক্যাম্প ত্যাগ করছে।
শনিবার সকালে প্যান্ট শার্ট পরিহিতা কাঁধে ৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ১০/১২ জনের একদল রোহিঙ্গা পাঁেয় হেঁেট উখিয়া ষ্টেশন অতিক্রম করছিল। সন্দেহ জনক ভাবে তাদের ক্যামরাবন্দি করতেই সেখানে জুড়ো হয় শত শত স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এসব রোহিঙ্গাদের সাথে বলে জানা যায়, তারা চলতি বছরে জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে হোয়াইক্যং উনছিপ্রাং সীমান্ত দিয়ে এপারে এসেছে। সেখান থেকে জনপ্রতি ২শ’ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে কুতুপালং ক্যাম্পে আগে থেকে আশ্রয় নেয়া স্বজনদের বাড়িতে অবস্থান করেছে প্রায় মাসাধিকাল ধরে।
এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে জানে আলম (১৪), হামিদুল্লাহ (২০), মোহাম্মদ নুর (১৫), শফি আলম (১৬), মোহাম্মদ ইয়াছিন (১৭), জমির উদ্দিন (৩৫), সাইফুল ইসলাম (১৬) ও মোঃ শফি (১৫) থানা পুলিশের হাতে তুলে না দেওয়ার আকুতি জানিয়ে বলেন, তারা প্রাণ বাঁচাতে অনেক কষ্ট করে এখানে এসেছেন। তাদের নিজ বাড়ী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুচিডং লাওয়াদক প্রাংন্সী গ্রামে। তারা জানায়, গত ৪ জানুয়ারী সেখানকার বিদ্রোহী রাখাইন সম্প্রদায় সেনা ক্যাম্পে হামলা চালানোর জের ধরে সেনাবাহিনী ও বিজিপি সদস্যরা রোহিঙ্গাদের গণহারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে যুবকশ্রেণির কেউ তাদের হাত থেকে রেহায় পাচ্ছে না। তাই প্রাণ বাঁচাতে তারা এখানে পালিয়ে এসেছেন। এসব রোহিঙ্গারা যুবকেরা আরো জানায়, তাদের আতœীয় স্বজন চট্টগ্রামের হালিশহর, পাথরঘাটা, বাকলিয়া এলাকায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করছে দীর্ঘদিন থেকে। তারা তাদের বাড়ী ঘরে আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন শিল্প কারখানা ও গার্মেন্টসে চাকুরীর আশা করে কুতুপালং থেকে গ্রামীণ পথে উখিয়া এসে গাড়ীতে উঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তাদের মধ্যে থেকে মোহাম্মদ নুর (১৫) ও শফি আলম (১৬) জানায়, তাদের ভাই ও নিকটাতœীয় মালয়েশিয়ায় স্বচ্ছল জীবন যাপন করছে। সেখানে কিছুদিন থাকার পর মালয়েশিয়া থেকে টাকা পাঠালে তারা চলে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেন। এভাবে শত শত রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে এসে ক্যাম্পে কিছুদিন থাকার পর বিভিন্ন স্থানে চলে যাওয়ার বিষয়টিও তারা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছে।
গত শুক্রবার উখিয়া থানা পুলিশ মরিচ্যা এলাকায় যানবাহনে তল্লাসী চালিয়ে ১৮ জন রোহিঙ্গাদের আটক করে কুতুপালং ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে। একই দিনে বিজিবি সদস্যরা ৩ জন রোহিঙ্গাকে যাত্রীবাহি গাড়ী থেকে আটক করে উখিয়া থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ্দ করেছে। ১ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার উপজেলা প্রশাসন ১০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে। ৩১ জুনয়ারী বৃহস্পতিবার উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পালানোর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী এসময় উপস্থিত সুধী বৃন্দের প্রতি আশ্বস্ত করে বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ক্যাম্প পালাতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ক্যাম্প ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীদের সর্তক করে দেওয়া হয়েছে।

Comments

comments

Posted ১:১৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com