• শিরোনাম

    সংসার করার জন্যই অভিনয় ক্যারিয়ার ছেড়ে এসেছি : শ্রাবন্তী

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ০১ জুলাই ২০১৮ | ১১:৪০ অপরাহ্ণ

    সংসার করার জন্যই অভিনয় ক্যারিয়ার ছেড়ে এসেছি : শ্রাবন্তী

    আমি চাইনা আমার সংসার ভেঙে যাক। আমি যে কোনো মূল্যে চাই আমার সংসার টিকে থাকুক। আমার বাচ্চাদের আমি ব্রোকেন ফ্যামিলিতে বড় করতে চাইনা, আমার বাচ্চারা বড় হয়ে বিপথে চলে যাক, অন্যায় পথে চলে যাক এটা আমি চাই না। আলমের (খোরশেদ আলম) কাছে আমার একটাই চাওয়া আমাদের বাচ্চার স্বার্থে হলেও সংসার টিকিয়ে রাখুক- কালের কণ্ঠকে এভাবেই বলেছিলেন এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতী ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী।

    ২০১০ সালের ২৯ অক্টোবর শ্রাবন্তীর সঙ্গে বিয়ে হয় মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের। খোরশেদ আলম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। পাশাপাশি তিনি এনটিভির মহাব্যবস্থাপক (অনুষ্ঠান) ছিলেন। এছাড়াও চ্যানেল নাইনেও কাজ করেছেন। এই দম্পতির ঘরে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে রাবিয়াহ আলমের বয়স ৭ আর ছোট মেয়ে আরিশা আলমের সাড়ে ৩ বছর।

    গত ৭ মে তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন তাঁর স্বামী মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। বগুড়া সদরের কালীতলার শিববাড়ি সড়কে বাবার বাসার ঠিকানায় এই নোটিশ পাঠানো হয় বলে শ্রাবন্তী কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

    শ্রাবন্তী বলেন, দোষ আমারও আছে তাঁরও আছে। এখন আমাদের দুজনেরই উচিৎ বিষয়গুলোকে কনসিডার করা। অন্তত বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও আমাদের সংসার যেন না ভাঙে এটা খোরশেদের ভাবা দরকার। আমি সংসার করবো বলেই আমার অভিনয়ের জ্বলজ্বলে ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে এসেছি। সেখানে আমি ফিরতেও চাইনা। এখন আমি চাই আমার সংসার টিকে থাকুক।

    তাঁদের দুজনের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি ঢুকে পড়েছেন বলে জানিয়ে শ্রাবন্তী বলেন, সেই মেয়ে আমাকে থ্রেট দিয়েছে। আমি ক্রমাগত থ্রেট পেয়েছি। গত এক বছর থেকে তাঁকে নিয়ে ঝামেলা। আমি তাঁর স্বামীকেও বিষয়টি জানিয়েছি। তারপরেও বিষয়টি সুরাহা হয়নি। আলম ও আমার সংসারে মাত্র এক বছর আগে থেকে ঝামেলা শুরু হয় তার আগে আমরা সুখী ছিলাম। মেয়েটি আমাকে বলেছে আলমের পরিবারের সাপোর্ট রয়েছে। আমি জানি না এসব। মেয়েটি আমাদের সুখের সংসার তছনছ করে দিচ্ছে।

    জানা গেছে, মালয়েশিয়া প্রবাসী এক নারীর সাথে খোরশেদ আলমের যোগাযোগ হয়। শ্রাবন্তীর ভাষ্য তারপর থেকেই সংসারে অশান্তি তৈরি হয়। তবে খোরশেদ আলম সংবাদ মাধ্যমের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বদতাল, আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম। তখন ওই মেয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। তার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

    তালাকের নোটিশ গ্রহণ করতে পারেননি জানিয়ে শ্রাবন্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, তালাকের নোটিশ আমার বোড় বোনের নামের রেজিস্ট্রেশন করে পাঠানো হয়েছে বলে আমি জেনেছি। যেহেতু আমার বড় বোন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন আর আমিও তখন যুক্তরাষ্ট্রে তাই এটা আমরা কেউই গ্রহণ করতে পারিনি।

    শ্রাবন্তী বলেন, খোরশেদ আমাকে একদম না জানিয়ে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে। সে এমন সিদ্ধান্ত নেবে আমাকে একবারও বলবে না? আমার সাথে আলোচনা করবে না? আমাকে না জানিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে আমি থানায় মামলা করেছি। এটা বাধ্য হয়েই করেছি। আমার কোনো উপায় ছিল না। আপনাদের সকলের কাছে আমি শুধু বলতে চাই যে কোনো মূল্যে আমি সংসারের ভাঙন ঠেকাতে চাই। আপনারা মিডিয়ার মানুষেরা আমাকে সহায়তা করুন।

    শ্রাবন্তী বলেন, দেশে এসে বাচ্চারা বাবার সাথে কথা বলতে ব্যাকুল হয়ে উঠছে। আমি তাঁর (খোরশেদ আলম) মোবাইলে একের পর এক মেসেজ পাঠাচ্ছি, কোনো উত্তর নেই। আমি অনুরোধ করেই যাচ্ছি। শুধু একবার সে মেয়ের সাথে মেসেঞ্জারে কথা হয়েছে। এরপর থেকে আর কথা হয়নি।

    স্বামীর উদ্দেশ্যে শ্রাবন্তী বলেন, আমাদের ভুল বোঝাবুঝিগুলো আমরা ভুলে যেতে চাই। আমরা একই সাথে থাকতে চাই। আমাদের বাচ্চাদের আমরা দুজনে মিলে মানুষ করতে চাই। তারা যেন কষ্ট না পায়। একটা সংসার ভেঙে গেলে  সেই পরিবারের বাচ্চারা নানা সংকটে পড়ে। সমাজে নানা কটূ কথা শোনে, এডিক্টেড হয়ে যায়। আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই সংসার টিকিয়ে রাখতে হবে।

    উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন দুই সন্তানসহ শ্রাবন্তী বাংলাদেশে এসেছেন। এখন তিনি বগুড়ায় রয়েছেন।

    দেশবিদেশ/ ০১ জুলাই 2018/ নেছার

    Comments

    comments

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ