রবিবার ১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম
ভুল চিকিৎসা ও অসাবধানতায় মৃত্যু হতে পারে

সদর হাসপাতালে টিম গঠনঃ ১৪ জন রোগি শনাক্ত

দীপক শর্মা দীপু   |   সোমবার, ২৯ জুলাই ২০১৯

সদর হাসপাতালে টিম গঠনঃ ১৪ জন রোগি শনাক্ত

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে গত ৫ দিনে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগি শনাক্ত করা হয়েছে। এই ১৪ জন রোগিই কক্সবাজারের বাইরের থেকে তারা এই ডেঙ্গু জীবানু বহন করে নিয়ে আসেন। এখনো পর্যন্ত কক্সবাজারে বসবাসকারিদের মধ্যে কোন ডেঙ্গু রোগি পাওয়া যায়নি। শনাক্ত ১৪ জনের মধ্যে একজন মারা গেছেন, ১০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন আর ৩ জন ভর্তি রয়েছেন। এদিকে ভুল চিকিৎসা হলে এবং সতর্ক না থাকলে মৃত্যুর ঝুঁকির শংকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: মো: মহিউদ্দিন জানান, এখনো পর্যন্ত কক্সবাজারে বসবাস করে এমন কোন ডেঙ্গু রোগি পাওয়া যায়নি। যে ১৪ জন শনাক্ত হয়েছে তারা সবাই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জীবানু নিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন। আর যে তিন জন ভর্তি রয়েছে তাদের একজন নারায়নগঞ্জ থেকে অন্য দুইজন ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জীবানু বহন করে কক্সবাজারে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত ৫ দিনে শনাক্ত করা ১৪ জনের মধ্যে ১০ জনকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। একজন চট্টগ্রামে প্রেরণের সময় পথিমধ্যে মারা যান। তিনি আরো জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগিদের চিকিৎসায় বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতি ২৪ ঘন্টা এই টিম কাজ করবে।
জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা বেড়ে গেছে। আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে ঢাকায় বসবাস কারিরা। শুধু ঢাকা নয় বিভিন্ন জেলায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী প্রতি ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে ৫শ থেকে ৭শ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমন কি হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। মারা যায় আরো দুইজন ডাক্তার, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও মারা যা। এরপর থেকে সবাই ডেঙ্গু নিয়ে শংকিত। একইভাবে কক্সবাজারবাসী ডেঙ্গু নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠেছে। এখানে ডেঙ্গুর কি পরিস্থিতি সবাই জানার চেষ্টা করছেন।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা: আবদুল মতিন জানান, এখনো পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বসবাসকারিদের মধ্যে একজনও ডেঙ্গু রোগি পাওয়া যায়নি। দু‘য়েকজন পাওয়া গেছে, যারা কক্সবাজরের সন্তান কিন্তু ঢাকায় বসবাস করেন। ডেঙ্গু হওয়ার পর কক্সবাজারে চলে আসেন। কক্সবাজারে যাতে ডেঙ্গু ছড়াতে না পারে সেই জন্য প্রত্যেক ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলায় মাইকিং করে সচেতনতা মুলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। সিভিল সার্জন আরো জানান, ডেঙ্গু নিয়ে আতংক হওয়ার কিছু নেই। তবে সবাইকে সচেতন হবে, থাকতে হবে সতর্ক। দিনে হোক বা রাতে হোক সব সময় মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমাতে হবে।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগি নেই বললেই চলে। গুটি কয়েকজন রোগি পাওয়া গেছে , তাও আবার ঢাকা থেকে যারা কক্সবাজারে এসেছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ধরা পড়ছে ডেঙ্গু জীবানু। তবে সতর্ক না থাকলে কক্সবাজারেও এই ডেঙ্গু প্রভাব বিস্তার করতে পারে। । জ¦র হলে দ্রুত রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে। হাতুড়ি ডাক্তারের কাছে যাওয়া যাবেনা। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ঔষুধ দিলে রোগির ভয়াবহতা বেড়ে যাবে। এমন কি মল ত্যাগের সময় রক্ত যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে সবাইকে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নোবেল কুমার বড়ুয়া জানান, ডেঙ্গু রোগির কারনে সবার মাঝে ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। কারণ ডেঙ্গু রোগিকে কোন মশা কামড়ালে সেই মশা অন্যদের কামড়ালে তাদের অবশ্যই ডেঙ্গু রোগ হবে। সেই জন্য আক্রান্ত রোগিদের অবশ্যই মশারির ভেতর থাকতে হবে। যাতে তাদের কোন মশা কামড় দিতে না পারে। তাদের যে মশা কামড় দেবে সেই মশা তখন ডেঙ্গু জীবানুবাহী মশাই পরিণত হবে। শুধু ডেঙ্গু রোগি মশারির ভিতর থাকলে হবেনা, সব মানুষকে রাতে হোক বা দিনে হোক মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমাতে হবে। তিনি বলেন, টবে, বালতিসহ কোন পাত্রে পানি জমা রাখা যাবেনা। জমে থাকা পানিতে এসব মশার উৎপত্তি হয়। বাড়ির আশে পাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নালা নর্দমায় ময়লা আবর্জনার স্তুপ রাখা যাবেনা। কারো জ¦র হলে আতংকিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষুধ সেবন করা যাবেনা। বিশেষ করে ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম জাতীয় ব্যথার ঔষুধ খাওয়া যাবেনা। ভুল চিকিৎসায় এবং সতর্ক না থাকলে ডেঙ্গু রোগির মৃত্যু শংকা রয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার ২৭ জুলাই বেলা দু’টায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদে একইদিন বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী কক্সবাজারের মেয়ে উখিনো নুশাং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর পর ২৮ জুলাই ডেঙ্গু মনিটিরিং টিম গঠন করা হয়।

Comments

comments

Posted ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৯ জুলাই ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com