রবিবার ২৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম
চিকিৎসকদের গাফেলতি থেকেই গেছে

সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগির ভিড়

শহীদুল্লাহ্ কায়সার   |   বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

সদর হাসপাতালে  ডায়রিয়া রোগির ভিড়

গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে জেলাব্যাপী ডায়রিয়া রোগির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বয়স্কদের তুলনায় শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই তাঁদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে ডায়রিয়া।
কক্সবাজার সদর উপজেলার মধ্যে খুরুশকুল ইউনিয়নে ডায়রিয়া আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতেই প্রতিদিন অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন ডায়রিয়া রোগি চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিপুল সংখ্যক ডায়রিয়া রোগিকে সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্সরা।
অন্যদিকে ডাক্তারদের অবস্থা রয়ে গেছে আগের মতো। সকালে এসে হাজিরা দেয়ার পর হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। কয়েকজন ডাক্তার হাসপাতালের ভেতরে থাকলেও ওয়ার্ডগুলোতে গিয়ে রোগি দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। রোগির অবস্থা গুরুতর হলে নার্সদের অনুরোধে ওয়ার্ডগুলোতে আসেন মাত্র। এরপর হাসপাতালে নির্ধারিত ডাক্তারদের কক্ষে বসে সময় কাটালেও ওয়ার্ডগুলোতে গিয়ে স্বচক্ষে রোগিদের শারীরিক অবস্থা দেখার প্রয়োজন মনে করেন না তাঁরা।
এই তালিকায় খোদ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শাহীন আবদুর রহমানও রয়েছেন। পদবী আবাসিক চিকিৎসক হলেও দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি হাসপাতালের বাইরে কাটান। তিনি বাইরে থাকলে আরএমও’র জন্য সংরক্ষিত কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকে। গতকাল সন্ধ্যা ৬ টার সময়ও তাঁর কক্ষটি ছিলো তালাবদ্ধ।
হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ২০ শয্যার (বেড) ডায়রিয়া ওয়ার্ডটি রোগিতে পরিপূর্ণ। ওয়ার্ডে জায়গা না পাওয়ায় অনেকেই বাইরে অতিরিক্ত বেডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ময়লা-দুর্গন্ধময় ওয়ার্ডটিতে বাধ্য হয়েই চিকিৎসা নিচ্ছেন তাঁরা। গতকাল এই প্রতিবেদককে দেখে, কয়েকজন রোগি ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, আপনারা একটু লিখুন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা বলতে কিছুই নেই।
ওয়ার্ডটিতে কর্তব্যরত একজন নার্স জানিয়েছেন, ২০ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গতকাল বিকেল পর্যন্ত রোগির সংখ্যা ৪৪ জন। তাদের মধ্যে ২২ জনই শিশু। ১২ জন পুরুষ এবং ১১ জন মহিলা রোগি রয়েছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
খুরুশকুলের কাউয়ারপাড়া বাসিন্দা ওমর কাশেম জানান, গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাঁর ২৫ বার পাতলা পায়খানা হয়। শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় দুপুর ১ টার দিকে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাঁকে বিনামূল্যে ওরস্যালাইন এবং আইভি স্যালাইন (শিরায় প্রবেশ করানোর স্যালাইন) দেয়া হয়। অন্যান্য ওষুধ তিনি বাইরে থেকে কিনিয়ে এনেছেন।
ওমর কাশেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভর্তি হওয়ার পর থেকে ডাক্তারের দেখা পায়নি। আমার ফাইলে ফুড পয়জনিং (খাদ্যে বিষক্রিয়া) এর কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ফুড পয়জনিং হওয়ার মতো কোন ধরনের খাবার আমি খায়নি।

Comments

comments

Posted ১:১৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com