• শিরোনাম

    সদর হাসপাতালে রোগীর ঠাঁই বারান্দায়

    সাইফুল ইসলাম | ১৭ জুলাই ২০১৮ | ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

    সদর হাসপাতালে রোগীর ঠাঁই বারান্দায়

    গতকাল বেলা ১২ টার দিকে হাসপাতালের ৪র্থ তলা থেকে তোলা

    কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মেঝেতে জায়গা না পেয়ে রোগীর ঠাঁই মিললো বারান্দায়। বিশেষ করে হাসপাতালের ১ম ও ৪র্থ তলায় রোগীর শয্যা সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুন। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। এ দু’তলায় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুন রোগী ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে। একদিকে যেমন দ্বিগুণ রোগী, অন্যদিকে সেবার মান কমছে বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। নিয়ম অনুসারে পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলেও সে অনুযায়ী ডাক্তার নেই বলে জনান সংশ্লিষ্টরা। বেশির ভাগই নার্স ও ইন্টার্নী চিকিৎসক রোগী দেখেন বলে জানা গেছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডের বাহিরে বারন্দায় ও সিটের নিচে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় রোগি দেখতে আসা স্বজনের চলাচল করতে কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

    মনে হচ্ছে ওয়ার্ডের বাহিরে আরেকটি হাসপাতালে রয়েছে। ইদানিং ১ম ও ৪র্থ তলায় বরাদ্দের চাইতে দ্বিগুন রোগী সামাল দিতেও বেকাদায় রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল বেলা ১২ টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, পুরো হাসপাতালজুড়ে রোগীদের ভীড় মোটামুটি থাকলে ১ম ও ৪র্থ তলায় রোগির শয্যা সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুন বাড়তি। এমনকি ওয়ার্ডের বাহিরেও অনেক রোগী ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। বিশেষ করে ১ম ও ৪র্থ তলায় ওয়ার্ডের ভেতরে রোগী এত বেশি সেখানে জায়গার সংকুলন না হয়ে ওয়ার্ডের সামনে বারান্দায় ফ্লোরে বেট ও বেটসিট বিশিয়ে অনেকে রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতালের দৈনিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৪র্থ তলায় মহিলা ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত শয্যা সংখ্যা ৩০ জনের ভর্তি হয়েছে ৯১ জন অতিরিক্ত ৬১ জন ও ১ম তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে বরাদ্দকৃত শয্যা সংখ্যা ৩৫ জনের। রোগী ভর্তি হয়েছে ৮০ জন অতিরিক্ত ৪৫ জন এছাড়াও হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে সিটিরে বাহিরে রোগি দেখা গেছে।

    উখিয়া থেকে মা’কে নিয়ে আসা কামরুন নাহার বলেন, আমার মা’কে হাসপাতালে এনেছি প্রায় তিনদিন হয়েছে। ওয়ার্ডে ভেতরে জায়গা না থাকায় সামনে বারান্দার মধ্যে ফ্লোরে বেট বিশিয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছি। আবারো চিকিৎসা সেবাও পাচ্ছি না তেমন। বিশেষ করে ডাক্তার রোগী দেখতে কম আসে। নার্স ও ইন্টার্ন দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে দিতে চাই তারা। মন চাইলে এখানে রোগীদের দেখতে ডাক্তার আসেন না হয় আসেনা। তারা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করে থাকে। একই কথা বলেন, চকরিয়া থেকে রোগী নিয়ে আসা রোগীর বড় ভাই জাকারিয়া নামে এক ব্যক্তি। হাসপাতালের ৪র্থ তলার এক নার্সের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ১ম ও ৪র্থ তলায় রোগির একটু চাপ বেশি। বেশির ভাগই মেডিসিন রোগি।

    আমরা আমাদের সাধ্য মতো রোগিদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। রোগীর প্রতি কোন ধরণের অবহেলা করা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর.এম.ও) ডা. মো. শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের রোগীর সংখ্যা তিনগুন। ২৫০ শয্যা বেটে মধ্যে প্রায় ৭০০ এর অধিক রোগী রয়েছেন। অবহেলা নয়,যতো সম্ভব রোগীদের সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।

    দেশবিদেশ /১৭ জুলাই ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ