• শিরোনাম

    বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা দম্পত্তি নিহত, অস্ত্র উদ্ধার

    সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সহযোগী রোহিঙ্গা নারী !

    জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

    সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সহযোগী রোহিঙ্গা নারী !

    উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় রোহিঙ্গা আশ্রয় ক্যাম্প গুলোতে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দিনদিন বেপরোয়া হয়ে ওঠছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারির পরও ক্যাম্পে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অস্ত্রবাজি থামছেনা। বিশেষ করে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা, জাদিমুড়া, মৌচনী, নয়াপাড়া ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি আস্তানায় একাধিক স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রুপ তাদের সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এসব সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনার ক্ষেত্রে পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে এমন অভিযোগ সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে।
    পুলিশের তথ্য মতে, টেকনাফ ও উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত একমাসে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারে জড়িত ১০ জন রোহিঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে গত ২২ আগস্ট হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা মো. ওমর ফারুক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত রয়েছে ৬ জন। অন্যরাও আগে থেকে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।
    টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক যুবক নাম প্রকাশ ও বক্তব্য রেকর্ড না করার শর্তে জানান, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা দিনের বেলায় পাহাড়ি গোপন আস্তানায় পালিয়ে থাকে, সন্ধ্যা নামার আগেই তারা ক্যাম্পের ভিতরে ঢুকে পড়ে। ক্যাম্পের কিছু সাধারণ রোহিঙ্গাদের সাথে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে তাদের অস্ত্র, ইয়াবা ও লুটপাত করা মালামাল গুলো এসব সাধারণ রোহিঙ্গাদের ঝুঁপড়ি ঘরে জমা করে। ওইসব ঝুুঁপড়ি ঘরের নারীরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে সন্ত্রাসীদের জমা রাখা অস্ত্র, মাদক দেখাশুনা করেন। অনেক সময় রোহিঙ্গা নারীরা অস্ত্র বহন করে সন্ত্রাসীদের টার্গেটকৃত স্থানে পৌঁছে দেয়।
    ওই রোহিঙ্গা যুবক আরো জানান, ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার, ইয়াবা কারবার নিয়ন্ত্রন, খুন, ডাকাতি, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকা-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে একাধিক স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রুপ। যাদের বেশির ভাগই মিয়ানমারের রাখাইনে থাকতেও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা এখানে এসে নতুন করে রোহিঙ্গা যুবকদের দলে ভিড়িয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপ করে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকা-ের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। ক্যাম্পের ভেতরে বাইরে সাধারণ রোহিঙ্গারা এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেনা ভয়ে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা রোহিঙ্গা নারীদের আর্থিক সুবিধায় ব্যবহার করার পাশাপাশি, হুমকি ধমকি দিয়েও তাদের কার্য সম্পাদন করিয়ে নেয়।
    সরেজমিনে টেকনাফের শালবাগান ও নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে জানা গেছে, একাধিক রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র গ্রুপের সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পে অভিযান পরিচালনার পর সন্ত্রাসীরা কৌশল পাল্টাচ্ছে। তারা তাদের অপরাধ কা-ে কোন কোন সময় পুরুষ সদস্যদের ব্যবহারের চেয়ে রোহিঙ্গা নারীদের ভাড়ায় ব্যবহার করছেন। সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের ভেতরে অস্ত্র বহনে এবং জমা রাখতে রোহিঙ্গা নারীদের ব্যবহার করেছেন এমন অভিযোগও রয়েছে সেখানে। রোহিঙ্গা নারীরা অস্ত্র বহন করলে তা অনেকটা প্রশাসনের সন্দেহের বাইরে থেকে নিরাপদে জায়গা মতো পৌঁছে যায়, এমন কৌশল সন্ত্রাসীদের। এছাড়া ক্যাম্পে ইয়াবা কারবারে নারীদের ব্যবহার অনেকদিন আগে থেকে হয়ে আসছে।
    এদিকে গত শনিবার রাত ৯ টার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অস্ত্রসহ জাহেদা বেগম (২৭) নামে এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করে ক্যাম্পে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে তার স্বামী দ্বিল মোহাম্মদও আটক হন। এই রোহিঙ্গা দম্পত্তি লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি ব্লকের বাসিন্দা।
    টেকনাফ থানা পুলিশের ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক রোহিঙ্গা দম্পতি স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী ছিল। দ্বিল মোহাম্মদ একজন তালিকাভূক্ত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী, সে সন্ত্রাসী কর্মকা-ে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আনা নেয়ার কাজে নিজের স্ত্রীকে ব্যবহার করতেন। তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ক্যাম্পে আরো অস্ত্র ও ইয়াবা মজুদ রয়েছে বলে পুলিশকে তথ্য দেয়। পরে পুলিশ রবিবার ভোররাত দুইটার দিকে লেদা ক্যাম্পে তাদের দুইজনকে সহ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় তাদের অপরাপর সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলিয়ে চালিয়ে দুই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যাওয়া রোহিঙ্গা দম্পতি গুলিবিদ্ধ হন, তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
    তিনি আরো জানান, বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাস্থল থেকে দুইটি এলজি, একটি থ্রি কোয়ার্টার, ৮ রাউন্ড কার্তুজ ও ১২ রাউন্ড কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়।
    ক্যাম্পে অপরাধ কর্মকা-ে রোহিঙ্গা নারীদের ব্যবহার হওয়া প্রসঙ্গে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, কৌশলগত কারণে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ও মাদক বহনে নারীদের ব্যবহার করতে পারে। তবে ক্যাম্পে যেসব রোহিঙ্গা নারী সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে তাদের অপরাধ কর্মকা-ে সাপোর্ট করছে তাদের ব্যাপারেও আমরা খোঁজ নিচ্ছি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ