বৃহস্পতিবার ২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সমুদ্র ও পাহাড় বেষ্টিত অপরূপ সৌন্দর্য্য ঘেরা মেরিন ড্রাইভ সড়ক

শফিক আজাদ,উখিয়া   |   বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮

সমুদ্র ও পাহাড় বেষ্টিত অপরূপ সৌন্দর্য্য ঘেরা মেরিন ড্রাইভ সড়ক

সৌন্দর্য্যের আধার কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দৃশ্য

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ১২০কিলোমিটার বিশে^র দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা এ সড়ক বাতাসের তালে যৌবনের দোল খাওয়া ঢেউ। প্রকৃতির দান বিস্তীর্ণ সাগর-সৈকত আর বঙ্গোপসাগরের সীমাহীন জলরাশির পাশাপাশি আকাশ ছোঁয়া পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতে পর্যটকরা কক্সবাজার থেকে সোজা টেকনাফে পৌঁছে যাচ্ছেন। বিশ্বের সকল প্রান্ত হতে ছুটে আসছে ইতিহাস পাগল, ভ্রমণ ও সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকরা। তারা কক্সবাজারে বেড়াতে এসে পাথুরে গাথা উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকতে প্রকৃতির অসাধারণ উপহার দেখে মুগ্ধ হন। এখানে আন্তর্জাতিক মানের ফাইভ স্টার হোটেল টিউলিপ পর্যটকদের আকর্ষনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনার জনপদ কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ১৮ কিলোমিটার পাথুরে গাথা ইনানী সী বিচ দেশ-বিদেশে প্রকৃতির কন্যা হিসেবে সুপরিচিত।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণে ইনানী পর্যটন এলাকার অবস্থান। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে নির্জন মনোরম পরিবেশে সময় কাটানোর জন্যে পর্যটকরা ইনানীতে ছুটে আসেন। এখানে দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে ওয়ান মিনিট রেস্টুরেন্ট, হোটেল টিউলিপ, ৩০০ বছরের স্মৃতিবিজড়িত কানারাজার গুহা, বন বিভাগের অপরুপ রেস্ট হাউজ, ব্যক্তি মালিকানাধীন দেশের ৩৯ টি চিংড়ি হ্যাচারি, পাটুয়ার টেকের প্রাকৃতিক পাথরের স্তুপ, সুবিশাল নারকেল ও সুপারি বাগান। মনোমুগ্ধকর এত সুন্দর পরিবেশ দেখতে দেখতে সমুদ্র পাশ দিয়ে ঝাউবাগানের শো শো শব্দে বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত টেকনাফে ছুটে চলা।

পর্যটকদের এক অন্য রকম অনুভুতি।এ প্রতিনিধির সাথে কথা হয় বেশ ক জন পর্যটকের। পটিয়া চট্রগ্রাম থেকে আসা শাহ হোসাইন বলেন, আমি প্রথম দু বন্ধুকে নিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে সোজা টেকনাফ গিয়ে পৌঁছায়। পথ চলতে চলতে কক্সবাজার, ইনানী ও টেকনাফ সমুদ্র সৈকত দেখেছি একমাত্র রাস্তা মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে। এ সড়ক দিয়ে টেকনাফ যাওয়ার পথে সড়কের ডান পাশে বিশাল সমুদ্র সৈকত। সৈকতের মাঝে সারি সারি ঝাউবাগান। বামপাশে সুবিশাল নারকেল ওসুপারির বাগান এবং আকাশ ছোঁয়া পাহাড়ের দৃশ্য দেখে অত্যন্ত পুলকিত হয়েছি।

সেখানে টেকনাফ জেটি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার জল সীমান্তের নাফ নদী এবং টেকনাফ থানার কম্পাউন্ডে পুলিশের ভালবাসার স্মৃতির নিদর্শন মাথিনের কূপ দেখে আমাদের অনেক অনুপ্রানিত করেছে। ঢাকা থেকে স্ব-পরিবারে আসা সোহেলের স্ত্রী জেনি বলেন, কক্সবাজরে আমরা প্রতি বছর বেড়াতে আসি। এবার কক্সবাজারে-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে গড়ে উঠতে দেখেছি আনুষঙ্গিক চিত্তবিনোদনের অনেক আয়োজন। যা আগে দেখিনি। সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় পুরো কক্সবাজারের চিত্র পাল্টে গেছে। পরিকল্পিত উখিয়া চাই এর আহবায়ক সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, আমাদের কক্সবাজারে আল্লাহর দেয়া যে সম্পদ রয়েছে, উপযুক্ত পরিকল্পনা ও বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে তা কাজে লাগিয়ে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এখানে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

একই সাথে সরকারের সদিচ্ছার কারণে এখানকার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে। টেকনাফের আব্দুল্লাহ মনির বলেন, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের উপরে যে সৌন্দর্য্য রয়েছে তার বহুগুণ বেশি মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য পড়ে রয়েছে সাগরে তলদেশে।একটু শ্রম আর সাহস নিয়ে এগিয়ে গেলে স্রষ্টার সৃষ্টি লীলা স্ব- নয়নে উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা।

দেশবিদেশ /১৯ জুলাই ২০১৮/নেছার

Comments

comments

Posted ১০:৩২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com