• শিরোনাম

    সাগরে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রস্নান ঃ নিয়ম মানতে চায়না পর্যটকরা

    দীপক শর্মা দীপু | ১২ অক্টোবর ২০১৯ | ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

    সাগরে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রস্নান ঃ নিয়ম মানতে চায়না পর্যটকরা

    কক্সবাজারের বঙ্গোগসাগরে পর্যটকরা ঝুঁকি নিয়ে গোসল করে। কোন নিয়ম না মেনে সমদ্র¯œান করে পর্যটকরা। এমন কি পর্যটকরা রাতে গা ভিজাতে সমুদ্রের পানিতে নেমে পড়ে।
    কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণি পয়েন্টে একটি নির্দিষ্ট জোনে গোসল করার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত জোনে গোসল না করে অধিকাংশ পর্যটক জোনের বাইরে গোসল করে। এতে করে লাইফগার্ড এর পর্যবেক্ষনের আওতার বাইরে চলে যাওয়া পর্যটকরা ঝুঁকিতে থাকলে তাদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় সাগরে থলিয়ে গেলেও পর্যবেক্ষনে টাওয়ারে তাদের দেখা যায়না। অন্যদিকে জোয়ার ভাটার সময় না মেনে গোসল করে। সন্ধ্যার পর অনেকে সমুদ্রে নামে। রাতেও সমুদ্রের পানিতে গা ভিজাতে আনন্দ পায় পর্যটকরা। রাতের আঁধারে গোসল করতে নামায় সলিল সমাধি হওয়ার আশংকা রয়েছে।কথাগুলো বললেন লাইফ গার্ড সী সেইভ এর প্রকল্প কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি জানান, ২০১৪ সাল থেকে কক্সবাজারে সী সেইভ প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার সময় ২৯০ জন মানুষকে উদ্ধার করে তাদের প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

    রবি লাইফ গার্ডের দলনেতা সৈয়দ নুর জানান, গত ৩ বছর আগে প্রতিবছর গড়ে ১০ জন মানুষ সাগরে ভেসে গিয়ে মারা যেত। এখন সেটা অনেক কমে এসেছে। গত ৩ বছর থেকে গড়ে ৩ থেকে ৫ জনের মৃত্যু হলেও মুমূর্ষ অবস্থায় সাগর থেকে উদ্ধার করা মানুষের সংখ্যা বেশি। তিনি জানান, পর্যটকরা খুশিতে আবেগের বসতি হয়ে গোসল করতে নামে সমুদ্রে। গোসল করতে নামার আগে কোন নিয়ম মানতে চাইনা। জোয়ার ভাটা না মেনে গোসল করতে নেমে গভীর সমুদ্রে চলে যায় পর্যটকরা। ফলে পর্যটকদের জন্য সমুদ্র ¯œান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে।

    কক্সবাজার ট্যুরিষ্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো: জিল্লুর রহমান জানান, কক্সবাজারে বেড়াতে এসে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে পর্যটকের প্রাণ যায়। আনন্দ তখন বিষাদে পরিণত হয়। যা কারো কাম্য নয়। পর্যটকদের অসচেতনতা, নিয়ম না মেনে গোসল করার কারনে অনেকটা তারা নিজেদের বিপদ নিজেরা ডেকে নিয়ে আসেন। নিরাপদ গোসলের জন্য ট্যুরিষ্ট পুলিশ নিয়মিত মাইকে ঘোষনা দিয়ে থাকেন, ট্যুরিষ্ট পুলিশের টহল থাকে এবং হ্যান্ড মাইকেও সচেতনতা করা হয়। এর পরও পর্যটকরা নির্ধারিত জায়গায় গোসল না করে অন্যত্র গোসল করে। এতে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও লাইফ গার্ডের নিয়ন্ত্রনের বাইরে গিয়ে গোসল করায় তাদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। চলতি বছর ২০১৯ সালের এই সময়ের মধ্যে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে ৫ জনে মৃত্যু হয়। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অর্ধশতাধিক।

    পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান আরো জানান, জোয়ার ভাটার জন্য পতাকা দিয়ে সংকেত দেয়া হয়।সমুদ্র ¯œানের জন্য নির্ধারিত জোন পতাকা দিয়ে সীমানা দেয়া হয়। এসব কিছু উপেক্ষা করে পর্যটকরা সমুদ্রে গোসল করতে গিয়ে বিপদে পড়ে। তাই তিনি সমুদ্রে গোসল করার আগে নিয়ম জেনে এবং মেনে গোসল করার জন্য পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ