• শিরোনাম

    ‘সাপলুডু’র সাপ কতটা বিষাক্ত

    দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক | ২৫ অক্টোবর ২০১৯ | ৭:৫১ অপরাহ্ণ

    ‘সাপলুডু’র সাপ কতটা বিষাক্ত

    সিনেমা দেখবো, এই ভাবনা আসার সাথে সাথে স্বভাবতই কতগুলো প্রশ্ন আসে। কি সিনেমা, কীসের কথা বলবে, কেনো দেখবো? এটা কি প্রয়োজনীয় সিনেমা নাকি অপ্রয়োজনীয়, সিনেমা দেখার পর নতুন কোন চিন্তায় আমাকে আলোড়িত করবে কি না?

    ইদানিং সিনেমায় কিছু থাকুক না থাকুক, পেশাদার প্রমোশনালিরা এমন ভাবে সিনেমার প্রমোশন করেন, যাতে দর্শক দেখে, দেখার পর দর্শকদের মাঝে মাঝে ভালো লাগে, কখনো কখনো উপকৃত হয়, আর বেশিরভাগ সময় হয় প্রতারিত। সাপলুডু: ভালোলাগা, উপকৃত হওয়া, না প্রতারিত হওয়া! কোনটি?

    সাপলুডু থ্রিলারধর্মী সিনেমা। থ্রিল আছে, ভরপুর থ্রিল আছে। বুঝলাম থ্রিল আছে, আর কি আছে? আর কী দরকার? নারকেলের কাছেতো নারকেলই চাইবো, ডাবের কাছে ডাব। এমনতো নয় যে, নারকেলের কাছে নারকেল এবং ডাব দুটোই চাইবো। যদিও একই জিনিস, সময়ের প্রবাহে ডাব থেকে নারকেল হয়। আবার অকালের পতিত ডাব, না হয় ডাব না হবে নারকেল।
    নিমার্ণের দিকে বলা যায়, কম টাকায় সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম। আর এই মুভিতে পরিচালক যে আছেন, তা বোঝা যায় প্রতি দৃশ্যে দৃশ্যে। অনেক দৃশ্যেই পরিচালক গোলাম সোহরাব দোদুলের চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। বিশেষ করে প্রতিটি চরিত্রের আবির্ভাবের ভিন্নতাই পরিচালকে আলাদা করে খুঁজতে হয় না। সিনেমা নির্মাণে চিন্তার পাশাপাশি যত্নের ছাপ আছে, আছে বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল।

    প্রতিটি চরিত্রের অভিনয় সুন্দর আর রাজু রাজের চরিত্রায়ণ খুবই চমৎকার। যে যার স্থানে ভালো করেছে বিশেষ সালাউদ্দিন লাভলু, জাহিদ হাসান, তারেক আনাম, সুষমা সরকার, আরেফিন শুভ, বিদ্যা সিনহা মীম, কেউ কেউ অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যে খুব প্রভাব রেখেছে, তারমধ্যে রুনা খান, শতাব্দি ওয়াদুদ, শাহেদ সুজন বেশি ভালো করেছে।

    নির্মাণের দিক থেকে বিবেচনা করলে বোঝা যায়, কিছু কিছু দৃশ্যে ছাড় দিতে হয়েছে পরিচালককে। যেখানে বড় আয়োজন দেখানোর কথা ছিল, সেখানে ছোট ছোট শটে দৃশ্য শেষ করতে হয়েছে। বিশেষ করে জাহিদ হাসানের সমাবেশ, শুভর রাতের বন অতিক্রম, মাটির তলে শতাব্দির ঘর, সংখালঘুদের বাড়িঘর পোড়ানো, চোলাচাল। এসব দৃশ্য সংক্ষেপ করার মূল কারণ হতে পারে, অর্থ, সময়। সিনেমা যেহেতু একবারের জন্য নয়, তাই এসব দৃশ্য যথাযথভাবে দেখালে নিঃসন্দেহে সিনেমার মান বাড়তো। আবার কিছু দৃশ্যে প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ আয়োজন ছিল, বিশেষ করে হাসপাতালে বোম্বব্লাস্ট ছোট্ট করে দেখালেও ঠিকঠাক মতো আমাদের মন ছুঁতে পেরেছিল।

    শাহজাহান সৌরভ এবং গোলাম সোহরাব দোদুলের গল্পের জায়গায় প্রায়ই ঠিক ঠাক থাকলেও, গল্পের একটি বড়ত্রুটি মনে হয়েছে, তা হলো- থ্রিলারধর্মী গল্পে কখনো কোন চরিত্র দিয়ে দর্শকদের গল্প বুঝিয়ে দিতে নেই। বিরতির পর বনের ধারে সাপলুডুতে যখন মেজর আর ডিবি অফিসার শুভকে পক্ষান্তরে দর্শকদের পুরো গল্প বুঝিয়ে দিচ্ছিল, তখন গল্পের দুর্বলতা প্রকট আকারে প্রকাশ পেলে। কোন সিনেমাতেই দর্শকদের গল্প বুঝিয়ে দিতে নেই, সিনেমা দেখে দর্শকদের গল্প বুঝে নিতে হয়, বুঝে নেওয়ার সুযোগ দিতে হয়। গল্প যদি দর্শকরা বুঝে নিতো, তাহলে এই সিনেমার আলোচনা আরও বেশি হতে পারতো। হাতির ছবি এঁকে নিচে যদি লেখা হয় এটি হাতি, তাহলে বুঝতে হবে, হয় হাতি আঁকা হয়নি, অথবা হাতি লেখার প্রয়োজন ছিল না।

    আবার এই সিনেমার বড় শক্তি কিন্তু গল্পই। শুরু থেকে এই গল্পই আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত, এখানেই পরিচালক এবং লেখকের বড় সক্ষমতা। তবে সাধারণ দর্শকের কথা মাথায় রাখতে গিয়ে সিনেমাটাকে আরো উন্নত হবার সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে। পরিচালককে মাথায় রাখতে হবে, সিনেমা বার বার দেখার বিষয়, বছরের পর বছর দেখার বিষয়, বিশ পঞ্চাশ বছর পরও আলোচনা করার বিষয়, সেই সম্ভাবনা পরিচালক রাখেনি। নগদ দেখবেন, নগদ আনন্দ পাবেন-এই ধারণাকে সামনে রেখেই এগিয়েছেন। বিশেষভাবে বলা যায়, ছবিটি হলে দর্শক টানতে পেরেছে। দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিনও দেখেছি, হল ভর্তি দর্শক, যা সিনেমা বাণিজ্যের জন্য সুখবর।

    সাপলুডুর কারিগরি দিক ভালো হয়েছে। সাউন্ড, কালার, গান, চিত্রায়ণ, বাকগ্রাউন্ড সাউন্ড। এই সিনেমার আরেকটি ভালোদিক হলো, কোন অপ্রয়োজনীয় সংলাপ নেই, অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য নেই, কোন ভাঁড়ামো নেই। মেদহীন সিনেমা দর্শকদের জন্য খুবই উপভোগ্য। একটি দৃশ্যের কথা আলাদা করে বলা যায়, শুভ আর মিমের কবুতরের সাথে রোমান্টিক বিষয়টা ছিল অভিনব এবং উপভোগ্য। দর্শকদের দারুণভাবে স্পর্শ করেছে। সংলাপগুলো ছিল খুই শ্রুতিমধুর, আর চরিত্রায়ণ ছিল খুব দৃষ্টিনন্দন।
    একজন পরিচালককে জানার প্রথম উপায় হলো, তার সিনেমার বিষয়বস্তু। যেখানে পরিচালক তার মেধার প্রকাশ আর চিন্তার সক্ষমতা প্রকাশ করেন। এই সিনেমাটি হলো রাজনৈতিক পেক্ষাপটে। রাজনীতির অপরদিকটা দেখানো হয়েছে। যেখানে ক্ষমতার লোভ, দ্বন্দ্ব, হিংসা। অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা, যার বলি হতে হয় অনেক নিরীহ জনগণের। সাপলুডু নামের স্বার্থকতা এখানেই। লুডুর উল্টাপিঠে যেমন সাপলুডু, তেমন রাজনীতির উল্টা পিঠে এই সব অন্ধকার হিংস্রতা এবং বিষেভরা। এক একটি ব্যক্তি যেনো বিষেভরা সাপ, যার কাজ সাধারণ মানুষদের দংশন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।

    লেখক: নাট্যপরিচালক।
    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    কালো রং ও মেয়ের গল্প

    ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

    চোখের ইশারায় চলে ক্যাফে!

    ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ