• শিরোনাম

    কক্সবাজারের রেল লাইন প্রকল্পের ক্ষতিপূরণ

    সার্ভেয়ার হাবিব বদলি হয়েই জালিয়াতি করেছেন কোটি টাকার

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ০৩ মে ২০১৯ | ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

    সার্ভেয়ার হাবিব বদলি হয়েই জালিয়াতি করেছেন কোটি টাকার

    কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভুমি অধিগ্রহণ শাখার (এলএও) এক মহা দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার ষ্ট্যান্ড রিলিজড (তাৎক্ষনিক বদলি) হয়ে বদলি স্থানে রওয়ানা দেয়ার আগের দিনই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকার অধিগ্রহণের চেক দিয়ে চম্পট দিয়েছেন। দুর্নীতিবজি ওই সার্ভেয়ার জেলা প্রশাসন ও এলএ অফিসের কর্মকর্তাদের নিকট মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভ’য়া আপত্তিকারি সাঁজিয়ে আপত্তি প্রত্যাহার দেখিয়েই করেছে জালিয়াতির এমন আজব ঘটনাটি। এ বিষয়ে সার্ভেয়ার হাবিবুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার কথা অকপটে স্বীকার করে জানান-‘ভাই আপত্তিকারিরা তাদের আপত্তি তুলে নিয়েছে তাই আমি চেক দিয়েছি।’
    মহা দূর্ণীতিবাজ এই সার্ভেয়ারের নাম হাবিবুর রহমান। তিনি ইতিমধ্যে প্রমোশন পেয়ে হয়েছেন কানুননগো। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এলএও শাখায় যোগ দেয়ার পর থেকেই হাবিবুর রহমান জড়িয়ে পড়েন একের পর এক মহা দুর্নীতির ঘটনায়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় সম পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়ে খোদ ভুমি মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় অভিযোগ তদন্ত পূর্বক সার্ভেয়ার হাবিবুর রহমানকে বদলি করে নেত্রকোনা জেলায়। একই সাথে কক্সবাজার জেলা রাজস্ব অফিসের সার্ভেয়ার হিসাবে একটানা ২১ বছর ধরে কর্মরত সোহেল মিয়াজীকেও বদলী করা হয় মাদারপিুর জেলায়।
    এই দুই করিৎকর্মা সার্ভেয়ার খোদ মন্ত্রণালয়ের বদলি ঠেকিয়ে কাড়ি কাড়ি টাকার কর্মস্থল হিসাবে পরিচিত কক্সবাজারে আরো কিছুদিন থাকতেও মরিয়া হয়ে উঠে। সর্বশেষ সার্ভেয়ার হাবিবুর রহমান কক্সবাজারের এলএ অফিসে চাকুরিকালীন সময়ে রেলের অধিগ্রহণ প্রকল্পের চকরিয়ার খুটাখালী মৌজার কাজে জড়িত ছিলেন। এল এ কেস নম্বর-০২/২০১৬-১৭ ইং এর রোয়েদাদ নম্বর-৪৯, ৫০, ৫১, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৯ ও ৭০ এর আওতাধীন অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের মোটা অংকের টাকার চেক নিয়েই হাবিবুর রহমান ঘটিয়েছেন মহা দুর্নীতি।
    অভিযোগ উঠেছে, উপরিল্লিখিত রোয়েদাদের জমির ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে খুটাখালী গ্রামের বাসিন্দা হাজেরা খাতুন, ভুশিদা বেগম, খুরশিদা বেগম ও রাবেয়া খাতুন চার বোন সহ তাদের ভাইপো ও ভাইঝি যথাক্রমে হেলাল উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, মেরিনা আকতার ও সহর বানু মিলে ক্ষতিপূরণের টাকা তাদের প্রতিপক্ষদের না দেয়ার এক লিখিত আবেদন করেন এলএ অফিসে। এই আপত্তি জমা দেয়ার পর ভুমি মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক বদলির নির্দ্দেশ এসে যায়। এর পর পরই সার্ভেয়ার হাবিবুর রহমান তড়িঘড়ি করে আপত্তির কোন শুনানি না নিয়ে হাজেরা খাতুন, ভুশিদা বেগম, খুরশিদা বেগম ও রাবেয়া খাতুন নামের চার বোন সহ অন্যান্য আপত্তিকারিদের ভ’য়া পরিচয়ে নাম স্বাক্ষর জাল করে ক্ষতিপূরণের জন্য আপত্তি তুলে নেয়ার এক ভ’য়া আবেদন ফাইলে জমা করেন।
    এর পর প্রায় কোটি টাকা প্রতিপক্ষ আনম রফিকুর রশিদ, আবদুর রহমান ও রমজান আলীর বরাবরে মোটা অংকের কমিশনে চেক দিয়ে দেন। হাবিবুর রহমান সার্ভেয়ার গত ২৫ এপ্রিল ষ্ট্যান্ড রিলিজড হবার আগের দিনই চেকটি গোপনে প্রদান করেন। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে চেক দেয়ার বিষয়টি জানাজানির পর গতকাল চার বোন হাজেরা খাতুন, ভুশিদা বেগম, খুরশিদা বেগম ও রাবেয়া খাতুন সহ অন্যান্যরা স্বশরীরে এসে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক)র কাছে তাদের প্রাপ্য পাওনা আনম রফিকুর রহমানের নিকট থেকে ফেরৎ এনে তাদের কাছে প্রদানের আবেদন জানান। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্তের জন্য ভুমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাকে নির্দ্দেশ প্রদান করেছেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ