শুক্রবার ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিসের বিরুদ্ধে

সিকিউরিটি গার্ডের কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,মহেশখালী   |   বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সিকিউরিটি গার্ডের কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ

মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের অধীনে চাকুরীরত মাতারবাড়ী ৭৫ জন ব্যক্তির বেতন থেকে প্রতি মাসে অন্তত পক্ষে ১০ লাখ টাকা কর্তন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে গত ১ বছরে ঐ হার্ডসন কোম্পানী তাদের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এমন অভিযোগ করেন হার্ডসন সিবিউরিটি সার্ভিসে কর্মরত গার্ডরা। আরো বলেন তারা ন্যায্য বেতন আদায়ের জন্য প্রতিবাদ করায় হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড-এর ম্যানেজার মোাহাম্মদ তাহের, সুপারভাইজার মোহাম্মদ হাছান বাবুর্চি নয়ন, ব্যারাক পরিচালক মোহাম্মদ কাজল গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকালে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে স্থানীয় সিকিউরিটি গার্ডদের ব্যাপক অশ্লিল গালাগালসহ চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেন।
মাতারবাড়ীর ঐ ৭৫ জন সিকিউরিটি গার্ডের সদস্যরা এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কোল পাওয়ারের এমডি, মহেশখালীর থানার ওসি ও সুমিতমো কর্পোরেশন কোম্পানির এমডি সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ১১ আগস্ট পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মাতারবাড়ীর মগডেইল গ্রামের বাসিন্দা বদর উদ্দীনের ছেলে গার্ড আবদুল গফুর সুমিতমো কর্পোরেশন কোম্পানীর এমডিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ফারজানার অধীনে মাতারবাড়ীর ৭৫ জন ব্যক্তি সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকুরী নেন। চাকুরীতে যোগদান করার কয়েক মাসের পর বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কোম্পানীর সিকিউরিটি গার্ডদের মত সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা দেন। কিন্তু তাদের প্রত্যেকের বেতন প্রতিমাসে ২৬ হাজার ২ শত ৩৫ টাকা হলেও তাদেরকে চাকুরী শুরু থেকে অদ্যাবধি ১২ হাজার টাকা করে প্রদান করে আসছে। অথচ জাপানী সুমিতমো কোম্পানীর ফরমে লেখা রয়েছে প্রতি জনের বেতন ২৬ হাজার ২ শত ৩৫ টাকা। এভাবে ৭৫ জন সিকিউরিটি গার্ড থেকে গত ১ বছরে হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের কর্তারা তাদের বেতন থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা কর্তন করে নিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের বাবুর্চি নয়ন, ব্যারেক পরিচালক কাজল, ম্যানেজার তাহের ও সুপার ভাইজার মোহাম্মদ হাসান গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকালে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি সহ চাকুরিচ্যুতের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ফারজানা ও বাবুর্চি নয়ন কয়েকজন মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে দাপটের সাথে তাদেরকে হুমকি দিয়ে বলেন সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করতে। অন্যথায় মামলা দিয়ে জেলে পাঠাবে। এতে অসহায় হয়ে সুষ্ঠ বিচার চেয়ে সিকিউরিটির গার্ডদের পক্ষে আবদুল গফুর বাদী হয়ে কোল পাওয়ারের এমডি সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভূক্তভোগী সিকিউরিটি গার্ডদের অভিযোগ, কোল পাওয়ারের সিকিউরিটি অফিসার আলফাজ হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের কর্তাদের সাথে যোগসাজস থাকায় বিভিন্ন কোম্পানীতে কর্মরত সিকিউরিটি গার্ডরা তাদের ন্যায্য বেতন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিকিউরিটি অফিসার আলফাজ এর ০১৮৪০৮২২০৭৫ নং মোবাইলে ফোন করে জানতে চাইলে ফোনটি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে পুরো মাতারবাড়ীতে চলছে হার্ডসন সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের কর্তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড়।

মাতারবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গার্ডদের বেতন কেটে নেওয়ার বিষয়ে কোলপাওয়ার কতৃপক্ষ, হার্ডসন কোম্পানিকে বলার পরও কোন সমাধান হচ্ছে না। তিনি বিষয়টি ইউএনও অবহিত করেছে বলেও জানান।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ কুমার জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জামিরুল ইসলাম বলনে, স্থানীয় চেয়ারম্যান থেকে মৌখিক ভাবে শুনেছি, খোজঁ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments

Posted ১১:২৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com