• শিরোনাম

    সীমান্তে মিয়ানমারে ‘সেনা চৌকি’ বিজিবির টহল জোরদার

    নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

    সীমান্তে মিয়ানমারে ‘সেনা চৌকি’ বিজিবির টহল জোরদার

    কক্সবাজারের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের ওপারে হঠাৎ ভারী অস্ত্র ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে মিয়ানমার। সীমান্তের বাইশফাড়ি এলাকায়সহ আশপাশে নতুন করে সবুজ রঙের তাঁবু টাঙ্গিয়ে অহস্থায়ী চৌকি স্থাপন করেছেন সেনারা। মিয়ানমারের এ ধরনের উস্কানিমূলক আচরণে শূন্যরেখায় অবস্থানরত হাজারো রোহিঙ্গা ও সীমান্তের এপারের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
    সোমবার সীমান্তে নজর রাখেন এমন একাধিক সরকারি কর্মকর্তা সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা বলছে, এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হয়েছে। এদিকে গত রোববার সীমান্তে মিয়ানমারের সেনাদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গেছে; এমন পরিস্থিতিতে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ ওয়েকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল।
    জানতে চাইলে কক্সবাজার-৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা আমাদের টহলসহ কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। আর সীমান্তে সকলকে সর্তক অবস্থানে রেখেছি। এ ব্যাপারে কোন রকম নতুন অনুপ্রবেশসহ কোন ঘটনা ঘটলে, কঠোরভাবে প্রতিহত করা হব। ওদের এলাকায় ওরা সমাবেশে সন্দেহজনক গতিবিধি সেনাদের উপস্থিতি ছিল, সেটি জেনেছি।’
    সীমান্তের লোকজন জানায়, মিয়ানমার সেনাবাহিনী সীমান্তের চৌকি স্থাপনসহ তাদের তৎপর দেখা গেছে। বিশেষ করে কয়েকদিন ধরে সীমান্তের তুমব্রু থেকে লেবুছড়ি পর্যন্ত এলাকায় এপার থেকে প্রতিদিন মিয়ানমার সেনাসদস্যদের নানা তৎপরতার দৃশ্য চোখে পড়ছে। আমাদের সন্দেহ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বিজিপি (বর্ডার গার্ড পুলিশ) এর পোশাক পরে সেখানে অবস্থান করছে। তারাঁ সেখানে ৭-৮টি তাবু টাঙ্গিয়ে নতুন অহস্থায়ী চৌকি স্থাপন করছে। যা আগে ছিল না। এর আগেও বেশ কয়েকবার সীমান্তে সেনা টহল বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছিল।
    শুন্য রেখা রোহিঙ্গা শিবিরের এক নেতা বলেন, ‘দুই দিন ধরে তুমব্রু সীমান্তে গাড়ি চলাচলের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। তাঁরা কি পুলিশ নাকি সেনাবাহিনী সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই নিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরের লোকজন ভয়ে আছে।
    সুত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেনাসদস্য বৃদ্ধি করেছে। তারা সেখানে ভারী অস্ত্রশস্ত্র মজুদ করেছে। সীমান্তের এপার থেকেও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এ তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আরাকান আর্মি, রাখাইনের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) দমন এবং মিয়ানমারে আগামী ৮ অক্টোবর নির্বাচনসহ রাখাইনে মিয়ানমার সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত আরাকান বিদ্রোহী বাহিনীর হেফাজতে থাকা দুই সেনা রোহিঙ্গা গণহত্যার স্বীকারোক্তি দেওয়ায় সেনাদের এই তৎপরতা বলে জানা গেছে। তবে এসব তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাচাই করার করা সম্ভব হয়নি।
    সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমেদ বলেন, ‘দ্বীপের বরাবারের মত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সর্তক অবস্থানে রয়েছে। মিয়ানমার জলসীমানায় বড় বড় জাহাজ দেখা যাচ্ছে।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সীমান্তে নজরদারি সরকারি এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মিয়ানমারে আগামী অক্টোবর মাসে নির্বাচান অনুষ্টিত হওয়ার কথা রয়েছে। হয়তো নির্বাচন ঘিরে যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না ঘটে সেজন্য তাদের এই তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। তবে আমরা সীমান্তে কঠোর নজরদারি রাখছি।
    টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়সল হাসান খান বলেন, ‘মিয়ানমারে অভ্যন্তরে সমাবেশে সন্দেহজনক গতিবিধি সেনাদের উপস্থিতির কথা জেনেছি। তবে সীমান্তে সেনা টহল বৃদ্ধির বিষয়টি সত্য না। সীমান্তে আমরা সর্তক অবস্থানে রয়েছি।
    প্রসঙ্গত, চেকপোস্টে হামলার দাবি তুলে ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে গণহত্যা শুরু হয়। ওই সময়ও একইভাবে সীমান্ত এলাকায় সেনা সদস্যদের জড়ো করেছিল মিয়ানমার। ওই গণহত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা সেখানে নিহত হয় এবং প্রাণ বাঁচাতে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এছাড়াও আগে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে মোট সাড়ে ১০ লাখ উদ্বাস্তু এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তবে এদের নানা ধরনের অপকর্মে বাংলাদেশ সরকারও এখন অস্বস্তিতে রয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ