রবিবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সীমান্তে স্থলমাইন, স্থানীয়দের মাঝে আতংক

শফিক আজাদ,উখিয়া     |   শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সীমান্তে স্থলমাইন, স্থানীয়দের মাঝে আতংক

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে স্থলমাইন পুঁঁতেছে মিয়ানমার। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে জিরো লাইন এবং কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে স্থলমাইন বসায় রাখছে মিয়ানমারের সেনারা। তুমব্রু সীমান্তের কয়েকজন স্থানীয় নাগরিক জানান, মিয়ানমারের বিজিপি ও সেনারা প্রতি নিয়ত কাঁটাতারের পাশ দিয়ে টহল দিতে দেখা যায়, মাটিতে গর্ত করে কিছু একটা রাখছে এমন দৃশ্যও দেখা যায়। কিন্তু জিনিসটি কি সেটি বোঝা যায় না। তবে ধারণা করা হচ্ছে স্থলমাইন পুতে রাখছে। সীমান্তের তুমব্রু তুয়াইংগাঝিরি এলাকা থেকে ৩ সেপ্টেম্বর শাহজাহান (৩২) নামের এক রোহিঙ্গা যুবকের ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্পের জি ব্লকের বাসিন্দা রুস্তম আলীর ছেলে। এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে আতংক।

কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকার খলিল মাঝি জানান, কুতুপালং লম্বাশিয়া ও মধুরছড়া ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অধিকাংশের বাড়ী সীমান্তের কাছাকাছি। তাই মাঝে মধ্যে তারা নোম্যান্স ল্যান্ড অতিক্রম করে মিয়ানমারে যান। বিষয়টি বুঝতে পেরে সীমান্তে মাইন পুঁতেছে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপির সদস্যরা। যাতে রোহিঙ্গা মিয়ানমারের অভ্যান্তরে যেতে না পারে।
তুমব্রু সীমান্তের স্থানীয় নুর মোহাম্মদ জানান, মিয়ানমার সেনা ও বিজিপির সদস্যরা প্রতি নিয়ত কাঁটাতারের পাশ দিয়ে টহল দিয়ে থাকে। এসময় তারা মাটিতে কি যেন গর্ত করে পুঁেত রাখতেও দেখা গেছে। কিন্তু এগুলো কি জানিনা। এ নিয়ে সীমান্তে বসবাসকারী লোকজন মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, সীমান্তে মিয়ানমার সেনাদের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গত ৬দিন পূর্বে তুমব্রু সীমান্ত এলাকা থেকে মাইন বিস্ফোরণে নিহত এক রোহিঙ্গা যুবকের মৃত দেহ উদ্ধার করেছে ঘুমধুম ফাঁড়ির পুলিশ। এর আগেও নোম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে মাইন বিস্ফোরণে অনেকে হতাহত হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তের ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশফাঁড়ি, রেজু, আমতলী সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়রা এনিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমন চৌধুরী বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় লোকজনের সংবাদের ভিত্তিতে তুমব্রু তুয়াইংগাঝিরি নামক নোম্যান্স ল্যান্ড থেকে এক রোহিঙ্গা যুবকের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীর থেকে দুই পা বিচ্ছিন্ন ও চোখ উপড়ে গিয়েছিল। নোম্যান্স ল্যান্ডে বাংলাদেশ অভ্যান্তরে অংশেই এ যুবকের মরদেহ পড়েছিল। তবে সীমান্তে মিয়ানমার বাহিনীর পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানায়, বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারের সাথে বৈঠক কথা রয়েছে। তাই বৈঠকের পরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে।

Comments

comments

Posted ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com